▌ সৈয়দ তৌফিক উল্লাহ
সৈয়দ তৌফিক উ

সারবত্তা:

অপ্রতিরোধ্য ধর্ষণ সংস্কৃতি বাংলাদেশের সর্বব্যাপ্ত অপরাধ হয়ে হতাশা আর ভীতি ছাড়া গণধর্ষণ, বৈবাহিক ধর্ষণ, অজাচারী ধর্ষণ, শিশু যৌন নির্যাতন, জেল ধর্ষণ, পরিচিতি ধর্ষণ, যুদ্ধ ধর্ষণ এবং আইনী ধর্ষণ,দলবেঁধে ধর্ষণ, বিচারহীনতা, দেশে শিশু পর্নোগ্রাফির থাবা,আদালতে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে আপোষ প্রবণতা, ডিএনএ টেস্ট নিয়ে জটিলতা, নারীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন ও হেনস্তা, আর ধর্ষকদের রাজনীতি-পরিচয়কে অপরাধের অস্ত্র ও শাস্তি ঠেকানোর ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ দেওয়া ছাড়া অন্য কোনো অনুভব বা আশাবাদের সম্ভাবনা নেই ।

বাংলাদেশে ধর্ষণ সংস্কৃতির সামাজিক নিরীক্ষণচিত্র গবেষণায় উঠে আসা কিছু ভয়াবহ তথ্য:

মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী:

  • ২০২০ সালে গড়ে প্রতি মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১১১ জন নারী।
  • জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৮৮৯ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।
  • ধর্ষণজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে ৪১ জনের।
  • ২০১৭ সালে ৮১৮ জন,
  • ২০১৮ সালে ৭৩২ জন এবং
  • ২০১৯ সালে ১ হাজার ৪১৩ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।
  • ২০১৯ সালে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছিল ৭৬ জনকে।
  • আত্মহত্যায় বাধ্য হয়েছিলেন ১০ জন নারী।
  • এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত দুই হাজার ৮৩ জন নারী ও শিশু হিংসার শিকার হয়েছে।
  • এর মধ্যে গণধর্ষণের শিকার হয়েছে ১১৩ জন।
  • ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ২৬ জনকে। এ ছাড়া ধর্ষণের চেষ্টা করা হয়েছে ১২৩ জনকে।

নারী ও শিশুদের উত্ত্যক্তকরণ ও যৌন হয়রানি, ধর্ষণ, গণধর্ষণ, ধর্ষণের পর হত্যার ঘটনা বেড়েই চলছে।

এসব সত্যকে অস্বীকার করার উপায় নেই,  বেশির ভাগ মন্তব্যকারীরই মতামত ধর্ষণ ও গণধর্ষণের মতো অপরাধে ছাত্রদেরও জড়িয়ে পড়ায়, আশার শেষ আলোটিও নিভে যায় ।

তারপর  কোথায় ছাত্রসমাজ ধর্ষণের বিরুদ্ধে দাঁড়াবে, উল্টো তারাই কিনা ধর্ষণে জড়িত! আমারা সেই আদিকালে ফিরে যাচ্ছি, যেখানে পশুর মত আচরণ করা হত!

জঘন্যতম ও খুবই বিব্রতকর ঘটনা মর্গে মৃত নারীদের ধর্ষণ:

সম্প্রতি ১৯ নভেম্বর ২০২০ তারিখে লাশকাটা ঘরে ময়নাতদন্ত এর জন্য আসা নারীদেরকেও ধর্ষণ করা হচ্ছে।যমুনা টেলিভিশনের সংবাদ হতে পাওয়া সেই সংবাদটুকু নিন্মে দেওয়া হলো:

লাশ পাহারার দায়িত্ব নিয়ে মৃত নারীদের সঙ্গে যৌনাচার করতো মুন্না | Rapist Dom

লাশকাটা ঘরে নারীর মরদেহের সাথে বিকৃত আচরণ। দেড় বছর ধরে আত্মহত্যা করা কম বয়সী নারীদের সাথে এমন আচরণ করে আসছিলো মুন্না নামে এক ডোম সহকারী।

সে কাজ করতো রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের মর্গে।সিআইডির জিজ্ঞাসাবাদে, অন্তত ৫ জন নারীর ওপর এমন বিকৃত যৌনাচারের কথা স্বীকার করেছে সে।

মর্গের একজন ডোম দিনের পর দিন মৃত তরুণীর লাশের সঙ্গে এমন বিকৃত কাজ করেছে।অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতার পরই ওই যুবককে আটক করেছে সিআইডি।

গণমাধ্যমের সূত্রে জানা গেছে, এখন পর্যন্ত অন্তত সাত তরুণীর মৃতদেহে ওই ডোমের শুক্রাণু পাওয়া গেছে এবং লাশকাটা ঘরে মৃত তরুণীদের ধর্ষণ করাই ছিলো তার কাজ ।

দুই-তিন বছর ধরে মুন্না মর্গে থাকা মৃত নারীদের ধর্ষণ করে আসছিল। এ অভিযোগের সত্যতা পেয়ে বৃহস্পতিবার (১৯ নভেম্বর) তাকে আটক করে সিআইডি। ধর্ষণ করেছেন ১০০ জনের উপর নারীকে ।

সিআইডির অর্গানাইজড ক্রাইম বিভাগের প্রধান অতিরিক্ত ডিআইজি শেখ মো. রেজাউল হায়দার বলেন, জঘন্যতম ও খুবই বিব্রতকর অভিযোগ। 

তিনি আরও বলেন, বিভিন্ন স্থান থেকে যেসব লাশ ময়নাতদন্তের জন্য মর্গে নেওয়া হতো, সেসব লাশের মধ্য থেকে মৃত নারীদের ধর্ষণ করতো মুন্না।

বাংলাদেশে ধর্ষণ সংস্কৃতির সামাজিক নিরীক্ষণকালে বিভিন্ন সময়ে পাওয়া কিছু পরিসংখ্যাণ, তথ্যচিত্র ও বত্তব্য সমূহ:

১৪ টি জাতীয় দৈনিক পত্রিকায় প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী বছরওয়ারি :

বিভিন্ন কারণে এই সময়ে ২৭৬ জন নারী ও মেয়ে শিশুকে হত্যা করা হয়েছে ও

হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে ১০ জনকে।

শ্লীলতাহানির শিকার হয়েছেন ৫৪ জন নারী ও শিশু।

যৌন নির্যাতনের শিকার হয়েছে ৭০ জন। আর এ সময়ে মারধরের শিকার হয়েছেন ১৪৭ জন।

তারা বলেন, সিলেটের এমসি কলেজ হোস্টেলে ধর্ষণ, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারীকে নির্যাতনের সঙ্গে যারা জড়িত তারা রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী৷

এই দুইটি ঘটনা নিয়ে মানুষ কথা বলায় আসামিদের আটক করা হয়েছে৷ কিন্তু এরকম আরো বহু ঘটনা আছে যেগুলো পুলিশ পর্যন্ত যায় না৷ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘‘আরো অনেক অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান আছে৷ তাই বলে কি সেই সব অপরাধ কমেছে? 

অপরাধ করে যদি পার পাওয়া যায়, তাহলে কোনো কঠোর শাস্তিই কাজে আসে না৷ সরকারকে আসলে সব অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে৷

মন্ত্রী-এমপি বা দল-লীগের প্রভাবে যদি অপরাধী রেহাই পায়, তাহলে কঠোর আইন শুধু আইন হয়েই থাকবে৷’’

পুরুষদের দ্বারা মহিলাদের ধর্ষণ ঘটনাটি রেকর্ড করা ইতিহাস এবং সংস্কৃতি জুড়ে ঘটেছিল।

বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞান একটি শক্তিশালী হিউরিস্টিক হাতিয়ার যা গবেষকদের ধর্ষণ হিসাবে জটিল আচরণ সম্পর্কে উপন্যাস অনুমানের বিকাশ ও পরীক্ষা করতে দেয়।

কিছু গবেষক যুক্তি দিয়েছিলেন যে পুরুষরা মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়াগুলি বিকশিত করেছেন যা নির্দিষ্ট প্রসঙ্গে তাদের ধর্ষণ করতে উদ্বুদ্ধ করে।

এই দাবির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রমাণগুলি নিয়ে আলোচনা করি এবং যুক্তি দিয়ে দেখি যে পুরুষদের ধর্ষণের আচরণ সম্পর্কে আরও সংক্ষিপ্ত দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজনীয়।

বাংলাদেশে ধর্ষণ সংস্কৃতির সামাজিক নিরীক্ষণচিত্র বদলে ফেলতে :

ধর্ষণকারীদের বিভিন্ন ধরণের একটির সাথে সম্পর্কিত হিসাবে চিহ্নিত করা কার্যকর হতে পারে, স্বতন্ত্র পার্থক্যের দ্বারা এবং যে পরিস্থিতিতে তারা ধর্ষণ করার পূর্বাভাস দেয় তাদের দ্বারা চিহ্নিত করা যায়।

মরা প্রতিটি ধর্ষক ধরণের সমর্থনের পাশাপাশি গবেষণার প্রমাণ এবং বাংলাদেশে ধর্ষণ সংস্কৃতির সামাজিক নিরীক্ষণচিত্র ভবিষ্যতের গবেষণার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে পর্যালোচনা করছি।

পরিশেষে, মহিলাদের ধর্ষণ-এড়ানোর মনোবিজ্ঞান এবং আচরণ সম্পর্কিত গবেষণা নিয়ে অনুসন্ধান করি।

যদিও এই অনুমানের সাথে কিছু প্রমাণ সামঞ্জস্যপূর্ণ, তবুও আমাদের আরও ধরণের গবেষণা করা উচিত যে ধর্ষণের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে অভিযোজনগুলি উপসংহারে পৌঁছানোর আগেই আমরা সিদ্ধান্ত নিতে পারি।

ধর্ষণকারীদের আরও সংক্ষিপ্ত দৃষ্টিভঙ্গি দেখা দরকার, যেখানে ধর্ষকরা বিভিন্ন ধরণের ধরণের ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচিত হতে পারে যা তাদের ধর্ষণ করার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল। গবেষকরা এমনটিও অনুমান করেছেন যে মহিলারা এমন প্রক্রিয়া বিকশিত করেছেন যা ধর্ষণ থেকে বাঁচতে অনুপ্রেরণা দেয়।

কিছু প্রমাণ এই অনুমানকে সমর্থন করে। গবেষকরা কন-ক্লিউশন তৈরির আগে নারীদের বিবর্তিত ধর্ষণ-পরিহারের প্রক্রিয়াগুলি তদন্ত করতেও বাধ্যতামূলক ছিলেন। ভবিষ্যতের গবেষণায় মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়াগুলি অনুসন্ধান করা অব্যাহত রাখা উচিত যা পুরুষদের ধর্ষণের আচরণ এবং নারীর ধর্ষণ-এড়ানোর আচরণকে উদ্বুদ্ধ করে।

এটি আমাদের প্রত্যাশা যে এর প্রতিরোধে ধর্ষণবিদ্যার সহায়তার কারণগুলি সম্পর্কে গভীরতর বোঝা।আইনে তাই শুধু ধর্ষণের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড৷ধর্ষণের অপরাধে যাবজ্জীবনের বিধান কয়েকদিন আগেও ছিল৷ তাহলে শাস্তি হচ্ছে না কেন?

এই প্রশ্নের সমাধান করতে হবে৷ ধর্ষণ মামলার যে প্রচলিত তদন্ত এবং বিচার পদ্ধতি, তাতে অপরাধ প্রমাণ করা কঠিন৷ তাই সঠিক তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় আধুনিক এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি চালু করতে হবে৷

অপরাধ প্রমাণ না করতে পারলে কঠোর আইন তো প্রয়োগ করা যাবে না৷ এখন মৃত্যুদণ্ডের বিধান হলে বিচারকরা তো আরো সতর্ক হবেন৷ কারণ, এটা জীবনের প্রশ্ন হয়ে উঠবে৷

যারা মৃত্যুদণ্ডের বিধানের জন্য আন্দোলন করছেন, তাদের কেউ কেউ আবার এই মৃত্যুদণ্ডের বিধান নিয়ে শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন৷ তারা মনে করেন, বিষয়টি শুধু আইনের মধ্যে রাখলে হবে না৷ মৃত্যুদণ্ড তারা চান, কিন্তু এর সঙ্গে শিক্ষা, সামাজিক ব্যবস্থা, দৃষ্টিভঙ্গি ও সংস্কৃতির পরিবর্তন চান৷ পরিবর্তন চান দণ্ডবিধি ও সাক্ষ্য আইনে৷

১৯৭১ থেকে ২০২০ইতিহাসের সত্যটার চেয়েও ভয়ংকর সত্য হলো বর্তমানে বাংলাদেশে মহামারীর মতো ধর্ষণের ঘটনাগুলো ঘটাচ্ছে এই বাংলাদেশীরাই!

গত ৪৯ বছর ধরে আমরা শিখেছি, শুনেছি, জেনে আসছি যে মহান মুক্তিযুদ্ধে ২ লক্ষ থেকে ৪ লক্ষ নারীর ইজ্জতের বিনিময়ে আমরা আমাদের স্বাধীনতা পেয়েছি। আমরা কি ভুল জেনে আসছি, যা শিখেছি তা ভুল শিখেছি।

তাই আজও বীরাঙ্গনারা প্রতি সেকেন্ডের কাটা ধরে জন্মায় মহামারির হারে, এটা শধু আমাদের দেশে শুধু নয় সারাবিশ্বব্যাপীর সমসাময়িক চিত্র, অথচ ১৯৭১ সালে মুক্তিযুদ্ধের ৯ মাসে বাংলাদেশে ৪ লাখের মতো নারী পাকিস্তানি সৈন্যদের দ্বারা ধর্ষিত হয়েছেন।

অস্ত্রেশস্ত্রে বলীয়ান থাকায় পাকবাহিনীর পক্ষে তাদের অধিকৃত অঞ্চলে যখন-তখন যে কোনো ঘরবাড়িতে ঢুকে তাদের অধিকৃত অঞ্চলে ধর্ষণ চালানো খুবই সহজ ছিল।

বাংলাদেশে ধর্ষণ সংস্কৃতির সামাজিক নিরীক্ষণচিত্র ত্রর ইতিহাস ঘেটে দেখলে  দেখবেন পাকবাহিনীরা বাংলাদেশের  ধর্ষণের ঘটনাগুলো চুড়ান্ত বিকৃতির পর্যায়ে নিয়ে গিয়েছিল যে, ৮ বছরের শিশু থেকে ৭৫ বছরের বৃদ্ধাকে পর্যন্ত বর্বর পন্থায় নিপীড়ন করা হয়েছে।

এমন উদাহরণও আছে যে, কোনো কোনো মেয়েকে উন্মত্ত পাকিস্তানি সৈন্যরা এক রাতে দলগতভাবে ৮০ বার পর্যন্ত পালাক্রমে ধর্ষণ করেছে। সেই হিসেব করলে ধর্ষণের সংখ্যাটা অনেকগুন বেশি হবে।

Rape-by-Law-enforcement-agencies-2001-2019-Statistics_Rape_RLEA_2001-2019-
Rape by Law enforcement agencies ( 2001-2019), Statistics_Rape_RLEA_2001-2019, অধিকার,মনিবাধিকার সংস্থা৷

সংশোধিত নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সংশোধীত ২০০২) বিগত ১৩/১০/২০২০ তারিখে মহামান্য রাষ্ট্রপতির স্বাক্ষরের মাধ্যমে আইনটি চুড়ান্তকৃত হয়।

গণ-মানুষের দাবীতে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে সংসদ অধিবেশন চলমান না থাকায় মণ্ত্রিপরিষদ কর্তৃক নতুন কিছু আইন প্রতিস্থাপন করেছেন।

আইনটিতে ২০২০ (২০২০ সনের ০৪ নং অধ্যাদেশ) এর ৩(ক) ধারাবলে প্রতিস্থাপিত অংশগুলো নিন্মে দেয়া হল:-

বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, অক্টোবর ১৩, ২০২০,  সংশোধিত নারী ও শিশু আইন ২০২০

  • বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, অক্টোবর ১৩, ২০২০ নারী ওশিশু আইন
  • বাংলাদেশ গেজেট, অতিরিক্ত, অক্টোবর ১৩, ২০২০ নারী ওশিশু আইন

এই অধ্যাদেশ নারী ও শিশু নির্যাতন দমন (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২০ নামে পরিচিত হবে।২০০০ সালের আইনের ৯ নম্বর ধারার ১ উপধারায় শাস্তির বিষয়ে বলা হয়েছিল-

যদি কোনো পুরুষ কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহা হইলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।সংশোধিত অধ্যাদেশে ‘যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে’ শব্দগুলির পরিবর্তে ‘মুত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে’ শব্দগুলি প্রতিস্থাপতি হয়েছে।

২০০০ সালের আইনের ৯ নম্বর ধারার ৪ (ক) উপধারায় বলা হয়েছিল, যদি কোনো ব্যক্তি কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করিয়া মৃত্যু ঘটানোর বা আহত করার চেষ্টা করেন, তাহা হইলে উক্ত ব্যক্তি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হইবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হইবেন।সংশোধিত অধ্যাদেশে এখানেও ‘যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে’ শব্দগুলির পরিবর্তে ‘মুত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে’ শব্দগুলি প্রতিস্থাপতি হয়েছে।

২০০০ সালের আইনের ৩২ ধারায় বলা ছিল এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধের শিকার ব্যক্তির সর্বাধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করিয়া মেডিকেল পরীক্ষা সরকারি হাসপাতালে কিংবা সরকার কর্তৃক এতদুদ্দেশ্যে স্বীকৃত কোন বেসরকারি হাসপাতালে সম্পন্ন করা যাইবে ।

সংশোধিত অধ্যাদেশে অপরাধের শিকার ব্যক্তির পাশাপাশি ‘অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তির’ মেডিকেল পরীক্ষা করার বিষয়টি যুক্ত করা হয়েছে।এছাড়া ৩২ ধারার সঙ্গে ৩২ ক শিরোনামে নতুন একটি ধারা যুক্ত করা হয়েছে অধ্যাদেশে।

সেখানে বলা হয়েছে,এই আইনের অধীন সংঘটিত অপরাধে অভিযুক্ত ব্যক্তি এবং অপরাধের শিকার ব্যক্তির ধারা ৩২ এর অধীন মেডিকেল পরীক্ষা ছাড়াও, উক্ত ব্যক্তির সম্মতি থাকুক বা না থাকুক, ২০১৪ সালের ডিঅক্সিরাইবোনিউক্লিক এসিড (ডিএনএ) আইনের  বিধান অনুযায়ী তার ডিএনএ পরীক্ষা করিতে হইবে।

মাননীয় আইনমন্ত্রী বলেন, বিশ্বে মৃত্যুদন্ডের ব্যাপারে অনেক বিতর্ক আছে। 

তারপরও বর্তমান পরিস্থিতির কারণে এই সাজা বাড়ানো উচিত বলে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মনে করেন। সেই প্রেক্ষিতে মৃত্যুদন্ডের ব্যাপারে সংশোধনী আনা হয়েছে।

এর পাশাপাশি পুরাতন ধর্ষণ মামলাগুলি আগে এবং নতুন মামলাগুলি যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।সরকার আইনে বিশ্বাস করে উল্লেখ করে আইনমন্ত্রী বলেন, আইনি প্রক্রিয়ায় যতটুকু সময় লাগে সেই সময়ের মধ্যে ধর্ষণ মামলাগুলি সম্পন্ন করার ব্যবস্থা ও চেষ্টা সরকার করবে।

সরকার বলছে কঠোর আইন আছে, আরো বলছে, ধর্ষকদের কাউকেই ছাড় দেয়া হচ্ছে না। তারপরও পরিস্থিতি এত খারাপের দিকে যাচ্ছে কেন? পুলিশ সদস্যরাও এই অপরাধের সাথে জড়িয়ে পড়ছে।

আমারা নিরাপত্তাহীনি কামুক গণতন্ত্র এর শিকার হয়ে পড়ছি।নতুন আইনে বৈবাহিক রেপ ও এর শাস্তি বিষয়ে কোন ধারা সুপষ্টভাবে সংযুক্ত হয়নি।

জাতিসংঘ নারী সংস্থার পরামর্শের ১৬টি পদ্ধতির উল্লেখের আগে সামাজিক মাধ্যমের প্রতিক্রিয়ার দিকে খানিকটা আলো ফেলা দরকার। এই সময়ে জনপ্রতিক্রিয়া বুঝতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বড় সহায়ক। পত্রিকাগুলোও খবরের নিচে এখন পাঠক মতামত ছাপে।

সেগুলোতেও নজর রাখা প্রয়োজন। এমসি কলেজের ছাত্রাবাসের গণধর্ষণ এবং খাগড়াছড়িতে ডাকাতি ও ধর্ষণের ঘটনার পর হাজারখানেক মন্তব্য দেখেছি।

