আর্টসচিত্রকলা

উল্টোরথ │ মুহাইমিনুল নিলয়

▌ মুহাইমিনুল নীলয়
Latest posts by ▌ মুহাইমিনুল নীলয় (see all)

উল্টোরথ

আমি একটা ক্ষুদ্র, মিশমিশে কালো মাকড়সা হয়ে যেই গুহায় জাল বুনেছিলাম, সেই গুহায়, সেই অন্ধকার স্যাঁতসেঁতে গুহায় আমার অস্তিত্ব পুরোপুরি উপেক্ষা করে আস্তানা গেড়েছিল একদল দোপেয়ে। ওরা নিজেদের ডেকেছিল 'মানুষ'। আমি ওদের দেখেছিলাম। আমি আমার আট চোখে গোটা দশেক মানুষ দেখেছিলাম আর জেনেছিলাম ওদের অস্তিত্ব ভীষণ সংকটে। আমি জেনেছিলাম ওদের মুকুটের গল্প, সিংহাসনের গল্প, ক্ষেপনাস্ত্রের গল্প। আমি জেনেছিলাম ওরা ছাড় দেয়নি একটা দুগ্ধপোষ্য ব্যাঘ্র শাবক থেকে বয়োবৃদ্ধ বৃক্ষের কাউকেই।

ওদের প্রথম চারজন যখন হরিণের ছোড়া তীরে মারা পরলো, ওরা আমার গুহার দেয়ালে কয়লা ঘষে আঁকলো চারটে অবয়ব, দুটো ধনুকধারী হরিণ, পায়ের চিহ্ন আর ক্রুশ। এরপর একে একে ঘোড়া, মহিষ আর বাইসনের বল্লমে উবে গেল প্রাণ আর আমার ঐ অন্ধকার স্যাঁতসেঁতে গুহাকে মনে হলো একটা জীবন্ত গ্যালারি। টোটেমের জায়গা দখল করলো ডেভিড স্টার, ক্রিসেন্ট মুন আর অশোক চক্র। ওদের শেষ দোপেয়েটাকে যখন হাতির পাল ছিড়েখুঁড়ে খেল, আমি আমার ক্ষুদ্র কালো মিশমিশে শরীর নিয়ে ওদের সবকটা গুহাচিত্রে হেঁটে বেড়াই। আর এঁকে দেই শেষ মৃত্যু, শেষ টোটেম, ওঁম।

আমি সাইরাসকে দেখিনি, চন্দ্রগুপ্তকে দেখিনি৷ আমি আমার আট চোখে দেখেছিলাম গোটা দশেক দোপেয়ে। আমি জেনেছিলাম ওরা মানুষ। আমি জেনেছিলাম ওরা ছাড় দেয়নি দুগ্ধপোষ্য ব্যাঘ্র শাবক থেকে বয়োবৃদ্ধ বৃক্ষের কাউকেই। অতঃপর প্রকৃতির এই উল্টোরথে কোন টোটেম ওদের বাঁচায়নি।

মন্তব্য করুন