রেপের পরিসংখ্যাণ-2
Violence-Against-Women-Rape-January-October-2019

তার মধ্যে দু-একটি বাদে প্রতিটি মন্তব্যেই ধর্ষকদের প্রতি তীব্র ঘৃণা প্রকাশ পেয়েছে। কয়েক দিন আগেও যাঁরা সিনহা হত্যাকাণ্ডের পর ক্রসফায়ার নির্মূল হোক চেয়েছিলেন, তাঁরা ধর্ষকদের ক্রসফায়ারে মৃত্যু চাইছেন।

অজস্র মতামতদানকারী আইনত অন্যায্য দাবিও করছেন। যেমন রাস্তায়, প্রকাশ্যে, জনসমক্ষে ফাঁসি কার্যকর করা হোক। মূল বক্তব্য, ধর্ষকদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দেওয়া হোক।

জাতিসংঘ নারী সংস্থা বা ইউএন উইমেন ২০১৯ সালের নভেম্বরে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনের শিরোনাম, ‘ধর্ষণচর্চার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ১৬টি উপায়’। প্রতিবেদনটির শুরুতে কয়েকটি হাইপোথিসিস বা অনুসিদ্ধান্ত আছে।

সেগুলোতে নতুনত্ব বা গভীরতা তেমন নেই অবশ্য। মানুষের সহজাত ভাবনার পুরোনো গৎ, পুরোনো বয়ানকে দায়ী করা হয়েছে তাতে।

যেমন জনমানস এ রকম: ‘ছেলেরা তো ছেলেই’ (ব্যাটাগিরি, মর্দামি দেখাবেই)। ‘ধর্ষিতা নেশাগ্রস্ত ছিল’ (পশ্চিমা সমাজের ছুঁতো)।

নারীর ‘না’ বলা আসলে হ্যাঁ বলা’ (অর্থাৎ যুগল সম্পর্কের যৌনতার বেলায় পুরুষ নারীর অনুমতির প্রয়োজন আছে বলে মনে করে না)।

বোঝা সহজ, প্রতিবেদনটি সারা দুনিয়ার বাস্তবতার একেকটি দিকে আলো ফেলতে চেয়েছে।

প্রথমত, ‘পুরুষতন্ত্র’ আসলেই সমস্যা।

দ্বিতীয় অনুসিদ্ধান্তের সারকথা, পুরুষ নারীকেই দোষারোপ করে।

রক্ষণশীল দেশগুলোতে যেমন ‘পোশাক ঠিক ছিল না’ ছুঁতো বড় করে দেখা হয়—অনেকটা সেই রকম।

তৃতীয়টির অর্থ হলো, বৈধ-আইনসিদ্ধ সম্পর্কেও (যেমন বিবাহ, প্রেম) নারী ধর্ষণের শিকার হয়। এই ধারায় বাংলাদেশেও চলতে শুরু করেছে।

রেপের পরিসংখ্যাণ-1
Violence-Against-Women-Rape-January-September-2020_October 6, 2020 – Rape, Statistics on Human Rights Violations, Victims of Rape, Violence Against Women

জাতিসংঘ নারী সংস্থা বা ইউএন উইমেন ২০১৯ সালের নভেম্বরে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে:

প্রতিবেদনের শিরোনাম, ‘ধর্ষণচর্চার বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর ১৬টি উপায়’। প্রতিবেদনটির শুরুতে কয়েকটি হাইপোথিসিস বা অনুসিদ্ধান্ত আছে।

সেগুলোতে নতুনত্ব বা গভীরতা তেমন নেই অবশ্য। মানুষের সহজাত ভাবনার পুরোনো গৎ, পুরোনো বয়ানকে দায়ী করা হয়েছে তাতে। যেমন জনমানস এ রকম: ‘ছেলেরা তো ছেলেই’ (ব্যাটাগিরি, মর্দামি দেখাবেই)। ‘ধর্ষিতা নেশাগ্রস্ত ছিল’ (পশ্চিমা সমাজের ছুঁতো)।

নারীর ‘না’ বলা আসলে হ্যাঁ বলা’ (অর্থাৎ যুগল সম্পর্কের যৌনতার বেলায় পুরুষ নারীর অনুমতির প্রয়োজন আছে বলে মনে করে না)।

বোঝা সহজ, প্রতিবেদনটি সারা দুনিয়ার বাস্তবতার একেকটি দিকে আলো ফেলতে চেয়েছে। প্রথমত, ‘পুরুষতন্ত্র’ আসলেই সমস্যা। দ্বিতীয় অনুসিদ্ধান্তের সারকথা, পুরুষ নারীকেই দোষারোপ করে।

রক্ষণশীল দেশগুলোতে যেমন ‘পোশাক ঠিক ছিল না’ ছুঁতো বড় করে দেখা হয়—অনেকটা সেই রকম। তৃতীয়টির অর্থ হলো, বৈধ-আইনসিদ্ধ সম্পর্কেও (যেমন বিবাহ, প্রেম) নারী ধর্ষণের শিকার হয়।

আমরা সেই বীরাঙ্গনাদের, ভাই, পিতা অথবা স্বামী। তবুও সমসাময়িক ধর্ষণের ঘটনাগুলো ২ লক্ষ থেকে ৪ লক্ষের মতো নারী পাকিস্তানি সৈন্যদের দ্বারা ধর্ষিত মা-বোন দের কে স্মরণ করিয়ে দেয়।

যৌনতা হচ্ছে জীবের আদিম প্রবৃত্তি, যা টিকে থাকা এবং বংশবৃদ্ধির জন্য প্রকৃতিরই সৃষ্ট নকশা। তাই মানুষের মস্তিষ্ক যৌন ইঙ্গিত বা যৌনতা প্রকাশ করে এমন ছবি বা ভিডিওর ক্ষেত্রে খুব সহজেই সাড়া দেয়।

যেমন পর্নোগ্রাফি, পর্নোগ্রাফির স্বল্প ব্যবহার যৌন আকাঙ্ক্ষা বৃদ্ধি এবং সঙ্গী ভিত্তিক সম্পর্কের উন্নয়ন ঘটালেও দীর্ঘদিন ধরে অতিরিক্ত মাত্রায় এর ব্যবহার বা এর প্রতি আসক্তি মানুষের মস্তিষ্ক এবং যৌন জীবনের জন্য মারাত্মক ক্ষতির কারন হয়ে দাড়িয়েছে ।

“ধর্ষণের জন্য ক্ষেত্রে ন্যায়বিচার ও শাস্তির বিধান নিশ্চিত করতে হবে।ধর্ষণ সংস্কৃতি এখন অপ্রতিরোধ্য।যেন বাড়িতে ষাঁড় পাঠিয়ে রেপ করানো এখন অতি মহিমান্বীত শাসকের রাজনীতি ।”

ইতিহাসের ষোল আনা সত্যি যে, আমাদের স্বাধীনতা যুদ্ধে পাকিস্তানী বর্বর বাহিনী এবং আমাদের এদেশীয় দালালরা বাঙালী নারীদের ধর্ষণ করেছিল। মুক্তিযুদ্ধের সংরক্ষিত দলিল ও বিদেশী বিভিন্ন পত্রপত্রিকায় প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী ২ লক্ষ থেকে ৪ লক্ষ নারী যুদ্ধের ৯ মাসে নির্যাতিত হয়েছিলো যাদের বয়স হবে ১৩ থেকে ৫৫”- সুজান ব্রাউনমিলার ‘এগেইনস্ট আওয়ার উইল :মেন-উইমেন অ্যান্ড রেপ’ গ্রন্থে দাবি করেছেন,সুজান ব্রাউনমিলার হিসাবে ধর্ষণ সম্পর্কে আমরা যেভাবে ভাবছি তার মধ্যে বিপ্লব ঘটিয়েছেন।যা এখন বেস্টসেলিং নারীবাদী লেখক#MeToo এর যুগে প্রয়োজনীয় পাঠ্য।

র্ষক, ধরা যাক, হ্যাবিচুয়াল রেইপিস্ট বা স্বভাবগত যৌন অপরাধী, তারা দুষ্কর্মের সঙ্গে সঙ্গেই ধরা পড়বে। এমনকি আক্রান্ত নারীরাই তাদের কাবু করে ফেলতে পারবে।

সেটা তখনই সম্ভব হবে, যদি তাদের আস্থা জন্মায় যে দেশের মানুষ রাজনীতিকে ব্যবহারকারী গুন্ডাদের আর ভয় পাচ্ছে না।

রাজনীতিকে ঢাল বানানো ধর্ষকদের যেকোনো রকম দায়মুক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর কোনো বিকল্প নেই।-(হেলাল মহিউদ্দীন: অধ্যাপক, সেন্টার ফর পিস স্টাডিজ এবং রাজনীতিবিজ্ঞান ও সমাজবিজ্ঞান, নর্থ সাউথ ইউনিভার্সিটি)

অপ্রতিরোধ্য ধর্ষণ সংস্কৃতি, প্রতিকার,প্রতিরোধ, প্রচলিত আইন ও আমাদের বাংলাদেশ│ সৈয়দ তৌফিক উল্লাহ
অপ্রতিরোধ্য ধর্ষণ সংস্কৃতি, প্রতিকার,প্রতিরোধ, প্রচলিত আইন ও আমাদের বাংলাদেশ│ সৈয়দ তৌফিক উল্লাহ

ধর্ষণের সংজ্ঞা এবং এর আইনের বিবর্তন:

ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের শিকার ব্যক্তিরা বিভিন্ন লিঙ্গ, বয়স, যৌন অভিমুখী, জাতিগোষ্ঠী, ভৌগলিক অবস্থান, সংস্কৃতি এবং প্রতিবন্ধকতা বা অক্ষমতার ডিগ্রি থেকে আসে। ধর্ষণের ঘটনাগুলি বেশ কয়েকটি বিভাগে শ্রেণিবদ্ধ করা হয় ।

তারা অপরাধীর সাথে নির্যাতনের সম্পর্ক এবং যৌন নির্যাতনের প্রসঙ্গে বর্ণনা করতে পারে। এর মধ্যে খেজুর ধর্ষণ, গণধর্ষণ, বৈবাহিক ধর্ষণ, অজাচারী ধর্ষণ, শিশু যৌন নির্যাতন, জেল ধর্ষণ, পরিচিতি ধর্ষণ, যুদ্ধ ধর্ষণ এবং আইনী ধর্ষণ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।

ধর্ষণ হল এক প্রকারের যৌন নিপীড়ন, উইকিপিডিয়া অনুসারে যা সাধারণত ব্যক্তির সম্মতি ব্যতীত কোনও ব্যক্তির বিরুদ্ধে যৌন মিলন বা অন্যরকম ভাবে যৌন অনুপ্রবেশ জড়িত থাকে। 

এই আইনটি শারীরিক শক্তি, জবরদস্তি, কর্তৃত্বের অপব্যবহার বা বৈধ সম্মতি প্রদানে অক্ষম এমন ব্যক্তির বিরুদ্ধে পরিচালিত হতে পারে, যেমন অজ্ঞান, অক্ষম, বৌদ্ধিক প্রতিবন্ধিতা বা সম্মতির আইনি বয়সের নিচে। ধর্ষণ, অপব্যবহার এবং ইনসেস্ট জাতীয় নেটওয়ার্কের মতে এটি যোনি, পায়ুসংক্রান্ত বা মৌখিক অনুপ্রবেশ সহ এক জোরপূর্বক যৌন মিলন।

বেশিরভাগ বিচার বিভাগে যৌন মিলন বা যৌন অনুপ্রবেশের অন্যান্য ধরণের হিসাবে সংজ্ঞায়িত করা হয়, কোনও অপরাধীর দ্বারা তাদের বিনা সম্মতি ব্যতিরেকে অপরাধীর দ্বারা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়।

ধর্ষণের সংজ্ঞাটি সরকারী আইন প্রয়োগকারী সংস্থা এটিকে ঐতিহাসিক ও সাংস্কৃতিকভাবে বিভিন্নভাবে পরিবর্তিত হয়েছে:

মূলত, ধর্ষণের কোনও যৌন অভিব্যক্তি ছিল না এবং এখনও ইংরেজিতে অন্যান্য প্রসঙ্গে শব্দটি ব্যবহৃত হয়। রোমান আইন অনুসারে, ধর্ষণকে বা রেপটাসকে অপরাধীদের ভিস হিসাবে চিহ্নিত করা হয়েছিল, “হামলার অপরাধ” রাপ্তাস তার কর্তৃত্বের অধীনে থাকা পুরুষের ইচ্ছার বিরুদ্ধে একজন মহিলাকে অপহরণের কথা উল্লেখ করেছিলেন এবং যৌন মিলন কোনও প্রয়োজনীয় উপাদান ছিল না। ধর্ষণের অনান্য সংজ্ঞা সময়ের সাথে সাথে পরিবর্তিত হয়েছে।

কার্যত সমস্ত সমাজ ধর্ষণের অপরাধের ধারণা নিয়েছে। যদিও এই অপরাধটি গঠন করেছিল তা ঐতিহাসিক কাল এবং সংস্কৃতি দ্বারা পৃথক হয়েছে।

সংজ্ঞাগুলি শারীরিক সহিংসতা বা মৃত্যুর আসন্ন হুমকি বা গুরুতর শারীরিক আঘাতের দ্বারা সংঘটিত জোর যোনি সংযোগের একটি ক্রিয়াকলাপের প্রতি মনোনিবেশ করেছিল, একজন পুরুষ, কোনও মহিলা বা একটি মেয়েকে, তার স্ত্রী নয়।

বেশিরভাগ সমাজে অপরাধের অ্যাক্টাস রিউস ছিল যোনিতে লিঙ্গ প্রবেশ করানো  অনেক সমাজে যেভাবে যৌনতা কল্পনা করা হয়েছিল তা এই ধারণাটিকে প্রত্যাখ্যান করেছিল যে কোনও মহিলা কোনও পুরুষকে যৌনতায় লিপ্ত করতে বাধ্য করতে পারে ।

মহিলারা প্রায়শই প্যাসিভ হিসাবে দেখা যেত যখন পুরুষরা দৃঢ় এবং আগ্রাসী বলে বিবেচিত হত। অন্য পুরুষের দ্বারা একজন পুরুষের যৌন অনুপ্রবেশ সোডমির আইনী ডোমেনের অধীনে।

০১২ অবধি, ফেডারেল ব্যুরো অফ ইনভেস্টিগেশন (এফবিআই) ধর্ষণকে একমাত্র পুরুষদের দ্বারা মহিলাদের বিরুদ্ধে করা অপরাধ বলে মনে করে।

২০১২-এ, তারা তাদের সংজ্ঞাটি “জোর করে এবং তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে একজন মহিলার শারীরিক জ্ঞান” থেকে “যোনি বা মলদ্বার যতই সামান্যই হোক না কেন, শরীরের কোনও অংশ বা বস্তু সহ, বা যৌন অঙ্গ দ্বারা মৌখিক অনুপ্রবেশ থেকে তাদের সংজ্ঞা পরিবর্তিত হয়েছে” অন্য ব্যক্তির, শিকারের সম্মতি ছাড়াই।

প্রাচীন গ্রিস এবং রোমে ধর্ষণের পুরুষ-ও-মহিলা এবং পুরুষ-পুরুষ-উভয় ধারণা বিদ্যমান ছিল। রোমান আইনগুলি অপরাধের জন্য তিনটি স্বতন্ত্র অভিযোগের অনুমতি দিয়েছে: স্টুপ্রাম, নিষ্ক্রিয় যৌন মিলন (যা প্রাথমিক যুগে ব্যভিচারকেও অন্তর্ভুক্ত করেছিল);

ভিস, অভিলাষের উদ্দেশ্যে একটি শারীরিক আক্রমণ; এবং ইনুইউরিয়া, একটি সাধারণ চার্জ যা ব্যক্তির উপর যে কোনও ধরণের আক্রমণকে বোঝায়।উল্লেখিত লেক্স আইলিয়া বিশেষভাবে ভিআইএম স্টুপ্রামে অপরাধী হিসাবে জোর করে নিষ্ক্রিয় যৌন মিলন করেন।

পূর্বের দু’টি প্রকাশ্য ফৌজদারি অভিযোগ ছিল যা যখনই শিকার ভুক্তভোগী রোমান নাগরিক (ইনজেনুয়াস), এবং মৃত্যুর বা নির্বাসনের সম্ভাব্য শাস্তি বহন করত তবেই যখন শিকার ভুক্তভোগী কোনও মহিলা বা উভয় লিঙ্গের শিশু হতে পারে তখনই তা আনা যেত।

ইনুইরিয়া ছিল সিভিল চার্জ যা মুদ্রা ক্ষতিপূরণ দাবি করেছিল এবং এর বিস্তৃত আবেদন ছিল (উদাহরণস্বরূপ, এটি তাদের মালিক ব্যতীত অন্য কোনও ব্যক্তির দ্বারা কোনও দাসের উপর যৌন নির্যাতনের ঘটনা ঘটানো যেত।)

গ্রিস উপনিবেশিক আমলে গ্রিস ও রোমের ধ্রুপদী প্রাচীনত্ব থেকে আগুন, দেশদ্রোহী ও হত্যার সাথে ধর্ষণ একটি গুরুতর অপরাধ ছিল।

"যারা ধর্ষণ করে তারা বিস্তীর্ণ মৃত্যুদণ্ডের সাপেক্ষে ছিল যা আপাতদৃষ্টিতে নির্মম, ঘন ঘন রক্তাক্ত এবং কখনও কখনও দর্শনীয় ছিল।" দ্বাদশ শতাব্দীতে, ভুক্তভোগী আত্মীয়দের শাস্তি কার্যকর করার বিকল্প দেওয়া হয়েছিল।

“চৌদ্দ শতকের গোড়ার দিকে ইংল্যান্ডে ধর্ষণের শিকার একজনের চোখের জল বেরিয়ে আসা এবং / অথবা অপরাধীর অন্ডকোষ নিজেই কেটে ফেলা হতে পারে বলে আশা করা যায়।”

রোমান সম্রাট কনস্ট্যান্টাইন দ্বারা ধর্ষণকে একটি “জনসাধারণের ভুল” (ইনুইরিয়া পাবলিক) বানিয়েছিলেন।বিষয়টির আধুনিক বোঝাপড়ার বিপরীতে, রোমানরা “সক্রিয়” (অনুপ্রবেশকারী) এবং “প্যাসিভ” (গ্রহণযোগ্য) অংশীদারদের মধ্যে স্পষ্ট পার্থক্যগুলি আঁকিয়েছিল এবং এই সমস্ত অভিযোগগুলি আক্রমণকারী দ্বারা অনুপ্রবেশ প্রেরণ করেছিল (যা অগত্যা মহিলা-প্রাপ্তির সম্ভাবনা বাতিল করে দেয়) মহিলা বা মেয়েশিশু ধর্ষণ।)

এটি স্পষ্ট নয় যে এই অভিযোগগুলির মধ্যে কোনটি (যদি থাকে) কোনও প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের উপর হামলার ক্ষেত্রে প্রয়োগ করা হয়েছিল।

যদিও নাগরিকের উপর এই ধরনের হামলা অবশ্যই গুরুতর অপমান হিসাবে দেখা হয়েছিল (রোমান সংস্কৃতিতে, কোনও প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষ নাগরিক কোনও মর্যাদার গুরুতর ক্ষতি ব্যতিরেকে যৌন মিলনে রিসেপ্টিভ ভূমিকার পক্ষে সম্ভবত সম্মতি জানাতে পারেন না)

লেক্স স্ক্যান্টিনিয়া নামে পরিচিত আইনটি কমপক্ষে পুরুষ-পুরুষ-পুরুষ স্টুপ্রামের কিছু ফর্মকে আবৃত করে এবং কুইন্টিলিয়ান ১০,০০০ জরিমানার কথা উল্লেখ করেছে সেরেসেরেস ।

রোমান লেজিওনায়ারের বেতন হিসাবে প্রায় ১০ বছরের মূল্য – কোনও ইনজেনুয়াসের উপর স্টুপ্রামের জন্য সাধারণ জরিমানা হিসাবে। তবে এর পাঠ্যটি হারিয়ে গেছে এবং এর সঠিক বিধানগুলি আর জানা যায়নি।

পূর্ববর্তী সংজ্ঞাটি, যা ১৯২৭ সাল থেকে অপরিবর্তিত ছিল, এটি পুরানো এবং সংকীর্ণ হিসাবে বিবেচিত হয়েছিল।

আপডেট হওয়া সংজ্ঞায় ক্ষতিগ্রস্থ এবং অপরাধীর যে কোনও লিঙ্গকে স্বীকৃতি দেওয়া এবং কোনও বস্তুর সাথে ধর্ষণটি পেনাইল / যোনি ধর্ষণ হিসাবে আঘাতমূলক হতে পারে, মানসিক বা শারীরিক অক্ষমতাজনিত কারণে ভুক্তভোগী যখন সম্মতি দিতে অক্ষম হন তখন ব্যুরো আরও উদাহরণগুলি বর্ণনা করে।

এটি স্বীকৃতি দেয় যে একটি মাদকাসক্তি এবং অ্যালকোহল দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত ব্যক্তি বৈধ সম্মতি দিতে অক্ষম হতে পারে।

সংজ্ঞাটি ফেডারেল বা রাষ্ট্রীয় ফৌজদারি কোডগুলি বা ফেডারেল, রাজ্য বা স্থানীয় স্তরের উপর প্রভাব চার্জিং এবং মামলা দায়ের করে না; এর পরিবর্তে এর অর্থ হ’ল ধর্ষণকে আরও সঠিকভাবে দেশজুড়ে প্রতিবেদন করা হবে।

কিছু কিছু দেশ বা এখতিয়ার ধর্ষণ এবং যৌন নির্যাতনের মধ্যে পার্থক্য করে ধর্ষণকে যোনিতে পেনাইল প্রবেশের সাথে জড়িত বা একমাত্র লিঙ্গের সাথে জড়িত হিসাবে সংজ্ঞায়িত করে, যখন অন্য ধরণের সম্মতিযুক্ত যৌন ক্রিয়াকলাপকে যৌন আক্রমণ বলে অভিহিত করা হয়।

উদাহরণস্বরূপ, স্কটল্যান্ড পেনাইল অনুপ্রবেশকে জোর দিয়ে জোর করে, ধর্ষণ হিসাবে যোগ্য হওয়ার জন্য লিঙ্গ ব্যবহার করে যৌন নির্যাতন করা অবশ্যই হয়েছিল।

রুয়ান্ডার জন্য ১৯৯৮ সালের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল ধর্ষণকে সংজ্ঞায়িত করে যে “এমন পরিস্থিতিতে একজন ব্যক্তির উপর যৌন নির্যাতনের শিকার হওয়া শারীরিক আক্রমণ যা সংঘাতের বিষয়”।

অন্যান্য ক্ষেত্রে, যৌন নির্যাতন বা অপরাধমূলক যৌন আচরণের মতো পদগুলির পক্ষে আইনী ব্যবহারের কারণে ধর্ষণ শব্দটি পর্যায়ক্রমে পর্যবসিত করা হয়েছে।

ধর্ষণ বাংলাদেশে একটি সর্বব্যাপ্ত অপরাধ নিঃসন্দেহে। মানবাধিকার সংগঠন আইন ও সালিশ কেন্দ্রের (আসক) সাম্প্রতিক পরিসংখ্যান অনুযায়ী, চলতি বছর গড়ে প্রতি মাসে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন ১১১ জন নারী। জানুয়ারি থেকে আগস্ট পর্যন্ত ৮৮৯ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন।

র্ষণজনিত কারণে মৃত্যু হয়েছে ৪১ জনের। ২০১৭ সালে ৮১৮ জন, ২০১৮ সালে ৭৩২ জন এবং ২০১৯ সালে ১ হাজার ৪১৩ নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। ২০১৯ সালে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছিল ৭৬ জনকে। আত্মহত্যায় বাধ্য হয়েছিলেন ১০ জন নারী।

“ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিরা পূর্বের চেয়ে ধর্ষণ অভিযানের পরে আক্রমণটির প্রতিরোধ করার সময় আরও দোষারোপ করা হয় (কোপার, ১৯৯,), যা মনে করে যে এই স্টেরিওটাইপটি যে এই মহিলারা টোকেন প্রতিরোধে লিপ্ত রয়েছে (মালামুথ এবং ব্রাউন, ১৯৯৪; মুহেলেনহার্ড ও রজার্স, ১৯৯৮) বা লোকটিকে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণ তারা এ পর্যন্ত যৌন অভিজ্ঞতার সাথে চালিয়ে গেছেন।

অবশেষে ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিরা অপরিচিত ব্যক্তির (যেমন, বেল, কুরিলফ এবং লোটস) দ্বারা পরিচিত না হয়ে কোনও পরিচিত বা তারিখ দ্বারা ধর্ষণ করা হলে তাকে আরও দোষ দেওয়া হয়, ১৯৯৪; ব্রিজেস, ১৯৯১; ব্রিজ এবং ম্যাকগ্রি আইল, ১৯৮৯; চেক এন্ড মালামুথ, ১৯৮৩; কানেকার, শাহেরওয়ালা, ফ্রাঙ্কো, কঞ্জু, এবং পিন্টো, ১৯৯১; এল’আরমান্ড এবং পেপিটোন, ১৯৮২; টেট্রোল্ট এবং বার্নেট, ১৯৮৭) যা মনে হয় যে স্টেরিওটাইপটি ভুক্তভোগীরা প্রকৃতপক্ষে যৌনতা করতে চায় কারণ তারা তাদের আক্রমণকারীকে চেনে এবং সম্ভবত তার সাথে ডেটে বেরিয়ে যায়।

এই গবেষণার অন্তর্নিহিত বার্তাটি মনে হয় যে যখন ধর্ষণের কিছু গোঁড়ামি উপাদান রয়েছে তখন ধর্ষণের শিকারব্যাক্তিরও দোষী সাব্যস্ত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে।

মেয়েদের ক্ষেত্রে, ভুক্তভোগী-দোষারোপ ভয়ের সাথে সম্পর্কিত। অনেক ধর্ষণের শিকার নিজেকে দোষ দেয়। মহিলা বিচারকরা সাক্ষীর স্ট্যান্ডের মহিলার দিকে নজর রাখতে পারেন ।

বিশ্বাস করতে পারেন যে তিনি আসামীকে প্ররোচিত করার জন্য কিছু হয়তো করেছিলেন, চাইনিজ সংস্কৃতিতে, নির্যাতনের জন্য দোষারোপ করা প্রায়শই ধর্ষণের অপরাধের সাথে জড়িত, যেহেতু মহিলারা শারীরিক শক্তি ব্যবহার করে ধর্ষণের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ করবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

সুতরাং, যদি ধর্ষণ ঘটে, তবে এটি কমপক্ষে আংশিকভাবে মহিলার দোষ হিসাবে বিবেচিত হয় এবং তার পুণ্যকে প্রশ্নে ডেকে আনা হয়।

এই আইনগুলির কঠোরতা সত্ত্বেও প্রকৃত শাস্তি সাধারণত খুব কম কঠোর ছিল: মধ্যযুগের শেষ ইউরোপ, বিবাহযোগ্য মহিলা, স্ত্রী, বিধবা, বা নিম্ন শ্রেণীর সদস্যদের ধর্ষণ সংক্রান্ত মামলা খুব কমই সামনে আনা হত ।

সাধারণত কেবলমাত্র একটি সামান্য আর্থিক জরিমানা বা ভিকটিম এবং ধর্ষকের মধ্যে বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হয়।

Violence-Against-Women-Rape-2001-2017
Violence-Against-Women-Rape-2001-2017

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা এবং এজেন্সিগুলি ধর্ষণকে প্রথাগত সংজ্ঞা ছাড়িয়েও প্রসারিত করেছে:

ওয়ার্ল্ড হেলথ অর্গানাইজেশন (ডাব্লুএইচও) ধর্ষণকে যৌন নির্যাতনের এক রূপ হিসাবে সংজ্ঞায়িত করেছে,যখন রোগ নিয়ন্ত্রণ ও প্রতিরোধ কেন্দ্রগুলি (সিডিসি) তাদের যৌন নির্যাতনের সংজ্ঞায় ধর্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করেছে; এগুলি ধর্ষণকে এক ধরণের যৌন সহিংসতা বলে অভিহিত করে।

সিডিসি বাধ্যতামূলক, অ-সম্মতিযুক্ত যৌন ক্রিয়াকলাপের অন্যান্য ক্রিয়াকলাপগুলির তালিকা করে যা মাদকাসক্ত সুবিধাজনক যৌন নিপীড়ন সহ ধর্ষণকে অন্তর্ভুক্ত করতে পারে বা নাও করতে পারে

এমন ক্রিয়াকলাপ যাতে ভুক্তভোগী কোনও অপরাধী বা অন্য কাউকে প্রবেশ করানো হয়, নেশা যেখানে শিকারটি অক্ষম সম্মতি (অক্ষমতার কারণে বা অজ্ঞান হওয়ার কারণে)

শারীরিকভাবে বাধ্য না হওয়া অনুপ্রবেশ যা কোনও ব্যক্তির মুখে মুখে চাপ দেওয়ার পরে ঘটে (সম্মতি দেওয়ার জন্য ভয় দেখানো বা কর্তৃত্বের অপব্যবহারের মাধ্যমে)

বা অবাঞ্ছিত শারীরিক বলের মাধ্যমে কোনও শিকারকে জোর করে প্রবেশ করার চেষ্টা করা হয় ( একটি অস্ত্র ব্যবহার করা বা একটি অস্ত্র ব্যবহার করার হুমকি সহ) ভেটেরান্স হেলথ অ্যাডমিনিস্ট্রেশন (ভিএইচএ)

“সামরিক যৌন ট্রমা” (এমএসটি) হিসাবে অভিহিত হওয়ার জন্য সার্বজনীন স্ক্রিনিং বাস্তবায়ন করেছে এবং এমএসটি-র প্রতিবেদন করা নাম নথিভুক্ত অভিজ্ঞদের বিনামূল্যে চিকিৎসা এবং মানসিক স্বাস্থ্যসেবা সরবরাহ করে (শিরোনাম 38 মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের কোড 1720D; পাবলিক আইন) 108-422)।

ল্যানসেট গ্লোবাল হেলথ’ প্রকাশিত ওই জরিপে দেখা যায়, নারীরা সাধারণত তাদের ঘনিষ্ঠজন বা পুরুষ সঙ্গীদের দ্বারাই ধর্ষণের শিকার হয় বেশি৷ বাংলাদেশ নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতাপ্রবণ দেশ না হলেও এ দেশে (কোনো ধরনের সম্পর্ক নেই এমন নারী) ধর্ষণের হার অনুমান ছাড়িয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন গবেষকরা৷

অনেক সংস্কৃতিতে, যারা ধর্ষণের শিকার হয় তাদের ধর্ষণের পরে অতিরিক্ত সহিংসতা বা সহিংসতার হুমকির ঝুঁকি বেশি থাকে। এটি ধর্ষক, বন্ধু বা ধর্ষকের স্বজনদের দ্বারা সংঘটিত হতেও পারে।

উদ্দেশ্যটি হল ধর্ষণের শিকার হওয়াটিকে প্রতিরোধ করা। লাঞ্ছিতদের বিরুদ্ধে হুমকির অন্যান্য কারণ হ’ল এটির প্রতিবেদন করার জন্য তাদের শাস্তি দেওয়া, বা অভিযোগ প্রত্যাহার করতে বাধ্য করা।

ধর্ষণের শিকার ব্যক্তির স্বজনরা পরিবারে “লজ্জা” এড়াতে বাধা দিতে পারে এবং তাদের হুমকিও দিতে পারে।

এটি বিশেষত সংস্কৃতিগুলির ক্ষেত্রে যেখানে স্ত্রী কুমারীত্বের বিষয়টি বিবাহের আগে অত্যন্ত মূল্যবান এবং বাধ্যতামূলক হিসাবে বিবেচিত হয়;

চরম ক্ষেত্রে, ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিরা সম্মানহানী এমনকি হত্যার শিকারও হন।

আরেকটি বিষয় হলো প্রচলিত অর্থে ধর্ষণকারী আইনের কাছে অপরাধী বলে বিবেচিত হওয়ায় তার ধরা পড়ার ভয় থাকে, ভয় থাকে শাস্তি পাওয়ার।

কিন্তু বৈবাহিক ধর্ষণের ক্ষেত্রে কোনো আইন না থাকায় ধর্ষণে অভ্যস্ত পুরুষটির মধ্যে কোনো ভয় কিংবা অনুশোচনা কাজ করে না।

বরং ধর্ষণ করাকেই নিজের অধিকার জ্ঞান করে দিনের পর দিন তিনি এই অপরাধের চর্চা করেন।

অন্যদিকে বৈবাহিক সম্পর্কের বেড়াজালে আবদ্ধ নারীটি ধর্ষণের শিকার হয়েও সন্তান, পরিবার, সমাজ, আর সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে আসতে না পারার বাস্তবতায় এক নিদারুণ বিষাদময় জীবন অতিবাহিত করেন।

আথাৎ এটি একটি বিধিবদ্ধ ধর্ষণ অপরাধ যা এই বিধান সরবরাহ করে যে অন্য কাউকে জোর করে বল বা হুমকির দ্বারা অযাচিত যৌন ক্রিয়ায় লিপ্ত করে ঊভয়ই নারী/পুরুষ হতে পারে এর শিকার।ধর্ষণকারী হিসেবে আমরা সাধারণত দাম্পত্য সম্পর্কের বাইরের কাউকেই বিবেচনায় আনি।

বৈবাহিক ধর্ষণ বিষয়টি অনেকেরই অজানা। এমনকি অনেক নারীরও বিষয়টি নিয়ে অজ্ঞতা আছে।

আর অধিকাংশ পুরুষ বিষয়টিকে কোনো অপরাধ বলেই মনে করেন না। ‘বৈবাহিক ধর্ষণ’ বলতে স্বামী কর্তৃক এমন আচরণকে বোঝায়, যেখানে স্ত্রীর সম্মতি ছাড়া এবং অনিচ্ছা সত্ত্বেও স্বামী জোরপূর্বক স্ত্রীর সঙ্গে শারীরিক সংসর্গে লিপ্ত হন।

বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হওয়ার পর জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়টি বাংলাদেশসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশে ধর্ষণ হিসেবে স্বীকৃত নয়।

বাংলাদেশে নারী ও শিশু ধর্ষণের বহু ঘটনা ঘটছে কিন্তু তার বিচার এবং শাস্তি হচ্ছে খুবই কম।

মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন ধর্ষণের বেশিরভাগ ঘটনাই ধামাচাপা পড়ে যায়। এছাড়া ধর্ষণের বিচার পেতেও নারীকে পদে পদে হয়রানি আর অবমাননার শিকার হতে হয়।

ধর্ষণের শিকার মেয়েদের সারাদেশে ৮টি ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারের মাধ্যমে কাউন্সেলিং, পুলিশি ও আইনি সহায়তা দেয়া হয়।

২০০১ সাল থেকে পর্যায়ক্রমে প্রতিষ্ঠিত এসব কেন্দ্র থেকে ৪ হাজার ৩শ ৪১টি যৌন নির্যাতনের মামলা হয়েছে

যার মধ্যে ৫শ ৭৮টি বিচার হয়েছে এবং সাজা হয়েছে মাত্র ৬৪টি ঘটনার।

বাংলাদেশ দন্ডবিধি ১৮৬০ অনুযায়ী, ধর্ষণ:

ধারা ৩৭৫:-

একজন ব্যক্তিকে “ধর্ষণ” করার কথা বলা হয় যাকে ব্যতীত বাদ ব্যতীত নিম্নলিখিত পাঁচটি বর্ণনার মধ্যে যে কোনও পরিস্থিতিতে পড়ে মহিলার সাথে সহবাস করা হয়:

প্রথমত: তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে।

দ্বিতীয়ত: তার সম্মতি ছাড়া।

তৃতীয়ত: তার সম্মতিতে, যখন মৃত্যুর ভয়ে বা আঘাতের শিকার হয়ে তার সম্মতি পাওয়া যায়।

চতুর্থত: তার সম্মতিতে, যখন লোকটি জানতে পারে যে সে তার স্বামী নয়, এবং তার সম্মতি দেওয়া হয়েছে কারণ তিনি বিশ্বাস করেন যে তিনি অন্য একজন ব্যক্তি যার সাথে তিনি আছেন বা নিজেকে আইনী বিবাহিত বলে বিশ্বাস করেন।

পঞ্চমত: যখন তার চৌদ্দ বছরের কম বয়সী তখন তার সম্মতি সহ বা না করে।

এই আইনের ব্যাখ্যা: ধর্ষণ অপরাধের জন্য প্রয়োজনীয় যৌন মিলন গঠনে অনুপ্রবেশ যথেষ্ট। ব্যতিক্রম। নিজের স্ত্রীর সাথে একজন পুরুষের দ্বারা যৌন মিলন, স্ত্রী তের বছরের কম বয়সী নয়, ধর্ষণ নয়।

ই অইনটি সংশোধন করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন 2000(সংশোধীত 2002) এর দফা 2 এর  (ঙ) “ধর্ষণ” অর্থ ধারা ৯ এর বিধান সাপেক্ষে, Penal Code, 1860 (Act XLV of 1860) এর Section 375 এ সংজ্ঞায়িত “rape”;

এই আইনে ধর্ষণের শাস্তির বিধান রাখা হয়েছে:

ধারা ৩৭৬:-

যে ব্যক্তি ধর্ষণ করে তার জন্য যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বা দশ বছরের কারাদন্ডের জন্য উভয় বর্ণনীয় কারাদন্ডে দন্ডিত হতে হবে এবং ধর্ষণও দোষী হতে পারে, যদি না ধর্ষণ করা মহিলা তার নিজের স্ত্রী না হয় এবং বারো বছরের নিচে না হয় বয়সের বছর, এক্ষেত্রে তাকে দু’ বছরের মেয়াদে কারাদন্ডে বা জরিমানা বা উভয় দণ্ডে দণ্ডিত করা হবে।

প্রচলিত আইনে বাংলাদেশ ধর্ষণের সংজ্ঞা ও শাস্তি:

যদি কোন পুরুষ বিবাহ বন্ধন ব্যতীত ষোল বৎসরের অধিক বয়সের কোন নারীর সাথে তার সম্মতি ছাড়া বা ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলকভাবে তার সম্মতি আদায় করে, অথবা ষোল বৎসরের কম বয়সের কোন নারীর সাথে তার সম্মতিসহ বা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌন সঙ্গম করেন, তাহলে তিনি উক্ত নারীকে ধর্ষণ করেছেন বলে গণ্য হবেন।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০(সংশোধীত ২০০২) এর ৯(১) ধারায় বলা হয়েছে:

যদি কোনো পুরুষ কোনো নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন, তাহা হইলে তিনি যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দণ্ডনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন৷

ধারা ৯(২)-এ বলা হয়েছে:

যদি কোনো ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষণ বা উক্ত ধর্ষণ পরবর্তী তাহার অন্যবিধ কার্যকলাপের ফলে ধর্ষিতা নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে, তাহলে উক্ত ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ড বা যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দণ্ডনীয় হবেন এবং ইহার অতিরিক্ত অন্যূন এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন৷

ধারা ৯(১)-এর ব্যাখ্যায় বলা হয়েছে:
যদি কোনো পুরুষ বিবাহ বন্ধন ব্যাতীত ১ [ষোল বছরের] অধিক বয়সের কোনো নারীর সহিত তাহার সম্মতি ব্যাতিরেকে বা ভীতি প্রদর্শন বা প্রতারণামূলকভাবে তাহার সম্মতি আদায় করে, অথব

২ [ষোল বছরের] কম বয়সের কোনো নারীর সহিত তাহার সম্মতিসহ বা সম্মতি ব্যতিরেকে যৌন সঙ্গম করেন, তাহা হইলে তিনি উক্ত নারীকে ধর্ষণ করিয়াছেন বলিয়া গণ্য হবেন৷

ম্যারিটাল রেপ বা বৈবাহিক ধর্ষণ কি?

বৈবাহিক ধর্ষণ বলতে স্বামী কর্তৃক এমন আচরণকে বুঝায় যেখানে স্বামী তার স্ত্রীর সম্মতিব্যতীত এবং অনিচ্ছাসত্ত্বেও জোরপূর্বক শারীরিক সংসর্গে লিপ্ত হয়।

অনেক পুরুষ এখানে প্রশ্ন তুলতে পারেন যে স্ত্রী কর্তৃকও স্বামী এরূপ আচরণের স্বীকার হতে পারেন।

কিন্তু আমি সেই বিতর্কে যাচ্ছি না কারণ আমাদের চারপাশে যেসব ধর্ষণের ঘটনা আমরা দেখতে এবং শুনতে পাচ্ছি সেগুলো পুরুষ কর্তৃক ঘটে আসছে।

ম্যারিটাল রেপ (বৈবাহিক ধর্ষণ) : আদৌ ধর্ষণ নাকি পুরুষতান্ত্রিক সমাজে স্বামীর স্বেচ্ছাচারী অধিকার?

ধর্ষণ নিঃসন্দেহে সমাজের এবং মানুষের প্রতি অন্যতম জঘন্য একটি অপরাধ। বিশ্বের সকল দেশেই ধর্ষণকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয় এবং সকল দেশেই এটাকে আইনের আওতায় এনে কঠোর শাস্তির ব্যাবস্থা করা আছে।

আমাদের দেশেও দন্ডবিধি ১৮৬০’র ৩৭৫ ধারায় ধর্ষণের সংজ্ঞা দেয়া আছে এবং ৩৭৬ ধারায় এর শাস্তির বিধান উল্লেখ করা আছে।

কিন্তু বৈবাহিক ধর্ষণ? এটাকে কি আদৌ ধর্ষণের কাতারে ধরা হয়? এমনকি এমন কোন ধর্ষণের প্রকারভেদ আছে সেটা জানা আছে কত সংখ্যক মানুষের?

উত্তরটা খুঁজতে গেলে আপনাকে হতাশ হতে হবে। যারা এই ব্যাপারে জ্ঞাত আছে তাদের মাঝে বেশিরভাগ মানুষই আবার এটাকে ধর্ষণ মানতে নারাজ।

বিশেষকরে পুরুষ সমাজতো মোটেই না, এমনকি অনেক নারীও এটার বিপক্ষে চলে যাবেন। তবে এটাকে ধর্ষণের কাতারে ফেলতে রাজি এমন লোকের সংখ্যাও হয়তো কম হবে না।

বাংলাদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বৈবাহিক ধর্ষণঃ

আমাদের দেশের আইনে বৈবাহিক ধর্ষণ নামের অপরাধের বর্ণনা দেয়া হয় নি। ধর্ষণ সংক্রান্ত ধারা হচ্ছে দন্ডবিধি ১৮৬০’র ৩৭৫, ৩৭৬ এবং নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন ২০০০’র ধারা ৯।

কিন্তু এই ধারা গুলোর কোথাও বৈবাহিক ধর্ষণের কথা বলা হয় নি, সুতরাং এর শাস্তির বর্ণনা দেয়া তো দূরের ব্যাপার।

বরং দন্ডবিধির ৩৭৫ নম্বর ধারায় রেপের সংজ্ঞা থেকে বৈবাহিক ধর্ষণ ব্যাপারটাকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ৩৭৫ ধারায় ধর্ষণের বর্ণনা দিতে গিয়ে ৫ রকম উপাদানের কথা বলা হয়েছে।

একটা দৃশ্যে বলা আছে একজন ব্যাক্তি যদি তার স্ত্রীর সাথে শারীরিক সংসর্গে লিপ্ত হয় যার বয়স কিনা ১৩ বছরের কম না সেই ক্ষেত্রে তা কখনো ধর্ষণ বলে গণ্য হবে না।

সুতরাং এখানে ১৩ বা তার অধিক বয়সের স্ত্রীর সাথে যেকোন পরিস্থিতিতে এমনকি সম্মতি ব্যতীত যৌনসহবাসকেও ধর্ষণ বলে গণ্য করা হচ্ছে না। এদিক থেকে আমাদের দেশের আইনে বৈবাহিক ধর্ষণ থেকে স্বামীকে অব্যহতি দেয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ সরকার ২০১০ সালে Domestic Violence (Prevention and Protection) Act প্রণয়ন করে যেখানে ৩(গ) ধারায় Sexual Abuse’র কথা উল্লেখ করা হয়েছে কিন্তু যার কোন সুস্পষ্ট সংজ্ঞা, উপাদান বর্ণনা করা হয়নি।

বৈবাহিক ধর্ষণ এর কিছু পরিসংখ্যানঃ

২০১৩ সালে জাতিসংঘ বাংলাদেশ, শ্রীলংকা, চীন, ইন্দোনেশিয়ার ১০০০০ এর অধিক প্রাপ্তবয়স্ক পুরুষের উপর জরিপ চালায়।

সেখান থেকে বের হয়ে আসে ২৪% স্বামীরা তাদের স্ত্রীর সাথে জোরপূর্বক শারীরিকভাবে মিলিত হয় যেখানে কিনা তারা স্ত্রীর সম্মতি নেয়ার প্রয়োজনও মনে করে না।

তন্মধ্যে ৩৮% পুরুষ স্ত্রীদেরকে শাস্তি প্রদান করতে জোরপূর্বকভাবে মিলিত হয়।

২০১১ সালে জাতিসংঘের দ্বারা পরিচালিত আরেকটি জরিপে বের হয়ে আসে ৮৭% বিবাহিত মহিলা স্বীকার করে যে তাদের স্বামীরা তাদেরকে সেক্সচুয়ালি অত্যাচার করে যেখানে ১২০০০ মহিলা অংশগ্রহণ করেন।

২০১১ সালের জাতিসংঘ রিপোর্ট বলে যে মাত্র ৫২ টি দেশ তাদের আইন সংশোধন করে ম্যারিটাল রেপকে অপরাধ হিসেবে অন্তর্ভূক্ত করেছে যেখানে বাংলাদেশ ওই তালিকায় নেই।

ম্যারিটাল রেপ কি আদৌ রেপ?

গেই বলেছি এটাকে বেশিরভাগ পুরুষই ধর্ষণ মানতে নারাজ। এমনকি অনেক মহিলাও এটাকে ধর্ষণ হিসেবে মেনে নিবেন না। এর কারণ হচ্ছে ছোটবেলা থেকেই পরিবার থেকে একটা মেয়েকে শেখানো হয় স্বামী হচ্ছে দেবতাতুল্য।

তাই স্বামীর বিরুদ্ধে কথা বলতে বেশিরভাগ মহিলাই নারাজি। এটাকে রেপ বলে স্বীকার করে নিতে আরেকটি প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে আমাদের পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা। তবে সমাজে সচেতন নারীরা তাদের প্রচলিত ধ্যান-ধারণা থেকে বের হয়ে আসছেন।

বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ হিসেবে তালিকাভূক্ত করা কি আদৌ দরকার?

এই অংশে এসে আমি একান্তই আমার ব্যক্তিগত মতামত প্রকাশ করবো। কারো ভিন্নমত থাকতে পারে। আমি সেটাকে সম্মান জানাতে প্রস্তুত।আমাদের সমাজে নারী-পুরুষ বিবাহ করার মাধ্যমে শারীরিকভাবে মিলিত হবার বৈধতা পায়।

তবে একজন নারীকে বিবাহ করার মানেই এটা হতে পারে না যে স্বামী তার স্ত্রীর সম্মতি ছাড়াই জোরপূর্বক শারীরিকভাবে মিলিত হবে কিংবা শারীরিকভাবে নির্যাতন করবে। প্রতিটি মানুষেরই যার যার মানবাধিকার রয়েছে।

বাংলাদেশের আইনে বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ হিসেবে গণ্য করা হয় নি। কিন্তু আমি মনে করি বাংলাদেশের প্রচলিত আইন সংশোধন করে বৈবাহিক ধর্ষণকে অপরাধ তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা যেতে পারে।

তবে এটার আসন্ন ফলাফল সম্পর্কেও আমাদের ভাবতে হবে। কোন নারী তার স্বামীর উপর ব্যক্তিগত অন্য কোন আক্রোশ থেকেও আদালতে ধর্ষণের মামলা দায়ের করতে পারেন। আবার বিবাহের ফলে স্বামী-স্ত্রীর মাঝে পরিত্র একটি সম্পর্ক স্থাপিত হয়।

সমাজে আমরা যেসকল ঘৃণ্যিত ধর্ষণকারীর কথা দেখে থাকি, সে আর স্বামীর অবস্থান আমার কাছে এক বলে মনে হয় না কারণ স্ত্রীর উপর স্বামীর একটা অধিকার বিয়ের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত হয় যদিও সেটা জোরপূর্বক কিছু করাকে সমর্থন করে না বলেও মনে করি।

আরেকটা বাজে পরিস্থিতির উদ্ভব হতে পারে যদি স্ত্রী স্বামীর নামে মামলা দায়ের করে এই অভিযোগে। ওই স্বামী পরবর্তীতে তার স্ত্রীর সাথে সংসার করতে আর রাজী নাও হতে পারে। এর ফলে সমাজে বিবাহ বিচ্ছেদের পরিমাণ বৃদ্ধি পাবে বলে আমি মনে করি।

এই অবস্থায় আমার মতামত হতে পারে এমন যে, বৈবাহিক ধর্ষণের পরিস্থিতিতে শুরুতেই আদালতে মামলা দায়ের না করে কোন সালিশের মাধ্যমে সেটাকে নিষ্পত্তি করা যায় কিনা।

সুতরাং প্রচলিত আইনের সংশোধন এনে বৈবাহিক ধর্ষণের সুস্পষ্ট সংজ্ঞা প্রদান করা এবং সালিশের মাধ্যমে তা কিভাবে নিষ্পত্তি করা যায় সে ব্যাপারে গাইডলাইন প্রদান করা যেতে পারে।

আর সেই সালিশটি হতে পারে রুদ্ধদ্বার বৈঠকে এবং কেইসের ফ্যাক্টস পক্ষদ্বয় আর মধ্যস্থতাকারী ছাড়া আর কেউ জানবে না।

যদি মধ্যস্থতা করা সম্ভব হয়ে না উঠে সেই ক্ষেত্রে আদালতে যাওয়ার বিধান রাখা যেতে পারে। সবশেষে এর শাস্তি অবশ্যই প্রচলিত ধর্ষণের শাস্তির চেয়ে ভিন্ন হবে।

১৮৬০ সালের দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারা অনুযায়ী, ১৩ বছরের ঊর্ধ্বে নারীর ক্ষেত্রে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে সহবাস ধর্ষণ হিসেবে স্বীকৃতি পায় না। বাংলাদেশে ধর্ষণসংক্রান্ত কোনো ধারার কোথাও বৈবাহিক ধর্ষণের কথা বলা হয়নি।

অধিকাংশ আইনেই ধর্ষণকে সংজ্ঞায়িত করা হয়, স্ত্রী ব্যতীত অন্য কোনো নারীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার সঙ্গে যৌন সম্পর্ক স্থাপন করা।

প্রশ্ন হলো, স্ত্রীর ইচ্ছার বিরুদ্ধে স্বামী যদি ধর্ষণকারীর ভূমিকায় অবতীর্ণ হন, তাহলে কি ধর্ষণের ভয়াবহতা কমে যায়?

বিবাহ ব্যতিরেকে কোনো নারীর সঙ্গে জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক স্থাপনের বিষয়টি যদি ধর্ষণ হিসেবে স্বীকৃত হয়, তবে বৈবাহিক সম্পর্কেও ক্ষেত্রে এই জবরদস্তি কেন ধর্ষণ হিসেবে স্বীকৃত হবে না?

বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হলেই যে ঘটনাটির ভয়াবহতা কমে যায়, ব্যাপারটি কিন্তু সে রকম নয়।

বরং দিনের পর দিন একটি সম্পর্কে আবদ্ধ থেকে ধর্ষণের অভিজ্ঞতায় ট্রমা অনেক বেশি থাকে এবং সেখান থেকে পরিত্রাণের কোনো উপায় থাকে না।

সর্বোপরি আমাদের দৃষ্টিভঙ্গি পালটানোটা খুবই জরুরী। পুরুষতান্ত্রিক সমাজে স্ত্রীকে ব্যক্তিগত সম্পত্তি হিসেবে বিবেচনা করার জঘন্য প্রথা থেকে বের হয়ে আসতে হবে। আর নারীর ক্ষমতায়ন ব্যাপারটাও গুরুত্বের সাথে নিতে হবে।

আসকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক শিপা হাফিজ বলেন, ‘‘এগুলো ফাঁকা বুলি৷ কিসের কঠিন আইন আছে?

যে আইন আছে, সেই আইনে ধর্ষণের শিকার নারীকে আবারো ধর্ষণের শিকার হতে হয়৷ আইন ধর্ষকের পক্ষে৷

শুধু যে ঘটনাগুলো আলোচনায় আসে, যেগুলো নিয়ে মানুষ কথা বলে, সেখানেই কিছুটা বিচার পাওয়া যায়৷

সিলেট এমসি কলেজ হোস্টেলের ঘটনা নিয়ে মানুষ কথা বলছেন, তাই এখানে হয়তো বিচার পাওয়ার সম্ভাবনা আছে৷’’

“ধর্ষকের মনস্তত্ত্ব ও সহিংস এবং অহিংস ধর্ষণের কৌশলগুলি”

র্ষণের ‘মিথ’ ও ক্লিনিকাল সাইকোলজিষ্ট, মনোবীদ, গবেষকরা ধর্ষকদের উপর মনো-সামাজিক গবেষনা সমীক্ষার সংক্ষিপ্ত একটি অংশ তুলে ধরা হলো।

ধর্ষণ বিষয়ে বেশ কিছু মিথ বা ভুল ধারণা সমাজে প্রচলিত রয়েছে৷ উদাহরণস্বরূপ, অনেক ক্ষেত্রেই একটি মিথ কাজ করে, যেখানে ধর্ষক আশ্বস্ত হয় যে, অপর পক্ষ যতই বারণ করুক বা বাধা দিক না কেন, বাস্তবে তারও এতে সম্মতি রয়েছে৷

মার্কিন মনস্তাত্ত্বিক আন্টোনিয়া অ্যাবের একটি গবেষণায় উঠে এসেছে এমন মিথে বিশ্বাসী এক ধর্ষকের বয়ান৷

মানুষ (এবং অন্যান্য এ্যানিমেল) যে একটি খুব কম্পলিকেটেড, খুব সফিস্টিকেটেড, উঁচু দরের “বায়ো-রোবট” তা বোঝা যায় এসব কেমিকেল থেকে।

পী হরমোন হলো প্রেম-পীরিতির আসল সিক্রেট মলিকিউল। নতুন বিয়ে বা প্রেমের প্রাথমিক পর্যায়ে পী হরমোনের বন্যা বয়ে যায় ব্রেনে ।

পছন্দের মানুষটিকে তাই সারাক্ষণ পাশে রাখতে মন চায়, সর্বক্ষণ চোখের সামনে দেখতে ইচ্ছা করে, স্পর্শ করতে ভালো লাগে ইত্যাদি।

পী হরমোন এ্যাট ওয়ার্ক। বাসনার রসায়ন।সবাই জানি রিলেশনশীপের এই স্টেজটাকে “ইনফ্যাচুয়েশন” বলে। অপর পার্টনারের ভুল/ভ্রান্তি/অন্যায়, মুদ্রাদোষ ইত্যাদি চোখে পড়ে না। “ওকে ছাড়া আমি বাঁচবোনা”..

মনো ও যৌনবিকৃতির বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে ধর্ষণ এর কারনে বর্তমানে ধর্ষণের ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় জনমানুষের মধ্যে এক দৃশ্য ভীতির বীজ রোপিত হয়েছে, এতে বয়স বা স্থান-কালের কোনো বাছবিচার থাকে না। ধর্ষণের পেছনে অন্যান্য কারণের পাশাপাশি ‘ক্ষমতা’ দেখানোর একটি বিষয় থাকে।

তথ্যপ্রযুক্তির অপব্যবহার, সামাজিক ও আইনগত বিচারহীনতার সংস্কৃতি, সন্তানের ওপর নিয়ন্ত্রণ না থাকা এবং সার্বিকভাবে মূল্যবোধের অবক্ষয়ের কারণেই ধর্ষণের ঘটনা বাড়ছে।

তবে কি কখনও ধর্ষক সম্পর্কে ভেবে দেখেছেন?

পুরুষ কেন ধর্ষণ করে?

এটি একাধিক উত্তর সহ জটিল প্রশ্ন, কারণ ধর্ষণকারী তৈরিতে বেশ কয়েকটি কারণ ভূমিকা পালন করে।

যৌন হামলাকারী যে কোনও ধরণের ব্যক্তি হতে পারে। এই বিবৃতিটি সবাইকে সবাইকে ভয় দেখাতে নয়; বরং এটির অর্থ হ’ল এই ধরণের অপরাধ সংঘটনকারী কোনও নির্দিষ্ট ধরণের নেই।

আমেরিকান ক্লিনিকাল সাইকোলজিস্ট ডঃ স্যামুয়েল ডি স্মিথম্যান সেই কথাটি জানতে পেরেছিলেন যখন তিনি ১৯৭০সালে বেনামে ৫০ জন পুরুষের সাক্ষাত্কার নিয়েছিলেন, যারা কাউকে ধর্ষণ করেছে বলে স্বীকার করেছিল।

এই পুরুষদের বিভিন্ন ব্যাকগ্রাউন্ড, সামাজিক স্ট্যাটাস এবং অবশ্যই বিভিন্ন ব্যক্তিত্ব এবং মানসিকতা ছিল।

এই ধরনের ফৌজদারি অপরাধের কথা বললে তারা কী উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল তার উপর ভিত্তি করে গবেষণা করে দেখেন, ধর্ষণের পিছনে উদ্দেশ্যগুলি পৃথক এবং পরিমাণ নির্ধারণ করা কঠিন।

এই বিচারহীনতাকে কেউ কেউ আবার ‘মিথ্যা’ ধর্ষণ মামলার পরিসংখ্যান হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করেন৷ তারা বলতে চান, ধর্ষণ এবং নারী নির্যাতনের অধিকাংশ মামলাই মিথ্যা৷

এ প্রসঙ্গে আইনের এই অধ্যাপক বলেন, ‘‘বিচারহীনতার সুযোগে কেউ কেউ এ ধরনের কথা বলতেই পারেন৷ প্রায় অকার্যকর ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার কারণেই অপরাধীরা ছাড়া পাচ্ছে৷ কিন্তু নারী যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, তা তো আর মিথ্যা নয়৷

তাই যদি হবে, তাহলে আদালতে পুলিশ চার্জশিট দেয় কীভাবে? আসল কথা হলো, আমাদের আইনে তো সমস্যা আছেই, মূল্যবোধও নষ্ট হয়ে গেছে৷ তাই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে৷’’

যাইহোক, অধ্যয়নগুলি দেখায় যে ধর্ষণকারীদের কিছু সাধারণ বৈশিষ্ট্য রয়েছে:

-সহানুভূতির অভাব

-মাদকতা

-মহিলাদের প্রতি বৈরিতা অনুভূতি

-বিষাক্ত পুরুষতন্ত্র

মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসি রাজ্যের দক্ষিণ ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানের গবেষণা অধ্যাপক শেরি হামবি ডাব্লুডব্লুকে বলেছেন যে “যৌন নিপীড়ন যৌন তৃপ্তি বা যৌন আগ্রহ সম্পর্কে নয়, প্রভাবশালী লোকদের সম্পর্কে আরও বেশি।”

আমেরিকান সাইকোলজিকাল অ্যাসোসিয়েশনের জার্নাল সাইকোলজি অফ ভায়োলেন্সের প্রতিষ্ঠাতা সম্পাদক হ্যাম্বি ব্যাখ্যা করেছিলেন যে কীভাবে বিষাক্ত পুরুষতন্ত্র ধর্ষণ সংস্কৃতির প্রচার করে।

“ধর্ষণ ও অন্যান্য যৌন নিপীড়নের অনেক অপরাধী যুবকই রয়েছে,” তিনি বলেছিলেন।

“অনেক ক্ষেত্রে পুরুষ সমবয়সীদের মধ্যে সামাজিক মর্যাদা পাওয়ার একমাত্র উপায় হ’ল উচ্চতর যৌন অভিজ্ঞ হওয়া এবং যৌন সক্রিয় না হওয়া প্রায়শই কলঙ্কজনক।”

তিনি বিশ্বাস করেন যে এই ধরণের পিয়ার চাপ পুরুষদেরকে যৌন অপরাধী হিসাবে গড়ে তুলেছিল কারণ “অনেকেই কেবল আতঙ্কে আছেন যাঁরা তাদের সহকর্মীদের দ্বারা যৌন অভিজ্ঞ হিসাবে আবিষ্কার করেননি।”

অন্য কথায়, কিছু সংস্কৃতিতে কাজ করার উপাদান রয়েছে, এবং প্রায়শই মিডিয়াতেও এই পুরুষদের পরামর্শ দেয় যে, তাদেরকে একধরনের জাল পুরুষতন্ত্র হিসাবে নারীর উপর আধিপত্য প্রতিষ্ঠা করা উচিত এবং যাঁদের খুব বেশি যৌনসম্পর্ক নেই তাদের কলঙ্কিত করা উচিত এনকাউন্টার।

তবে ব্রেন পী হরমোন প্রোডাকশন বেশিদিন মেনটেন করতে পারে না। কিছুদিন পরেই পী হরমোন কমতে কমতে একেবারেই বন্ধ হয়ে যায়। রিলেশনশীপ বজায় থাকলে মোটামুটি ৬ মাস পর্যন্ত পী হরমোন ম্যানুফেকচার করে ব্রেন (গিভ অর টেক আ ফিউ উইকস)। এর পরে রিলেশন ম্যাচিউর স্টেজে যায়।

ইনফ্যাচুয়েশন আউট, রিয়েলাইজেশন ইন। যথাযথ কমান্ড দিয়ে রোবোটকে যা ইচ্ছা করানো যায়। একজন সিভিয়ারলী ড্রাগ-এ্যাডিক্টেড মানুষকে দিয়েও যেকোনো ঘৃণ্য পাপ কাজ করানো যায় সহজে; চুরি-চামারী, প্রস্টিটিউশন এমনকি হত্যা-খুন – যদি আপনার হাতে থাকে বিশেষ কিছু প্রোটিন মলিকিউল।

অতীতে নন-প্যারাফিলিক হাইপার সেক্সসুয়াল ডিজঅর্ডারের “যথেষ্ট তথ্য নেই” এই অজুহাতে হাইপার সেক্সুয়াল ডিসঅর্ডারকে আলাদা কোনো সুনির্দিষ্ট রোগ নির্দেশক যৌন আচরণ হিসেবে ধরা হতো না, বরং “উল্লেখ করার মতো নয়” বলে এড়িয়ে যাওয়া হতো।

কিন্তু বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, পশ্চিমা বিশ্বে হাইপার সেক্সসুয়াল ডিজঅর্ডারের রিপোর্টেড কেসের সংখ্যা সমস্ত প্যারাফিলিক ডিজঅর্ডারের চেয়েও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

হাইপার সেক্সসুয়াল ডিজঅর্ডার একটি প্রচলিত ও সঙ্কটজনক ক্লিনিকাল পরিস্থিতি, যার উপসর্গ হলো, মাত্রাতিরিক্ত যৌন চিন্তা, যৌন তাড়না ও আচরণের পুনরাবৃত্ত ঘটা;

পর্নোগ্রাফি আসক্তি, এক্সেসিভ ও অদম্য মাস্টারবেশন, অপরিকল্পিত গর্ভাবস্থা, দাম্পত্য কলহ, বিবাহবিচ্ছেদ, যৌনবাহিত রোগের ঝুঁকিতে থাকা, ইত্যাদি।

কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে হাইপার সেক্সসুয়াল ডিজঅর্ডারের প্রচুর ক্লিনিকাল নজির দেখা গেলেও, হাইপার সেক্সুয়াল ডিজঅর্ডার নির্ণয়ের জন্য আমাদেরকে যৌনতা প্রকাশের ‘স্বাভাবিক’ ও ‘মাত্রাতিরিক্ত’ এই ‘দুই মাত্রার’ মাঝে একটা সর্বসম্মত সীমানা টানতে হবে, যেটা মোটেও সহজ নয়।

যেমন, মাস্টারবেশন বা ইটারকোর্সকে কখন অদম্য বা আশংকাজনক হিসেবে ধরা হবে বা যৌন উদ্দীপনার কোন পর্যায়কে আসক্তি হিসেবে গণ্য করা হবে, সেটা পরিষ্কার নয়।

যৌন নিপীড়ন এর শিকার যারা হয়েছেন তারা সর্বদা মানসিক আঘাত এবং ক্ষোভ রাগ, ক্রোধ, অসস্ভাবিক আচরন করে থাকেন। তবে এর পেছনের উদ্দেশ্যগুলি ভিন্ন হয়।

কেউ কেউ আত্মহত্যার পথ বেফছ নেন।কেউ অস্বীকার করতে পারে না যে ধর্ষণের শিকার হওয়া যে কারওর কাছে হতে পারে এমন সবচেয়ে কষ্টকর, ভয়াবহ এবং মানসিক অভিজ্ঞতা।

এটি প্রায় সর্বদা স্ব-ঘৃণা, স্ব-দোষ এবং ক্রোধের অনুভূতিতে আক্রান্তকে ছেড়ে যায় এবং ট্রমাটিক পোস্ট সিনড্রোম ব্যাধি (পিটিএসডি) হতে পারে।

ধর্ষকের মনস্তত্ত্ব

যৌন নিপীড়ন হিংসাত্মক একটি অমার্জনীয় কর্ম এবং একটি অপরাধমূলক অপরাধ। দুর্ভাগ্যক্রমে, বেশিরভাগ ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি কলঙ্কজনক ঘটনা এড়াতে এবং সমাজ দ্বারা দোষারোপ করা এড়াতে নীরব থাকে, যদিও তাদের ধর্ষকরা অন্য শিকারের সন্ধানে নির্দ্বিধায় রয়েছে।

ধর্ষক বিভিন্ন ধরণের আছে। সেখানে সুবিধাবাদী ধর্ষণকারী রয়েছেন, যিনি যৌন তৃপ্তির জন্য কোনও সুযোগকে কাজে লাগান, যেমন অ্যালকোহলের প্রভাবে তাদের ভুক্তভোগীর পক্ষে আত্ম-নিয়ন্ত্রণের ক্ষতি।প্রতিরোধমূলক ধর্ষকের ক্রোধ এবং আগ্রাসন সরাসরি মহিলাদের প্রতি নিবদ্ধ থাকে।

এই ধর্ষক বিশ্বাস করেন যে তিনি মহিলাদের উপর যৌন নির্যাতনের অনুমতি পান কারণ তিনি মনে করেন যে তিনি অতীতে নারীদের দ্বারা আহত, প্রত্যাখ্যাত বা অন্যায় হয়েছিলেন।

ধর্ষণকারীরা প্রায়শই তাদের ক্ষতিগ্রস্থদের ধর্ষণ করা অস্বীকার করে এবং তাদের কাজকে ন্যায়সঙ্গত করার চেষ্টা করে। যে পুরুষরা ধর্ষণ স্বীকার করে তারা প্রায়শই তাদের কৃতকর্মের জন্য অজুহাত খুঁজতে চেষ্টা করে।

কেউ যদি দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিদিনই বা দিনে একাধিকবার মাস্টারবেশন/সেক্স করার পরও শারীরিক, মানসিক বা সামাজিক ক্ষেত্রে কোনো ধরনের সমস্যা বোধ না করে, তাহলে দুঃশ্চিন্তার কোনো কারণ নেই।

কিন্তু  বিভিন্ন জরিপে দেখা যায়, দীর্ঘ সময়ের জন্য গড়ে প্রাপ্তবয়স্ক স্বাভাবিক সুস্থ মানুষ সপ্তাহে ৩/৪ বার যৌন কাজে লিপ্ত হয়।

এবং দীর্ঘ সময় ধরে সপ্তাহে ৭+ বার যৌন কাজে লিপ্ত হওয়া মানুষের ভিতরে হাইপার সেক্সুয়ালিটিসহ অন্য ধরনের সেক্সুয়াল সমস্যার পরিমাণও বেশি।

তাই কেউ নিজের যৌন জীবন নিয়ে সমস্যা বোধ করলে সাইকলোজিস্ট এবং যৌন বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ।

আর একটি ধরণের হতাশাবাদী ধর্ষণকারী, যার প্রেরণা হ’ল ক্ষতিগ্রস্থদের লাঞ্ছিত করা এবং অবনমিত করা।

এই নিবন্ধটি শিশুদের নয়, প্রাপ্তবয়স্ক মহিলাদের ধর্ষণকারী পুরুষদের সাথে সম্পর্কিত এবং অন্য কোনও ধরণের যৌন নির্যাতনের বিষয় নয়।সহজ করে তোলে।

যৌন নিপীড়ন হিংসাত্মক একটি অমার্জনীয় কর্ম এবং একটি অপরাধমূলক অপরাধ।

দুর্ভাগ্যক্রমে, বেশিরভাগ ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তি কলঙ্কজনক ঘটনা এড়াতে এবং সমাজ দ্বারা দোষারোপ করা এড়াতে নীরব থাকে, যদিও তাদের ধর্ষকরা অন্য শিকারের সন্ধানে নির্দ্বিধায় রয়েছে।

ধর্ষকদের বিস্তার লাভের কারন:

১.শক্তিধর:

পাওয়ার অ্যাসেরটিভ ধর্ষক হলেন এমন এক ধরণের যাঁর কাছে অস্ত্র রয়েছে বলে দাবি করা হবে তবে এটি কেবল শিকারের সহযোগিতা নিশ্চিত করতে ব্যবহার করবেন। এই ধরণের ধর্ষণের ৪৪% ধরণের ক্ষেত্রে এই ধরণের ধর্ষণের মধ্যে সবচেয়ে সাধারণ।

২. ক্রোধের প্রতিশোধ:

রাগের প্রতিশোধ নেওয়া অন্যরকম কারণ অপরাধী প্রকৃতপক্ষে মহিলাদের শাস্তি দেওয়ার বাইরে। মহিলাদের প্রতি ঘৃণা বহন করে এই ধরণের অপরাধী প্রায়শই ক্ষতিগ্রস্থ ব্যক্তিদের পর্যাপ্ত পর্যায়ে আহত করে যেখানে তাদের চিকিত্সা বা হস্তক্ষেপ বা হাসপাতালে ভর্তির প্রয়োজন হয়। মোটামুটিভাবে 30% ধর্ষণ এই বিভাগে আসে।

৩. পাওয়ার-আশ্বাস ধর্ষণকারী বা সুযোগ ধর্ষক:

শক্তি পুনরুদ্ধার বা সুযোগ ধর্ষক হ’ল ধর্ষণ করার সুযোগটি গ্রহণ করে। এটি চুরি, ডাকাতি বা অপহরণের মতো আরও একটি অপরাধের সাথে একত্রে করা হয়।

৪) ক্রোধের উত্তেজনা ধর্ষক বা স্যাডাস্টিক ধর্ষক:

এখনও পর্যন্ত ধর্ষণকারীদের মধ্যে সবচেয়ে বিপজ্জনক ধর্ষণটি হলেন রাগের উত্তেজনা ধর্ষণকারী। এই অপরাধী তার শিকারটিকে আহত করতে চায়। প্রায়শই নিহত হয়। ভাগ্যক্রমে, সমস্ত ধর্ষকদের মধ্যে কেবল 5% এই বিভাগে আসে। যাইহোক, প্রায় সমস্ত হত্যা / ধর্ষণ এই অপরাধীদের হাতে ঘটে।

৫) কিশোর যৌন অপরাধী:

কিশোর অপরাধীদের কর্তৃপক্ষ যেমন স্কুল, পুলিশ ইত্যাদি কর্তৃপক্ষের সমস্যা রয়েছে তারা ক্ষোভ প্রকাশ বা ক্ষতিগ্রস্থদের শাস্তি দেওয়ার চেষ্টা করে। দুঃখের বিষয়, এই অপরাধ বাড়ছে বলে মনে হচ্ছে।

৬)মহিলা অপরাধী:

যদিও বিরল, মহিলারাও অপরাধী হতে পারে। অন্য সন্দেহজনক শিকারকে অন্যের দ্বারা ধর্ষণের জন্য ফাঁদে ফেলতেও তারা সহযোগী হতে পারে।

ডাব্লুএইচও জানিয়েছে যে ধর্ষণ সহ মহিলাদের বিরুদ্ধে যৌন সহিংসতার ঘটনা ঘটাতে পরিচালিত প্রধান কারণগুলি:

পারিবারিক সম্মান এবং যৌন পবিত্রতা বিশ্বাস;

পুরুষ যৌন অধিকারের মনোভাব;

যৌন সহিংসতার জন্য দুর্বল আইনী নিষেধাজ্ঞাগুলি:

জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার মিশেল ব্যাচেলে বলেন, “ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের মত অপরাধ বন্ধ করতে, ভিকটিমদের সুবিচার প্রাপ্তি ও পুনর্বাসন নিশ্চিত করতে এবং দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি করার জন্য বিশ্বের সকল রাষ্ট্রের উদ্যোগ দ্বিগুণ করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাই কমিশনার মিশেল ব্যাচেলে।

আরো বলেন, “এ ধরনের ভয়ঙ্কর অপরাধ যারা করে, তাদের শাস্তি দিতে গিয়ে নিষ্ঠুর আইন করার মধ্য দিয়ে আমরা মানবাধিকার লঙ্ঘনের আরও পথ তৈরি করে দিতে পারি না।

পর্ন নিয়ে গবেষণা করছেন এমন একজন গবেষকের ইউটিউব ভিডিওর লিঙ্ক দেওয়া হলঃ

ফিরে দেখা ধর্ষণের পরিসংখ্যাণ:

বাংলাদেশ পুলিশ:

গত বছর ৫ হাজার ৪০০ নারী এবং ৮১৫টি শিশু ধর্ষণের অভিযোগে মামলা হয়। ২০১৮ সালে শিশু ধর্ষণের মামলা ছিল ৭২৭টি এবং নারী ধর্ষণের মামলা ছিল ৩ হাজার ৯০০টি। পুলিশের হিসাব বলছে, গত বছর ধর্ষণের কারণে ১২ শিশু এবং ২৬ জন নারী মারা যান। ২০১৮ সালে এ সংখ্যা ছিল ২১ নারী ও ১৪ শিশু।

আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক):

আসকের ২০১৯ সালের বার্ষিক প্রতিবেদনের তথ্য বলছে, সারা দেশে ধর্ষণের ঘটনা আগের চেয়ে দ্বিগুণ বেড়েছে। গত বছর সারা দেশে ধর্ষণ ও গণধর্ষণের শিকার ১ হাজার ৪১৩ নারী ও শিশু। ২০১৮ সালে সংখ্যাটি ছিল ৭৩২।

মানুষের জন্য ফাউন্ডেশন:

গত বছর ৯০২ শিশু ধর্ষণের শিকার হয়। ২০১৮ সালে এ সংখ্যা ছিল ৩৫৬।

বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম:

২০১৯ সালের প্রতিবেদন অনুযায়ী প্রতি মাসে গড়ে ৮৪টি শিশু ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। এ ছাড়া এক বছরে যৌন নির্যাতন বেড়েছে ৭০ শতাংশ। গত বছর যৌন নির্যাতনের শিকার হয় ১ হাজার ৩৮৩ শিশু। ২০১৮ সালের চেয়ে গত বছর শিশু ধর্ষণ ৭৬ দশমিক শূন্য ১ শতাংশ বেড়েছে।

আসকের হিসেবে সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত তথ্য অনুযায়ী প্রতিদিন বাংলাদেশে কমপক্ষে চার জন নারী ধর্ষণের শিকার হন৷

নিনা গোস্বামী বলেন, ‘‘মাত্র শতকরা তিন ভাগ ধর্ষণের মামলায় অপরাধীরা শাস্তি পান৷’’

আসকের হিসেব মতে, চলতি বছরের ২৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ৯৪৮টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে৷ এর মধ্যে চলতি মাসের প্রথম ২৫ দিনে ৫৯টি৷ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৪১ জন নারীকে৷

ধর্ষণের পর আত্মহত্যা করেছেন ৯ জন৷ আর ধর্ষণ চেষ্টার শিকার হয়েছেন ১৯২ জন৷ ২০১৮ সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন ৭৩২ জন৷ ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে ৬৩ জনকে ৷

২০১৯ সালে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক হাজার ৪১৩ জন৷ হত্যা করা হয়েছে ৭৬ জনকে৷

গত বছর ধর্ষণের ঘটনা কিছুটা কম হলেও এবার করোনা থাকার পরও ধর্ষণ বাড়ছে৷ প্রথম ৯ মাসেই আগের বছরকে ছাড়িয়ে গেছে৷

আর যেহারে ধর্ষণ বাড়ছে তাতে বছর শেষে এই সংখ্যা ২০১৯ সালকে ছাড়িয়ে যেতে পারে বলে বিশ্লেষকরা আশঙ্কা করছেন৷

কিছু মামলায় নিম্ন আদালতে বিচার হলেও শেষ পর্যন্ত তা উচ্চ আদালতে আটকে যায়৷ আপিলের নামে বছরের পর বছর ঝুলে থাকে৷ ফলে এক যুগেও বিচার শেষ হয় না বলে নিনা গোস্বামী জানান৷

আর ধর্ষণ মামলার আসামিরা তখন বুক ফুলিয়ে এলাকায় ঘুরে বেড়ায়৷ যারা আইনের ফাঁক গলিয়ে ছাড়া পায় তারাও নতুন এক পরিস্থিতির সৃষ্টি করে৷

ধর্ষণের শিকার নারীর ওপর নেমে আসে আরেক ধারাবাহিক সামাজিক ধর্ষণের পর্ব৷

২০১৬ সালের মার্চে কুমিল্লার ক্যান্টনমেন্ট এলাকায় সোহাগী জাহান তনু ধর্ষণ এবং হত্যা মামলার এখানো তদন্তই শেষ হয়নি৷

২০১৭ সালের মর্চে বনানীর রেইনট্রি হোটেলে ধর্ষণ মামলার বিচার কবে শেষ হবে তা এখনো অনিশ্চিত৷ এই মামলার আসামিরা খুবই প্রভাবশালী৷

২০১৭ সালের নভেম্বরে টাইঙ্গাইলে বাসে রূপা খাতুন ধর্ষণ ও হত্যা মামলায় নিম্ন আদালত দ্রুতই রায় দেন৷

২০১৮ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে চার জনকে ফাঁসির আদেশ দেয়া হয়৷ কিন্তু এখন মামলাটি উচ্চ আদালতে আপিলে আটকে আছে৷

এভাবে ঝুলে থাকে ধর্ষণ মামলাগুলো৷ আর নিম্ন আদালতে রায় হলেও উচ্চ আদালত হয়ে চূড়ান্ত রায় পেতে বছরের পর বছর লেগে যায়৷

শিল্পপতি লতিফুর রহমানের মেয়ে শাজনীন তাসনিম রহমান ধর্ষণ ও হত্যা মামলার চূড়ান্ত রায় পেতে ১৮ বছর লেগেছে৷

চূড়ান্ত রায়ে ২০১৬ সালের আগস্টে একজনের মৃত্যুদন্ড বহাল থাকে৷

১৯৯৮ সালের ২৩ এপ্রিল রাতে শাজনীনকে ঢাকায় তাদের নিজ বাসায় ধর্ষণ ও হত্যা করা হয়৷

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন ও অপরাধ বিজ্ঞানের অধ্যাপক শেখ হাফিজুর রহমান কার্জন বলেন,

‘মডারেট মুসলমানের দেশে ধর্ষণ এবং সংঘবদ্ধ ধর্ষণ যদি একটি স্বাভাবিক ঘটনা হয়ে যায়, তার চেয়ে লজ্জার আর কী হতে পারে!

আমাদের সবার উচিত লজ্জায় মুখ ঢাকা৷যে দেশে ৯৭ ভাগ ধর্ষণের মামলায় আসামি খালাস পেয়ে যায়, সে দেশে ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থা যে প্রায় অকার্যকর হয়ে গেছে, তা বলাই যায়৷’’

সিলেট এমসি কলেজ হোস্টেল থেকে নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ পর্যন্ত ধর্ষণ ও নারীর যৌন নিপীড়নের প্রায় সব ঘটনাতেই প্রভাবশালীদের জড়িত থাকার অভিযোগ উঠে আসছে৷

প্রকাশ পাচ্ছে শাসক দলের নেতা-কর্মীদের নামও৷ তাদের বহিস্কার করা হচ্ছে, আবার অনুপ্রবেশকারীও বলা হচ্ছে৷ সরকারের দায় আছে বললেও দলের দায়ের বিষয়ে কিছুই বলছেন না আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক৷

এ প্রসঙ্গে নারী নেত্রী খুশি কবির বলেন, ‘‘এতদিন ওবায়দুল কাদের সাহেব কোনো কথা বলেননি৷ কিন্তু এবার যখন তার এলাকা নোয়াখালীতে এক নারীকে বর্বরোচিত নির্যাতনের ঘটনা ঘটলো তখন তিনি কথা বলছেন৷

আসলে তিনি তার এলাকার লোকজনকে শান্ত করার কৌশল নিয়েছেন৷ এর আগে দেশে কি এ ধরনের ঘটনা ঘটেনি? তখন তো তিনি কথা বলেননি৷ আসলে এটা দায় এড়ানোর একটি কৌশল৷’’

সরকার-সংশ্লিষ্টরাও এখন ধর্ষণ ও নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কথা বলছেন৷ এমন পরিস্থিতির জন্য সরকারের দায়ও স্বীকার করা হচ্ছে৷ এটা কি ধর্ষণ ও নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার বিষয়ে সরকারের দীর্ঘস্থায়ী কঠোর অবস্থানের লক্ষণ?

আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের বলেন, নোয়াখালীতে এক নারীকে বিবস্ত্র করে নির্যাতনের ঘটনায় সরকার দায় এড়াতে পারে না৷

তিনি বলেছেন, ধর্ষণের সঙ্গে জড়িত কাউকে রেহাই দেয়া হবে না৷ তবে তিনি সবার প্রতি ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘‘প্রতিবাদ করার দরকার নেই৷ সরকারই ব্যবস্থা নিচ্ছে৷’’,

এখন আমাদের অপেক্ষা করা ছাড়া আ কি ককোন উপায় কি আছে? তনু, মিতু, আফসানা, নুসরাত এর মত অসংখ্য বিচার, তদন্ত ধামাচাপা পড়ে যায় আর ধর্ষণ ও নারীর বিরুদ্ধে সহিংসতার জন্য মিডিয়াকত টকশো,

কিছু লোক দেখোনো ধর-পাকড় আর বিচার নামক প্রতিশ্রুতি, মানবাধিকার ও সংস্কৃতিক সংগঠন, আম ছাত্র-জনতারা শহরে,কলেজ বা বিশ্ববিদ্যালয়, প্রেস ক্লাবে ভিকটিম পরিবারকে নিয়ে বিচারের দাবীতে প্রেস কনফারেন্স আর মানবনন্ধন

বিচারহীনতার  সংম্কৃতিক বিরুদ্ধতায় সোচ্চার হচ্ছেন অত:পর নতুন টপিক পুরোনো সব এক অদৃশ্য চাঁদরে মুড়ে কফিনে বন্দি হয়ে যায় । কোন প্রতিবাদ নেই, এই পরিস্থিতি থেকে উত্তরনের নেই কি কোন উপায়। 

মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপব ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘‘কোভিড মহামারির সঙ্গে বাংলাদেশে ধর্ষণের মহামারি শুরু হয়ে গেছে৷

আর এই মহামারি ঠেকাতে সরকারের কোনো অগ্রাধিকারমূলক ব্যবস্থা আমরা দেখছি না৷ এখানে প্রধানমন্ত্রী না বললে কিছু হয় না৷ তাই ওবায়দুল কাদের সাহেব যা-ই বলুন না কেন আমরা তার ওপর আস্থা রাখতে পারছি না৷’’

“এই সরকার বলছে আগের সরকারের আমলেও এরকম হয়েছে৷ আমরা তো বলিনি যে হয়নি৷

তাই বলে এই সরকারের আমলে ওই অপরাধগুলো বৈধ হয়ে গেল?’’ জাতীর বিবেকের কাছে প্রশ্ন ?

এই বিচারহীনতাকে কেউ কেউ আবার ‘মিথ্যা’ ধর্ষণ মামলার পরিসংখ্যান হিসেবে ব্যবহারের চেষ্টা করেন৷ তারা বলতে চান, ধর্ষণ এবং নারী নির্যাতনের অধিকাংশ মামলাই মিথ্যা৷

এ প্রসঙ্গে আইনের এই অধ্যাপক বলেন, ‘‘বিচারহীনতার সুযোগে কেউ কেউ এ ধরনের কথা বলতেই পারেন৷ প্রায় অকার্যকর ফৌজদারি বিচার ব্যবস্থার কারণেই অপরাধীরা ছাড়া পাচ্ছে৷

কিন্তু নারী যে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন, তা তো আর মিথ্যা নয়৷ তাই যদি হবে, তাহলে আদালতে পুলিশ চার্জশিট দেয় কীভাবে? আসল কথা হলো, আমাদের আইনে তো সমস্যা আছেই, মূল্যবোধও নষ্ট হয়ে গেছে৷ তাই এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে৷’’

সব দেশই কোনো না কোনো ঘটনার পর ডিএনএ ডেটাবেইজ চালু অতিব জরুরী :

মুসলিম দেশ কুয়েত ২০১৫ সালের ২৬ জুন শিয়া মসজিদের ইমাম সাদির উপর আইএস-এর আত্মঘাতী হামলার পর ডিএনএ ডেটাবেইজ চালু সংক্রান্তে আইন পাস করেছে এবং ২০১৬-র মধ্যে ডেটাবেইজ তৈরির কাজ শেষ করার ঘোষণা দিয়েছে৷

তনু হত্যাকারীদের ধরা উপলক্ষ্যে ন্যাশনাল ডিএনএ ডাটাবেইজ তৈরির উদ্যোগ নিলে সেটি হবে হাজারো তনুর প্রতি সত্যিকারের জাস্টিস৷ প্রথমে গাইগুই করলেও সবার নিরাপত্তার স্বার্থে আমরা কিন্তু সিম রেজিস্ট্রেশনের ডেটাবেইজের কাজ প্রায় শেষ করে ফেলেছি৷ তাহলে ন্যাশনাল ডিএনএ ডেটাবেইজ কেন নয়?”

বাংলাদেশে ধর্ষণের ঘটনার সংখ্যা, তথ্য-উপাত্ত পর্যালোচনা করলে দেখা যায়:

এখানে দেশে বর্তমানে ‘ধর্ষণের সংস্কৃতি’ বিরাজ করছে। ‘ধর্ষণের সংস্কৃতি’ বলতে এমন এক সংস্কৃতিকে বোঝানো হয়, যেখানে সমাজের প্রত্যেক নারী, শিশু কিংবা কিশোরী বালিকা ধর্ষণের মতো পরিস্থিতির শিকার হতে পারে।

শুধু পুলিশ পরিসংখ্যান অনুযায়ী বাংলাদেশে ২০১৯ সালে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৫৪০০টি। এ তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশে ধর্ষণের হার ৩.৮০ অর্থাৎ প্রতি ১ লাখ নারী-নারীর মধ্যে প্রায় ৪ জন নারী-শিশুকেই ধর্ষণের শিকার হতে হয়েছে, যা স্মরণকালের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি।

আমরা দেখতে পাই ১৯৯১, ২০০১, ২০১১ ও ২০১৮ সালে প্রতি লাখে ধর্ষণের হার যথাক্রমে ০.৩৯ জন, ২.৩৭ জন, ২.৩৮ জন ও ২.৪৫ জন।

শুধু পরিসংখ্যান বিবেচনায় ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে ধর্ষণের এ হার বাড়ার পরিমাণ প্রায় প্রতি লাখে ১.৩৫ জন বা এক-তৃতীয়াংশ (বাংলাদেশ পুলিশ হেডকোয়ার্টার্স ওয়েবসাইট, ২০১৯)।

যদিও নারী ও শিশুর প্রতি সার্বিক সহিংসতা বা নির্যাতনের প্রকাশিত ঘটনার মাত্রা আরও অনেক বেশি। ২০১৭ ও ২০১৮ সালে যথাক্রমে প্রতি লাখে এ হার ৮.১৮ জন ও ৭.২১ জন।

আর ২০১৯ সালের প্রথম ৬ মাসে নারী ও শিশু নির্যাতনের ঘটনা ঘটেছে ১০ হাজার ১৫৯টি এবং হার বৃদ্ধির কথা বিবেচনা করলে প্রায় এটা আগের প্রায় দ্বিগুণ।

অন্যদিকে, আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) বলছে, ২০১৮ সালের তুলনায় ২০১৯ সালে ধর্ষণের সংখ্যা দ্বিগুণ হয়েছে।

২০১৮ সালে যেখানে মোট নারী ও শিশু ধর্ষণের সংখ্যা ছিল ৭৩২টি, সেখানে ২০১৯ সালে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১ হাজার ৪১৩টি (আসক, ২০২০)।

প্রকৃত ঘটনা এর চেয়েও আরও অনেক বেশি। পরিসংখ্যান বিবেচনায় বাংলাদেশে যে ধর্ষণের সংস্কৃতি বিরাজমান, তা অস্বীকার করার কোনো সুযোগ এসব পরিসংখ্যান দেয় না।

ডয়েচে ভেলের তথ্যানুযায়ী:

বিদেশি সমীক্ষা মোতাবেক বাংলাদেশে ধর্ষণের হার প্রতি লাখে ১০ জন এবং সমগ্র বিশ্বে আমাদের অবস্থান ৪০তম, বর্তমানে ৪১তম।

ধর্ষণের বেলায় আমাদের থেকে অধঃপতিত দেশগুলোর মধ্যে দক্ষিণ আফ্রিকা, লেসোথো, বোতসোয়ানা, সোয়াজিল্যান্ড ও সুইডেনে ধর্ষণের হার যথাক্রমে প্রতি লাখে ১৩২ জন, ৯৩ জন, ৮৩ জন, ৭৮ জন ও ৬৩ জন (ডয়েচে ভেলে, ৬ অক্টোবর ২০১৯)।

কিন্তু আমার মতে, এসব দেশের মধ্যে বেশির ভাগ আফ্রিকার দারিদ্র্য ও গৃহযুদ্ধপীড়িত দেশ।

যদিও পরিসংখ্যান অনুযায়ী ভারতে প্রতি লাখে ৮ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়, যা বাংলাদেশের তুলনায় কম।

পাশ্চাত্যের উন্নত দেশগুলোতে যেখানে বাংলাদেশের তুলনায় ধর্ষণের হার বেশি, সেখানে ব্যাপক জৈবিক, সাংস্কৃতিক, শ্রেণিগত ও নগরকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক ও সামাজিক বৈষম্য বিরাজমান।

উল্লিখিত প্রতিটি রাষ্ট্রই বিভিন্ন বৈশিষ্ট্যগত উপাদানে ‘অসমজাতীয়’।

অপরাধ বিশ্লেষকরা বলছেন, অপরাধীরা এক দিনে হয়নি৷ তারা দলীয় ক্ষমতার জোরে এবং পুলিশের সহযোগিতায় তৈরি হয়েছে৷

পুলিশ নির্যাতিতদের পক্ষে কাজ করে না, কাজ করে ক্ষমতাবনদের পক্ষে৷ ফলে অনেক নির্যাতন, ধর্ষণের ঘটনা জানাই যায় না৷

বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ও সংবাদমাধ্যমের ভূমিকার কারণে যেগুলো জানা যায়, সেগুলো নিয়েই একটু তৎপরতা দেখা যায় বলে তারা মনে করেন৷

ড. মিজান বলেন, ‘‘এত কথা বলে লাভ কী? রাজনৈতিক দলগুলো কি পরিশুদ্ধ হওয়ার কোনো উদ্যোগ নিয়েছে?’’

মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান আরো বলেন,যারা বিবৃতি দিয়ে বলেন ধর্ষক বা অপরাধীরা অনুপ্রবেশকারী, তারা কিন্তু শিকার করে নিচ্ছেন যে রাজনৈতিক পরিচয়েই তারা অপরাধ করেছেন৷ এখন তার দায় অন্যদলের ওপর চাপানোর চেষ্টা করছেন৷

তাই তিনি মনে করেন, ‘‘এখন যে নতুন ধরনের বিবৃতি দিয়ে শাস্তির কথা বলা হচ্ছে, সরকারে দায়ের কথা বলা হচ্ছে, এটাও দায় এড়ানোর কৌশল৷ আসলে কাজে না দেখানো পর্যন্ত তাদের কথায় আস্থা রাখা যায় না৷’’

বিগত এছাড়া ১৮ জুলাই ২০১৯, দেশের সমসাময়িকপ্রেক্ষাপট ও সমসাময়িক অবস্থা থেকে উত্তরণের লক্ষে১৮ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন ধর্ষণের হয়রানি কমাতে এবং বিচরিক প্রক্রিয়ায় ধর্ষণ প্রমাণে সহায়ক হবে:

মহমান্য হাইকোর্টের ১৮ দফা নির্দেশনার মধ্যে দ্রুত অভিযোগ নেয়া,

দ্রুত ডাক্তারি পরীক্ষা করানো ও ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ডিএনএ টেস্ট অন্যতম৷

অবহেলা হলে পুলিশের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হবে৷

ফলে ধর্ষণের অপরাধ প্রমাণ আগের চেয়ে আরো সহজ হবে৷

শুধু ধর্ষণ নয়, সব ধরণের যৌন হয়রানির ব্যাপারেই আদালতের এই নির্দেশনা৷

আর ঘটনার শিকার নারী যে থানায় যাবেন, সেই থানাকেই মামলা নিতে হবে৷ তাঁদের থানা এলাকার ঘটনা নয় বলে এড়িয়ে যাওয়া যাবে না৷

২০১৫ সালের ২১ মে রাতে ঢাকায় সংঘবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হন এক গারো তরুণী৷ রাত ৯টার দিকে কাজ শেষে ওই তরুণী কুড়িল থেকে উত্তরার বাসায় যাওয়ার পথে একটি সিএনজি স্টেশনের কাছে দাঁড়িয়ে ছিলেন৷

তখন একটি মাইক্রোবাস থেকে দুই যুবক নেমে অস্ত্র দেখিয়ে মুখ চেপে ধরে তাঁকে গাড়িতে তুলে নেয়৷ ওই গাড়িতেই পাঁচজন তাঁকে ধর্ষণ করে৷

রাত পৌনে ১১টার দিকে তাকে দৃর্বৃত্তরা উত্তরার একটি সড়কে ফেলে দিয়ে মাইক্রোবাসটি নিয়ে পালিয়ে যায়৷

রাতেই ওই তরুণী পরিবারের সদস্যদের নিয়ে প্রথমে তুরাগ থানায় মামলা করতে যান৷ কিন্তু অন্য এলাকার ঘটনা বলে পুলিশ মামলা না নিয়ে তাঁদের ভোররাত ৪টার দিকে ফিরিয়ে দেয়৷

এরপর ভোর ৫টার দিকে তাঁরা যান গুলশান থানায়৷ সেখানেও তাঁদের এলাকার ঘটনা না বলে মামলা নেয়া হয়নি৷ 

সবশেষ সকাল সাড়ে ৬টার দিকে ভাটারা থানায় গেলে বলা হয়, ওসি নেই, অপেক্ষা করতে হবে৷

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওসি আসেন এবং তাঁদের কথা শুনে সাড়ে ১২টার দিকে মামলা নেয় ভাটারা থানা৷ ওই তরুণীকে চিকিৎসা ও ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য  হাসপাতালে নেয়া হয় আরো একদিন পর৷

এই ঘটনায় সংক্ষুব্ধ হয়ে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) ও ব্লাস্টসহ পাঁচটি মানবাধিকার সংগঠন বাদী হয়ে হাইকোর্টে রিট করে৷

রিটের শুনানি করে বিচারপতি ফারাহ মাহবুব ও কাজী মো. ইজারুল হক আকন্দের বেঞ্চ ওই বছরের ২৫ মে রুল জারি করে৷ ২০১৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি রায় দেয় আদালত৷

আদালত তখন কিছু নির্দেশনাও দেয়৷ রবিবার প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ রায়ে ধর্ষণের বিষয়ে ১৮ দফা নির্দেশনাসহ পরামর্শ দেন আদালত৷

আদালতের নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন বা এ সংক্রান্ত ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগ লিখিতভাবে রেকর্ড করবেন৷ এক্ষেত্রে ওই থানার আওতার মধ্যে ঘটনা সংঘটিত হোক-বা-না-হোক, সেটা মুখ্য নয়৷

অবিলম্বে এমন একটি সার্ভার তৈরি করতে হবে, যেন এ ধরনের অভিযোগ সরাসরি অনলাইনের মাধ্যমে করা যায়৷সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া কোনও পুলিশ অফিসার যদি অভিযোগ গ্রহণে বিলম্ব করেন, তবে তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে সুনির্দিষ্ট বিধান তৈরি করতে হবে৷

রায়ে বলা হয়েছে, ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নমূলক ঘটনায় অভিযোগ পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে বাধ্যতামূলকভাবে ডিএনএ পরীক্ষা করাতে হবে৷ একইসঙ্গে এ ধরনের ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ডিএনএসহ অন্যান্য নমুনা সংগ্রহ করে তা ফরেনসিক ল্যাবে পাঠাতে হবে৷

এছাড়া যেকোনও রিপোর্ট সংগ্রহ বা স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তদন্তকারী সংস্থার যেকোনও ব্যর্থতা শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য করতে বলা হয়েছে৷ পাশাপাশি দ্রুত মামলার তদন্ত কর্মকর্তাকে তদন্ত প্রতিবেদন প্রস্তুতের নির্দেশ দেয়া হয়েছে৷

প্রত্যেক থানায় কনস্টেবলের নীচে নয়, এমন একজন নারী পুলিশ রাখতে হবে৷ অভিযোগ পাওয়ার পর ডিউটি অফিসার একজন নারী কর্মকর্তার (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মাধ্যমে ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্য, শুভাকাঙ্খী, সমাজকর্মী বা আইনজীবীর উপস্থিতিতে অভিযোগ রেকর্ড করবেন৷

সবক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর সমস্ত তথ্য সংরক্ষণে গোপনীয়তা রক্ষার নির্দেশ দেয়া হয়েছে৷ প্রত্যেক থানায় ভুক্তভোগীদের জন্য সহযোগিতাপূর্ণ নারী-সমাজকর্মীদের একটি তালিকা রাখার কথা বলা হয়েছে৷ অধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্রের দেয়া অধিকার সম্পর্কে ভুক্তভোগীকে সচেতন করতে হবে৷

আদালতের নির্দেশনায় আরো বলা হয়েছে, অভিযোগ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে ডিউটি অফিসার ‘ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টার’কে জানাবেন৷ ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের শিকার কোনও নারী বা মেয়ে করণীয় সম্পর্কে বুঝতে অক্ষম হলে, তাঁকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে হবে৷

লিখিত তথ্য গ্রহণের পর কোনও ধরনের বিলম্ব না করে তদন্তকারী কর্মকর্তা ভুক্তভোগীকে একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পাঠাবেন৷ ভুক্তভোগীর দ্রুত সারিয়ে তুলতে ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টারে সার্বক্ষণিক প্রয়োজনীয় সুবিধা থাকতে হবে৷

নারী ও শিশুদের ওপর সংঘটিত অপরাধের বিষয়ে ‘১০৯’ নাম্বারে ফোন করে যেন প্রতিকার পেতে পারে, সে বিষয়টি প্রিন্ট, ইলেক্ট্রনিক ও ওয়েব সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালানোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে৷

ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও পরামর্শ দেয়ার জন্য প্রত্যেক মহানগরে একটি করে সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করার নির্দেশ দিয়েছে আদালত৷

আদালত বলেছে, এই ১৮ দফা নির্দেশনার ভিত্তিতে সুনির্দষ্ট আইন প্রণয়ন করতে হবে৷

সুনির্দিষ্ট আইন হওয়ার আগ পর্যন্ত এই নীতিমালা মেনে চলতে হবে৷

হাইকোর্টের এই সুপারিশ, পর্যবেক্ষণ ও নির্দেশনার আলোকে নীতিমালা ও আইন তৈরি করতে আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ মহাপরিদর্শককে পদক্ষেপ গ্রহণ করতে বলা হয়েছে৷

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক অ্যাডভোকেট সুলতানা কামাল ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘ধর্ষণের শিকার নারী অভিযোগ করতে গিয়ে এবং ঘটনা প্রমাণ করতে নানা হয়রানির শিকার হন৷

আর ডাক্তারি পরীক্ষা দেরি হলে ধর্ষণের অনেক আলামত নষ্ট হয়ে যায়৷ তার প্রতিকার পেতেই আমরা ওই রিটটি করেছিলাম৷

আদালত যে ১৮ দফা নির্দেশনা দিয়েছেন তাতে ভুক্তভোগীর হয়রানি কমবে এবং ঘটনা প্রমাণ আগের চেয়ে সহজ হবে৷’’

তিনি বলেন, ‘‘আদালতের নির্দেশনা অনুয়ায়ী, থানা মামলা নিতে আর দেরি করার সুযোগ পাবে না, কারণ যে থানায়ই ভিকটিম হাজির হবেন, সেই থানাকেই মামলা নিতে হবে৷

আর ডাক্তারি পরীক্ষা করাতে হবে মামলা দেয়ার পরপরই৷

এরফলে ধর্ষণের আলামত পাওয়া যাবে৷ ডিএনএ টেস্ট বাধ্যতামূলক এবং তা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে করার যে নির্দেশ হাইকোর্ট দিয়েছেন,

তা-ও অনেক সহায়ক হবে ধর্ষণের শিকার নারীর জন্য৷ ডিএনএ টেষ্টের মাধ্যমে ধর্ষককে চিহ্নিত করা সহজ হবে, কারণ, ঘটনাস্থলে ধর্ষকের ডিএনএ আলামত থাকে৷’’

তিনি আরো বলেন, ‘‘এখন আদালতের এই নির্দেশনা কার্যকর করা এবং দ্রুত আইন ও বিধান তৈরি করা জরুরি৷

এই নির্দেশনা পালন না করলে পুলিশ কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে শাস্তির যে বিধান রাখা হয়েছে, সেটি ভালো দিক৷ এর ফলে পুলিশ কর্মকর্তারা এটা মানতে সক্রিয় হবেন৷’’

আর ব্যারিস্টার মিতি সানজানা ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘এর আগেই কর্মস্থলে যৌন হয়রানি বন্ধে প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে কমিটি করার নির্দেশ দিয়েছেন উচ্চ আদালত৷

আর টু-ফিঙ্গার টেস্টও নিষিদ্ধ করেছেন৷ কিন্তু অনেক ক্ষেত্রেই আমরা তা বাস্তবায়ন হতে দেখি না৷ আমাদের সবাইকে প্রথম যেটা বুঝতে হবে তা হলো, হাইকোর্ট  ধর্ষণ নিয়ে যে ১৮ দফা নির্দেশনা দিয়েছে, সেটা আইন৷

এই আইন মানা বাধ্যতামূলক৷ আইন না হওয়া পর্যন্ত এটাই আইন৷’’

তিনি বলেন, ‘‘হাইকোর্টের এই ১৮ দফা নির্দেশনা বাস্তবায়নে সরকারকে সুনির্দিষ্টভাবে বলা হয়েছে৷
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়, নারী ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশ মহাপরিদর্শককে নির্দেশ দেয়া হয়েছে৷
সুতরাং সরকারকে এটা কার্যকর করতে হবে৷

তবে মিডিয়াকেও কার্যকর ভূমিকা নিতে হবে৷ আদালতের রায়ে সেই নির্দেশনাও আছে৷

ব্যাপক প্রচারের মাধ্যমে হাইকোর্টের এই নির্দেশনা বাস্তবায়নে সহায়তা করতে হবে৷ নিতে হবে একটি সমন্বিত উদ্যোগ৷’

১৮ দফা নির্দেশনা :

১. ধর্ষণ, যৌননিপীড়ন বা এ-সংক্রান্ত ঘটনায় থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তাৎক্ষণিকভাবে অভিযোগ লিখিতভাবে রেকর্ড করবেন।

এক্ষেত্রে ওই থানার আওতার মধ্যে ঘটনা সংঘটিত হোক বা না হোক, সেটা মুখ্য নয়।

২. অবিলম্বে এমন একটি সার্ভার তৈরি করতে হবে, যাতে এ ধরনের অভিযোগ সরাসরি অনলাইনের মাধ্যমে করা যায়।

৩. সুনির্দিষ্ট কারণ ছাড়া কোনো পুলিশ অফিসার যদি অভিযোগ গ্রহণে বিলম্ব করে, তবে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের সুনির্দিষ্ট বিধান থাকতে হবে।

৪. প্রত্যেক থানায় কনস্টেবলের নিচে নয়, এমন একজন নারী পুলিশ রাখতে হবে।

অভিযোগ পাওয়ার পর ডিউটি অফিসার একজন নারী কর্মকর্তার (দায়িত্বপ্রাপ্ত) মাধ্যমে ও ভুক্তভোগীর পরিবারের সদস্য, শুভাকাঙ্ক্ষী, সমাজকর্মী বা আইনজীবীর উপস্থিতিতে অভিযোগ রেকর্ড করবেন।

৫. সবক্ষেত্রে ভুক্তভোগীর সমস্ত তথ্য সংরক্ষণে গোপনীয়তা রক্ষা করতে হবে।

৬. প্রত্যেক থানায় ভুক্তভোগীদের জন্য সহযোগিতাপূর্ণ নারী সমাজকর্মীদের একটি তালিকা তৈরি রাখতে হবে।

৭. ভুক্তভোগীর আইনজীবী, সংশ্নিষ্ট বন্ধু, সমাজকর্মী অথবা নিরাপত্তা কর্মকর্তার উপস্থিতিতে তার অভিযোগ রেকর্ড করতে হবে।

৮. অধিকার সুরক্ষায় রাষ্ট্রের দেওয়া অধিকার সম্পর্কে ভুক্তভোগীকে সচেতন করতে হবে এবং সে চাইলে যে কোনো তথ্য প্রদান করতে হবে।

৯. অভিযোগ পাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে ডিউটি অফিসারকে ‘ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টার’-এ অবহিত করতে হবে।

১০. ধর্ষণ বা যৌন নিপীড়নের শিকার কোনো নারী বা মেয়ে করণীয় সম্পর্কে বুঝতে অক্ষম হলে তাকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিতে হবে।

১১. লিখিত তথ্য গ্রহণের পর কোনো প্রকার বিলম্ব না করে তদন্ত কর্মকর্তা ভুক্তভোগীকে একজন নারী পুলিশ কর্মকর্তার সঙ্গে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রেরণ করবেন।

১২. ভুক্তভোগীর দ্রুত সেরে উঠতে ভিক্টিম সাপোর্ট সেন্টারে সার্বক্ষণিক প্রয়োজনীয় সুবিধা থাকতে হবে।

১৩. ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নমূলক সব ঘটনায় বাধ্যতামূলকভাবে অভিযোগ প্রাপ্তির ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ডিএনএ পরীক্ষা করাতে হবে।

১৪. অপরাধ ঘটনার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ডিএনএসহ অন্যান্য নমুনা সংগ্রহ করে তা ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবে পাঠাতে হবে।

১৫. যে কোনো রিপোর্ট সংগ্রহ বা স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে তদন্ত সংস্থার যে কোনো ব্যর্থতা শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে গণ্য হবে।

১৬. যত দ্রুত সম্ভব মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তদন্ত রিপোর্ট প্রস্তুত করবেন।

১৭. নারী ও শিশুদের ওপর সংঘটিত অপরাধের ক্ষেত্রে ‘১০৯২১’ নম্বরে ফোন করে যেন প্রতিকার পেতে পারে, সে বিষয়টি প্রিন্ট, ইলেকট্রনিক এবং ওয়েব সংবাদমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা চালাতে হবে। এবং

১৮. ভুক্তভোগীর নিরাপত্তা, প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং পরামর্শ দানের জন্য প্রত্যেক মহানগরে একটি করে সহায়তা কেন্দ্র স্থাপন করতে হবে। 

বাংলাদেশে ধর্ষণ মামলার বিচারে হাইকোর্টের সাত নির্দেশনা:

বাংলাদেশে ধর্ষণ কিংবা ধর্ষণ পরবর্তী হত্যা মামলার বিচারের প্রশ্নে হাইকোর্ট সাত দফা নির্দেশনা জারি করেছে।১৮ জুলাই ২০১৯।

বাংলাদেশে ধর্ষণ কিংবা ধর্ষণ পরবর্তী হত্যা মামলার বিচারের প্রশ্নে নিম্ন আদালতের বিচারক, পাবলিক প্রসিকিউটর পুলিশসহ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের জন্য হাইকোর্ট একটি সাত দফা নির্দেশনা জারি করেছেন।

বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম এবং বিচারপতি মোঃ মোস্তাফিজুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ সংবিধানের ১০৯ অনুচ্ছেদের ক্ষমতাবলে এসব নির্দেশনা দেন।

যার মধ্যে দ্রুত বিচার নিষ্পত্তি, একটানা বিচারকাজ পরিচালনা, সাক্ষীর উপস্থিতি সেইসঙ্গে সাক্ষীর নিরাপত্তার বিষয়গুলো উঠে এসেছে।

বাংলাদেশে একের পর এক ধর্ষণ এবং হত্যার পটভূমিতে উচ্চ আদালত থেকে আজ বৃহস্পতিবার যে সাতটি নির্দেশনা এসেছে:

দেশের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালগুলোতে বিচারাধীন ধর্ষণ ও ধর্ষণ পরবর্তী হত্যা মামলাগুলো অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আইনের নির্ধারিত সময়সীমার (বিচারের জন্য মামলা প্রাপ্তির তারিখ থেকে ১৮০ দিন) মধ্যে দ্রুত সম্পন্ন করতে হবে।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের বিচারকদের সবধরনের আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া যাচ্ছে।

ট্রাইব্যুনালগুলোকে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন-২০০০ এর ধারা ২০ এর বিধান অনুসারে মামলার শুনানি শুরু হলে তা শেষ না হওয়া পর্যন্ত প্রতি কর্মদিবসে একটানা মামলা পরিচালনা করতে হবে।

ধার্য তারিখে সাক্ষী উপস্থিতি ও সাক্ষীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রতি জেলায় অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন), সিভিল সার্জনের একজন প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটরের সমন্বয়ে একটি মনিটরিং কমিটি গঠন করতে হবে।

ট্রাইব্যুনালে পাবলিক প্রসিকিউটর কমিটির সমন্বয়কের দায়িত্বে থাকবেন এবং কমিটির কার্যক্রম সম্পর্কে প্রতি মাসে সুপ্রিম কোর্ট, স্বরাষ্ট্র এবং আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে প্রতিবেদন পাঠাবেন।

যে সব জেলায় একাধিক ট্রাইব্যুনাল রয়েছে সেসব জেলায় সব ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মনিটরিং কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত হবেন এবং তাদের মধ্যে যিনি জ্যেষ্ঠ তিনি সমন্বয়কের দায়িত্ব পালন করবেন।

বিচারহীনতার সংস্কৃতি ও প্রতিবন্ধকতা:

ধর্ষণ মামলায় সাক্ষ্য আইনের ১৫৫(৪) ধারা:সাক্ষ্য আইনের ১৫৫ (৪) ধারার বিলোপ চেয়েছেন রাজধানীর বেশ কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা।

তারা অভিযোগ করেছেন, এই ধারা অনুযায়ী মামলার জেরার সময় ধর্ষণের শিকার নারী পুনরায় হেনস্তার শিকার হন, যা বন্ধ করতে হবে।রবিবার (১১ অক্টোবর) দুপুরে রাজধানীর সেগুনবাগিচায়

বাংলাদেশ ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দেশের নামিদামি কয়েকটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই দাবি জানান।

লিখিত বক্তব্যে শিক্ষার্থী তানহা তানজিন এই সাত দফা দাবি তুলে ধরেন:

১. ধর্ষণ আইন পুনর্বিবেচনার মাধ্যমে ধর্ষকের এবং সীমাভেদে সব ধরনের যৌন হয়রানির সর্বোচ্চ শাস্তি আমৃত্যু কারাদণ্ড নিশ্চিত করতে হবে।

ভিকটিমের প্রাণ বিপন্ন করা রুখতে পরিবর্তনযোগ্য লঘু শাস্তির উল্লেখ থাকতে হবে।

বাংলাদেশ সংবিধানের ৩৭৫ ধারা অনুসারে উল্লিখিত ধর্ষণের সম্মতির সংজ্ঞা সংশোধন করতে হবে।

যাতে ধর্ষণের শিকার হওয়া ছেলে শিশু, পুরুষ, যৌনকর্মী, লিঙ্গ  বৈচিত্র্যময় মানুষ এবং হিজড়ারাও যেন আইনের শরণাপন্ন হতে পারেন।

পাহাড়-সমতলে সব ধরনের যৌন হয়রানি, ধর্ষণ ও সামাজিক নিপীড়নের অভিযোগের নিরপেক্ষ বিচার করতে হবে। বৈবাহিক ধর্ষণকে ধর্ষণের আওতায় এনে বিচার করতে হবে।

২. ধর্ষণজনিত ঘটনা বা অপরাধের জন্য আলাদা দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল গঠন করা যেতে পারে। যাতে ৩০-৬০ দিনের মধ্যে বিচার সম্পন্ন করা যায়।

এতে ‍পূর্ববর্তী সব ধর্ষণ মামলার রায় আগামী ছয় মাসের মধ্যে নিষ্পত্তি সম্পন্ন করতে হবে।

৩. সাক্ষ্য আইনের ১৫৫(৪) ধারার বিলোপ করতে হবে।

এই ধারায় জেরা করার সময় যাতে ধর্ষণের শিকার নারীকে চরিত্র, পেশা, পোশাক ইত্যাদি নিয়ে পুলিশ, আইনজীবী ও বিচারকের নানা প্রশ্নের মুখোমুখি হতে না হয়।

প্রয়োজনে এর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

ধর্ষণের শিকার ভুক্তভোগীদের মামলা পরিচালনাকালে লিঙ্গীয় সংবেদনশীল আচরণ করতে পুলিশ, আইনজীবী, বিচারক ও  সমাজকর্মীদের প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে।

৪. নির্যাতণের শিকার হওয়ার পর পরিবারের ওপর কোনও প্রভাবশালী ব্যক্তির চাপপ্রয়োগ বা ধর্ষককে আশ্রয় প্রদানকারীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে।

৫. দেশের প্রতিটি মাদ্রাসা, স্কুল-কলেজসহ সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যৌনশিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করতে হবে। পাঠ্যপুস্তক ও মিডিয়াতে এবং সাহিত্য, টিভি নাটক, সিনেমা, বিজ্ঞাপনে নারীকে পণ্য হিসেবে,

উপস্থাপন ও নারীর প্রতি অবমাননা ও বৈষম্যমূলক ছবি, নির্দেশনা ও শব্দ চয়ন পরিহার করতে হবে।

৬. সাইবার মাধ্যমকে ব্যবহার করে নারীর প্রতি সর্ব প্রকার সহিংসতার বিরুদ্ধে অতিদ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে।

৭. ধর্ষণের আলামত সংগ্রহ ও ডিএনএ পরীক্ষার জন্য প্রতিটি উপজেলায় মেডিক্যাল টিম গঠন করতে হবে, যারা স্থানীয় প্রভাব থেকে মুক্ত হয়ে অবকাঠামোর কাছে জবাবদিহি করবে।

দেশের সব প্রান্তে বাল্যবিবাহ বন্ধ করতে হবে।

সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, সরকার সাধারণ শিক্ষার্থীদের এসব দাবি মেনে নিয়ে যথাযথ আইন প্রণয়ন করে। দাবি মানা না হলে পরবর্তী সময়ে আন্দোলন কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

মৃত্যুদণ্ডই-কি-ধর্ষণের-সমাধান:

‘একজনকে ফাঁসি দিলেই কি এদেশে ধর্ষণ বন্ধ হবে?

বন্ধ হবে না।

বরং এতে ধর্ষক মনে করবে, আমার তো ফাঁসি হয়ে যাবে, তাই মেরেই ফেলি।

এতে হিতে বিপরীত হবে। তাই আমরা আমৃত্যু কারাদণ্ড চাই।’

৮) ক্ষমতার সঙ্গে ধর্ষকের সংযোগ ও তার ফল:

বাংলাদেশের বেশ কয়েকটি ঘটনায় দেখে গেছে ধর্ষণের অভিযোগে অভিযুক্তরা ক্ষমতার সঙ্গে যুক্ত৷ এমনকি ক্ষমতাসীন দলের সহযোগী বা অঙ্গ সংগঠনের নেতৃত্বেও ছিল কেউ কেউ৷

বিশ্লেষকরা বলছেন, ক্ষমতার সঙ্গে ধর্ষণের সরাসরি সংযোগ আছে৷বগুড়ায় ধর্ষণ এবং পরে ধর্ষণের শিকার মেয়ে ও মাকে সালিশের নামে মাথা ন্যাড়া করে দেয়ার ঘটনায় বাংলাদেশে প্রতিবাদ অব্যহত৷

পুলিশ ধর্ষণ মামলার আসামি তুফান এবং তার সহযোগীদের এরইমধ্যে গ্রেপ্তার করেছে৷

তুফান বগুড়া শহর শ্রমিক লীগের আহ্বায়ক ছিল৷ তাকে শ্রমিক লীগ থেকেও বহিষ্কার করা হয়৷ শুধু তাই নয়, এ ঘটনায় তুফানের বড় ভাই আব্দুল মতিনকে বগুড়া শহর যুবলীগের যুগ্ম সম্পাকের পদ থেকেও বহিষ্কার করা হয়৷

তবে এই ধর্ষণের ঘটনা প্রকাশই হতো না যদি না ধর্ষণপরবর্তি নির্যাতনের খবর, অর্থাৎ মা-মায়ের মাথা ন্যাড়া করার খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ না হতো৷

সরকারগুলো এখানে ধর্ষণের সংস্কৃতিকে পৃষ্ঠপোষকতা করে বিভিন্নভাবে।

৯) দলীয় রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত কর্মী বা দলের পৃষ্ঠপোষকতায় এ ধরনের কার্যক্রম পরিচালিত হয়। টাঙ্গাইলে গণধর্ষণের সঙ্গে যুক্ত বলে যে ব্যক্তির নাম উঠে এসেছে, তিনি যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত।

এর আগে গত বছর সাতক্ষীরায় ছাত্রলীগের নেতার কাছে সংস্কৃতিকর্মী ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন। এর আগে জাবি, শাবির ঘটনা তো সবার জানা।

১০) পুলিশ-বিডিআর-সেনাবাহিনীতে কর্মরত এমনকি স্থানীয় প্রশাসনে থাকা জনপ্রতিনিধিরা ধর্ষণের ঘটনার সঙ্গে যুক্ত হলেও যথাযথ বিচার হচ্ছে না।

১১)  ইলেকট্রনিক মিডিয়া ও মিডিয়ার বাইরে হলগুলোতে নাটক-সিনেমা-যাত্রার বিভিন্ন প্রদর্শনীতে কুরুচিপূর্ণ স্থূল পর্নো ভিডিও অবাধে নির্মিত ও প্রদর্শিত এমনকি বাজারজাত হচ্ছে।

তার একটি প্রদর্শনীগত ফলাফল (demonstration effect) রয়েছে ।

যাই হোক, এ পর্যন্ত যা জানা গেছে তাতে স্পষ্ট যে, তুফান ও তার পরিবারের সদস্যরা রাজনীতির জোরেই দীর্ঘদিন ধরে নানারকম অপরাধ করে আসছিল৷

বগুড়ার সাংবাদিক নাজমুল হুদা নাসিম ডয়চে ভেলেকে জানান, ২০১৫ সালে তুফান দুই বস্তা ফেনসিডিলসহ র‌্যাবের হাতে ধরা পড়েছিল৷

পরে ছাড়া পেয়ে তার বড় ভাই যুবলীগ নেতা মতিনের সহয়াতায় শ্রমিক লীগে যোগ দিয়ে অল্প দিনেই বড় নেতা হয়ে ওঠে সে৷

তাদের দুই ভাইয়ের ভিরুদ্ধে অনেক মামলা থাকলেও, তাদের পুলিশ গ্রেপ্তার করেনি৷ পুলিশের কাগজে দেখানো হয় যে, তারা পলাতক৷

অথচ তারা প্রকাশ্যেই গোটা এলাকা দাপিয়ে বেরিয়েছে৷ মন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে একই মঞ্চে বক্তৃতা দিয়েছে, এমনকি ছবিও তুলেছে৷’’

নাসিম আরো জানান, ‘‘তারা রাজনৈতিকভাবে এতটাই ক্ষমতাধর যে পুরো পরিবারটি মিলে বগুড়া শহরে মাদকের সিন্ডিকেট গড়ে তোলার পরও পুলিশ তাদের কিছুই করতে পারেনি৷’’

১২) ধর্ষিত নারী ও শিশুর অধিকাংশেরই অবস্থান সামাজিকভাবে প্রান্তিক।

মূলত ধর্ষণের প্রান্তিক পর্যায়ের খেটে খাওয়া পোশাককর্মী, নিম্ন আয়ের পেশাজীবী নারী, দরিদ্র স্বল্পশিক্ষিত ছাত্রী, গৃহবধূ এবং আদিবাসী নারী।

পুলিশ স্টাফ কলেজের (২০১৮) গবেষণা অনুযায়ী,

  • ধর্ষিত নারী ও শিশুদের ৭০.৯ শতাংশের মাসিক কোনো আয় নেই এবং
  • ১৯.৪ শতাংশ নারী ও শিশুর মাসিক আয় ১০ হাজার টাকারও নিচে।
  • এদের গড় মাসিক আয় মাত্র ২ হাজার ৮৪১ টাকা।

যার কারণে এসব নারী ও শিশুর মামলা, বিচারিক প্রক্রিয়ায় সমান অংশগ্রহণের সুযোগ থাকে না, ন্যায়বিচারও তাঁরা পান না।

বেশির ভাগ ক্ষেত্রে নারী ও শিশুদের বিপরীতে ধর্ষকদের অর্থনৈতিক, সামাজিক অবস্থান ও মর্যাদা ভালো।

একই গবেষণার তথ্যানুযায়ী, `ধর্ষকদের সামাজিক অবস্থানের মধ্যে ১৪.৯ শতাংশ ধনিক শ্রেণির সন্তান, ৯.১ শতাংশ রাজনীতিবিদের সন্তান/আত্মীয় এবং ৪.৬ শতাংশ।’

১৩) রাজনৈতিক নেতা-কর্মী।

এখানে প্রান্তিক ধর্ষিত নারী ও শিশুর সামাজিক অবস্থানের সঙ্গে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী ও সামাজিকভাবে ক্ষমতাবান ধর্ষকদের সামাজিক বৈষম্যই ধর্ষণের পেছনে অনুঘটক হিসেবে কাজ করে।

আইন ও সালিশ কেন্দ্রের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও মানবাধিকার কর্মী নূর খান ডয়চে ভেলেকে বলেন,

‘‘বগুড়ার এই শ্রমিক লীগ নেতা কেমন, সেটা যে তাদের উপরের সারির নেতারা জানতেন না, তা নয়৷ তারা জানতেন৷

আমার ধারণা, তারা আরো অনেকের খবর জানেন এবং প্রশ্রয় দেন৷ এই ঘটনা সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ায় তারা নিজের মুখ রাক্ষায় ব্যবস্থা নিয়েছেন৷’’

গত বছর সিলেটে খাদিজা আক্তার নারগিসকে কুপিয়ে হত্যার চেষ্টা করে সিলেট শাহজাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সহ সম্পাদক বদরুল৷ বদরুলের প্রেমের প্রস্তাবে রাজি না হওয়ায় নারগিসকে সে পরপারে পাঠিয়ে দেয়ার চেষ্টা করেছিল৷

এই ঘটনাও সংবাদমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার পর প্রতিবাদের মুখে পড়ে বদরুলকে ছাত্রলীগ থেকে বহিষ্কার ও গ্রেপ্তার করা হয়৷ বিচারে তার যাবজ্জীবন কারাদণ্ডও হয়৷

তবে বদরুল যে বেশ কয়েক বছর ধরে নারগিসের ওপর যৌন হয়ারানি চালিয়ে আসছিল, সেটা নিয়ে কিন্তু কোনো ব্যবস্থাই নেয়নি রাজনৈতিক দলটি৷

জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মিজানুর রহমান ডয়চে ভেলেকে বলেন, ‘‘যার ক্ষমতা আছে সে এক ধরনের বিচারহীনতার সুবিধা ভোগ করে৷ সেই সুবিধা তাকে নানা অপকর্মে প্ররোচিত করে৷ এর মধ্যে ধর্ষণ একটি৷’’

তিনি বগুড়ার ঘটনা উল্লেখ করে বলেন, ‘‘হতে পারে জাতীয় পর্যায়ের অনেক নেতা ওই শ্রমিক লীগ নেতার চরিত্র সম্পর্কে জানতেন না৷ কিন্তু যিনি শ্রমিক লীগের শীর্ষ নেতা, তিনি এ সব তথ্য জানবেন না কেন?’’

কুমিল্লার তনু হত্যা এবং ধর্ষণের ঘটনায় এখনো কেউ গ্রেপ্তার হয়নি বা পুলিশ গ্রেপ্তার করেনি৷ ঐ ঘটনাটি ঘটেছিল কুমিল্লা ক্যান্টনমেন্টের ভিতর৷ অনেক আন্দোলন ও প্রতিবাদ হলেও কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি৷

এমনকি যারা জড়িত বলে তনুর বাবা তদন্তকারীদের জানিয়েছেন তাদের জিজ্ঞাসাবাদও করা হয়নি৷ স্পর্শকাতর ও নিয়ম নীতির দোহাই দিয়ে অনেক তথ্য আড়াল করা হচ্ছে৷

ড. মিজান বলেন, ‘‘ক্ষমতার নানা দিক এবং রূপ আছে৷ শুধু রাজনৈতি নয়, অর্থবিত্ত এবং কাঠামোরও ক্ষমতা আছে৷ সেই ক্ষমতার প্রভাবে অনেক ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনা আড়ালে চলে যাচ্ছে৷’’

প্রথমে লোক দেখানো গ্রেপ্তার করা হলেও পরে গিয়ে তদন্ত এবং বিচার পর্যায়ে প্রভাব বিস্তার করে ধর্ষকরা৷

আর ড. মিজান বলেন, ‘‘রাজনীতির সুস্থ চর্চা ন্যায় বিচার নিশ্চিত করে৷ উন্নত বিশ্বেও যাঁরা রাজনীতি করেন, তাঁরাই ক্ষমতাবান৷

কিন্তু তাঁরা জানেন যে, তাঁদের বিচারব্যবস্থায় অপরাধ করে ছাড় পাওয়া প্রায় অসম্ভব৷ তাই তারা অপরাধ থেকে নিবৃত্ত থাকেন৷’’

নূর খান বলেন, ‘‘রাজনৈতিক ক্ষমতার অধিকারী যাঁরা, তাঁরা যদি অপকর্ম করে তাহলে তা সমাজেও সঞ্চারিত হয়৷ আমরাও এমনটা হতে দেখছি৷’’

৪) প্রতিরোধকারী হিসাবে মৃত্যুদণ্ডের শাস্তি:

মানবাধিকার সংগঠন আইন-ও-সালিশ কেন্দ্রের (সকে) মতে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বরের মধ্যে রিপোর্ট করা প্রায় ১০০০ যৌন নিপীড়নের একটি পঞ্চমাংশেরও বেশি গণধর্ষণ।

এপ্রিল থেকে আগস্টের মধ্যে, বিশ্ব করোন ভাইরাস মহামারীর আওতায় পড়ে, বাংলাদেশে প্রতিদিন চারজন নারী ধর্ষণ করা হয়, আইন-ও-সালিশ কেন্দ্রের (সকে) তথ্য দেখায়।

বাংলাদেশ লিগ্যাল এইড অ্যান্ড সার্ভিসেস ট্রাস্টের (বিএলএসএটি) গবেষণা বিশেষজ্ঞ তাকবীর হুদা সতর্কতার বিষয়টি উল্লেখ করে আল জাজিরাকে বলেছিলেন,

যে যৌন অপরাধের জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধানের ফলে কম দণ্ডের ফলস্বরূপ হতে পারে কারণ গবেষণায় প্রমাণিত হয়েছে যে কঠোর শাস্তি প্রমাণের সাথে একটি বিপরীত সম্পর্ক রয়েছে ফৌজদারি মামলায়।

“সুতরাং, আরও তীব্র শাস্তি হিসাবে, দণ্ডিত হওয়ার হার তত কম হবে

হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডাব্লু) এক বিবৃতিতে বলেছে, আসামিদের “হিসাব খুব কমই ধরা হয়

“বাংলাদেশে ধর্ষণের জন্য দোষী সাব্যস্ত এর হার ১ শতাংশের নিচে রয়েছে,” এতে বলা হয়েছে।

রাইটস গোষ্ঠীটি যোগ করেছে যে বাংলাদেশের পুলিশে যে যৌন নিপীড়ন থেকে বেঁচে গেছে তারা “প্রায়শই মামলা, পক্ষপাত, শিকার-দোষ, কলঙ্ক এবং অপমানের অভিযোগ অস্বীকার করে”

২০১৩ সালে জাতিসংঘ কর্তৃক পরিচালিত একটি সমীক্ষায় দেখা গেছে যে বাংলাদেশে যে পুরুষরা ধর্ষণ করার বিষয়টি স্বীকার করেছেন।

তাদের মধ্যে ৮৮ শতাংশ গ্রামীণ উত্তরদাতা এবং ৯৫ শতাংশ নগর উত্তরদাতা বলেছেন যে তাদের কোনও আইনি পরিণতির মুখোমুখি হয়নি।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সমাজবিজ্ঞানের অধ্যাপক সাদেকা হালিম বলেছেন, “বরং ধর্ষণের শিকার ও সাক্ষী যারা অপরাধীদের কাছ থেকে সামাজিক কলঙ্ক ও হুমকির মুখোমুখি হয়,”

তিনি আরও বলেছেন যে অনেক অভিযুক্ত এমনকি রাজনৈতিক সুরক্ষা পেয়েছিলেন।

এইচআরডাব্লু বিবৃতিতে একজন নারীর অধিকার আইনজীবীর বরাত দিয়ে বলা হয়েছে,

১৫) মহিলারা যখন পুলিশে আসে, প্রথমে পুলিশ তাকে বিশ্বাস করে না।” “তারা তাকে লজ্জা দেয়। মামলাটি অবিশ্বাস দিয়ে শুরু হয়।”

১৬) তদন্ত প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন:

ধর্ষণ মামলার তদন্ত নিয়েও অভিযোগের শেষ নেই।

নারী অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারীরা বলেছেন, বিচারের জন্য আলাদা ট্রাইবুনাল থাকলেও তদন্তের ব্যাপারে বিশেষায়িত কোন ব্যবস্থা নেই।

পুলিশ অন্য অনেক মামলার সাথে ধর্ষণ বা নারী নির্যাতনের মামলা তদন্ত করে থাকে এবং সেজন্য লম্বা সময় লেগে যায়।

তারা মনে করেন, দক্ষতা এবং প্রশিক্ষণের অভাবে তদন্তে দুর্বলতার প্রভাব বিচারের ক্ষেত্রে পড়ছে।

মানবাধিকার সংস্থা আইন ও সালিশ কেন্দ্রের নীনা গোস্বামী বলেছেন, ১০ বছর ধরে তারা প্রায় তিনশটি ধর্ষণের মামলায় আইনী সহায়তা দিচ্ছেন। কিন্তু বেশিরভাগ মামলারই বিচার শেষ করা যায়নি বলে তিনি উল্লেখ করেছেন।

  • “সমস্যাটা হচ্ছে, তদন্ত যিনি করছেন, তিনি তদন্তে সময় লাগাচ্ছেন। তিনি অনেকবার সময় নিয়ে তারপর হয়তোবা আদালতে চার্জশিট দিচ্ছেন।”
  • “চাজশিট দেয়ার পর সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু হয়। এই সাক্ষ্য নেয়ার সময় শুরু হয় সবচেয়ে বেশি বিড়ম্বনা। ভিকটিমের সাক্ষ্যটা ভাইটাল সাক্ষ্য।”
  • “কিন্তু আরও অনেক সাক্ষী দরকার হয়। যিনি মেডিকেল করেছেন, সেই ডাক্তারের সাক্ষী নিতে হয়। জবানবন্দী নেয়া ম্যাজিস্ট্রেটের সাক্ষ্য লাগে।
  • সাক্ষীদের আনার কোন ব্যবস্থা নাই। সরকারি কর্মকর্তা যারা সাক্ষী হন, দিনের পর দিন তারাও আসতে গাফিলতি করেন। এখানে কোন জবাবদিহিতা নাই।”

তিনি বলছেন, “গাফিলতির কারণে শুধু দেরি হয়, তা নয়, প্রসিকিউশনের গাফিলতির কারণে মামলার সবল দিকগুলো আদালতে ঠিকমত তুলে ধরা সম্ভব হয় না।”

যদিও আইনে ছয় মাস বা ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করার কথা বলা আছে। কিন্তু সেটা কাগজে কলমেই রয়ে গেছে বলে মানবাধিকার কর্মীরা মনে করেন।

তাদের অভিযোগ হচ্ছে, পুলিশী তদন্তে দিনের পর দিন সময় চলে যায়। অবশেষে তদন্ত শেষ হলে কোন মামলার বিচার প্রক্রিয়া শুরু হলেও তখন সরকার পক্ষের সাক্ষী হাজির করা নিয়ে চলে টালবাহানা।

কিন্তু কোন ক্ষেত্রেই জবাবদিহিতা নাই।ফলে ধর্ষণের শিকার একজন নারী এবং তার পরিবারকে দীর্ঘসূত্রিতার ভোগান্তিতে পড়তে হয়।

সাংবাদিক মিজানুর রহমান খান নারী নির্যাতন মামলার দীর্ঘসূত্রিতার বিষয় নিয়ে কাজ করেছেন।

তিনি বলেছেন, বিচার থেকে শুরু করে তদন্ত – প্রতিটি পর্যায়ের জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার জন্য একটি মনিটরিং সেল গঠনের নির্দেশনা দেয়া হয়েছিল। কিন্তু তা হয়নি।

“হাইকোর্ট কিছুদিন আগেও একটা পর্যবেক্ষণে স্ট্রংলি বলেছেন, আইনে ১৮০ দিনের যে বিধান রয়েছে, সেটা কার্যকর হচ্ছে না। এটা যতটা কার্যকরভাবে তদারক করার কথা, সেটা আমরা দেখতে পাই না।”

তিনি বলছেন, “আরেকটা মামলায় হাইকোর্ট বিভাগই বলেছেন যে, একটা মনিটরিং সেল হবে। কিন্তু দুই বছর হয়ে যাওয়ার পরও এ ব্যাপারে আমরা একটা শিথিল মনোভাব লক্ষ্য করে আসছি। এটা একটা বিরাট অন্তরায়।”

এখন অবশ্য দেশজুড়ে ধর্ষণ বিরোধী আন্দোলনের প্রেক্ষাপটে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, আইনের বিধিমালা তৈরি এবং বিচার প্রক্রিয়ায় জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে।

আইনমন্ত্রী আনিসুল হক বলেছেন, অল্প সময়ের মধ্যেই ব্যবস্থাগুলো দৃশ্যমান হবে। তিনি সাক্ষী সুরক্ষার ব্যাপারেও নতুন আইন করার কথাও উল্লেখ করেছেন।

“আমি মাননীয় প্রধান বিচারপতির কাছে অনুরোধ করবো, তিনি যেন নারী ও শিশু ট্রাইবুনালের বিজ্ঞ বিচারকদের জন্য একটা প্র্যাকটিস ডাইরেকশন দেন।

যাতে তাড়াতাড়ি মামলাগুলো শেষ হয়।”

এর পাশাপাশি প্রসিকিউটরদের ডাইরেকশন পাঠাচ্ছি, ধর্ষণ মামলায় তারা যে সমস্যাগুলোর সম্মুখীন হন,

সেগুলো যেন চিহ্নিত করা হয় এবং চিহ্নিত করে তারপর ব্যবস্থা নেয়া হবে।”

১৯) নারীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন ও হেনস্তার অভিযোগ:

ধর্ষণের অভিযোগ নিয়ে একজন নারীকে মামলা করা এবং তদন্ত থেকে শুরু করে লম্বা সময় ধরে অনেক প্রতিকূল পরিস্থিতি মোকাবেলা করে এগুতে হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।

কিন্তু বিচারে গিয়ে সেই নারীকে তার চরিত্র নিয়েও প্রশ্নের মুখোমুখি হতে হয়।এজন্য মানবাধিকার কর্মীরা বহু বছরের পুরোনো সাক্ষ্য আইনকে দায়ী করেছেন।

নীনা গোস্বামী বলেছেন, মামলার শুনানিতে আইনের সুযোগ নিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নারীকে তার চরিত্র নিয়ে প্রতিপক্ষের আইনজীবী এমন সব প্রশ্ন করেন, তার মাধ্যমে তাকে আরেক বার হেনস্তা করা হয়।

“সাক্ষ্য আইনটা অনেক দিনের পুরোনো। এই আইনে বলা আছে, ডিফেন্স নেয়ার জন্য ডিফেন্স এর আইনজীবী ক্ষতিগ্রস্ত নারীর চরিত্র তুলে প্রশ্ন করতে পারবে।

এর ফলে সারভাইভার কোর্টে সাক্ষ্য দিতে আসলে আসামী পক্ষের আইনজীবী ডিফেন্সের নাম করে তাকে চরিত্র তুলে নানা রকম হয়রানিমূলক প্রশ্ন করেন।”

ঢাকায় আট বছর আগে ধর্ষণের শিকার এক নারীর পরিবারের একজন সদস্য নাম ও পরিচয় প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, ঘটনার পর থেকেই তাদের যেমন নিরাপত্তার অভাব ছিল।

একইসাথে প্রতিটি ক্ষেত্রে হয়রানির মধ্যে দীর্ঘ সময়েও বিচার পাওয়া যাবে কিনা- সেই আশংকা তৈরি হওয়ায় এক পর্যায়ে তারা অভিযুক্ত পক্ষের সাথে বাধ্য হয়ে আপোষ করেছিলেন।

এমন অনেক ঘটনা ঘটে বলে মানবাধিকার কর্মীরা জানিয়েছেন।

2০) মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, ধর্ষণের বিচার না পাওয়ার কারণে মানুষের মধ্যে এক ধরণের চরম হতাশা তৈরি হয়।

আইনমন্ত্রী অবশ্য বলেছেন, চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন করার সুযোগ এখন বন্ধ করা হবে। এছাড়া বিভিন্ন সমস্যা চিহ্নিত করার উদ্যোগ নেয়া হচ্ছে বলেও তিনি দাবি করেছেন।

“ভিকটিমের চরিত্র সম্পর্কে প্রশ্ন করার সাক্ষ্য আইনের ১৫৫ ধারায় একটা প্রভিশন আছে। সেটা আমরা সংশোধন করবো।”

ধর্ষণসহ নারী নির্যাতনের উদ্বেগজনক পরিস্থিতি থেকে বেরিয়ে আসতে এখন সরকারের পক্ষ থেকে মৃত্যুদণ্ডের বিধানেই থেমে না থেকে সামগ্রিকভাবে সমস্যা চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নেয়ার কথা বলা হচ্ছে।

কিন্তু শেষ পর্যন্ত এগুলো শুধু কথার কথা হয়ে থাকবে কিনা- নারী অধিকার নিয়ে আন্দোলনকারীদের অনেকের সেই সন্দেহ রয়েছে।

2১)ডিএনএ টেস্ট নিয়ে জটিলতা: 

সরকারি তথ্য অনুযায়ীই ধর্ষণের ঘটনা ছাড়া নারী নির্যাতনের বেশিরভাগ মামলা হয় যৌতুক নিয়ে পরিবারে নির্যাতিত হওয়ার অভিযোগে।

এই অভিযোগের ক্ষেত্রে আপোষের মাধ্যমে মীমাংসার বিষয় আইনে যুক্ত করা হয়েছে। মানবাধিকার কর্মীরা এটিকে ইতিবাচক হিসাবে দেখছেন।

তবে এখন আইনে মৃত্যুদণ্ডের বিধান আনার পাশাপাশি আরেকটি বড় পরিবর্তন করা হয়েছে। বাধ্যতামূলক করা হয়েছে ধর্ষণের শিকার নারী এবং অভিযুক্তের ডিএনএ পরীক্ষা। এনিয়ে অনেকে প্রশ্ন তুলেছেন।

এই ডিএনএ পরীক্ষার বিষয়টি দ্রুত বিচার পাওয়ার ক্ষেত্রে আরেকটি অন্তরায় হয়ে দাঁড়াবে।

“ডিএনএ টেস্ট করার জন্য একটা বিশেষ পরিপ্রেক্ষিতে একজন বিচারক মনে করতে পারেন যে, এই সুনির্দিষ্ট মামলাটির ক্ষেত্রে ডিএনএ টেস্টের প্রয়োজন রয়েছে।

তখন একজন বিচারক চাইলে ডিএনএ টেস্টের জন্য বলতে পারেন।”

কিন্তু যদি আমি বলে দেই যে, সব মামলাতেই ডিএনএ টেস্ট করা হবে, এটা আসলে কতটুকু প্র্যাকটিক্যাল?

যেমন যেসব মামলায় ডিএনএ টেস্টের প্রয়োজন নাই, সেখানে ডিফেন্স থেকে স্বাভাবিকভাবেই সুযোগ নিতে পারে।

ডিফেন্স সেই সুযোগ নিতে পারে যে, যতক্ষণ না ডিএনএ টেস্ট করানো হচ্ছে, ততক্ষণ মামলার বিচার সহজে পেছানো যাবে।”

“আরেকটা বিষয় হচ্ছে, ডিএনএ পরীক্ষা কেন্দ্রগুলো আসলে কতটা রিসোর্সফুল। ঢাকার যে কোন একটা ট্রাইবুনালে অন্তত সাড়ে তিন থেকে চার হাজার মামলা ঝুলে আছে।

এর মধ্যে যদি অন্তত দুই হাজার মামলাও ডিএনএ টেস্টের জন্য যায়, ল্যাবগুলোর সেই সক্ষমতা আছে কিনা-সেটাও বিবেচনা করার বিষয়।”

তবে সরকারের বক্তব্য হচ্ছে, বাস্তবতা বিবেচনা করে এই পদক্ষেপ নেয়া হয়েছে।

কোন মেয়ে কারও বিরুদ্ধে অভিযোগ আনলো। কিন্তু অভিযুক্ত তা অস্বীকার করলো। এখন ডিএনএ টেস্টের মাধ্যমে তা নিশ্চিত হওয়া যাবে। এখানে অস্বীকার করার কোন সুযোগ থাকবে না।

কিন্তু ৪৮ ঘন্টার মধ্য ডিএনএ টেষ্ট করে রিপোর্ট পাওয়া বাংলাদেশের এখনকার প্রেক্ষাপটে বাস্তব সম্মত নয়।

২২) আদালতে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে আপোষ প্রবণতা।

2৩) দেশে শিশু পর্নোগ্রাফির থাবা!

২০১৪ সালের পর আরেকটি শিশু পর্নোগ্রাফি চক্রের সদস্যদের আটক করতে পেরেছে পুলিশ৷ আর সেই চক্রের কাছ থেকে ভয়ঙ্কর তথ্য পেয়েছেন তদন্তকারীরা৷ এই চক্রের জাল দেশের বাইরেও বিস্তৃত৷

সিটিটিসি এই চক্রটির সন্ধান পায় গত ফেব্রুয়ারি মাসে দেশের বাইরে থেকে পাওয়া একটি অভিযোগের তদন্ত করতে গিয়ে৷

তারা যে পর্নো ছবি উদ্ধার করেছে তারমধ্যে অভিযোগকারীর ছবিও রয়েছে৷ হোয়্যাটস অ্যাপের মাধ্যমে পরিচয়ের সূত্র ধরে তারা এক পর্যায়ে তার পর্নো ছবি তুলে তা ‘ব্যবসার’ কাজে লাগায়৷

তিনি আরো জানান, তাদের কাছ থেকে ৩০ জিবি পর্নোগ্রাফি কনটেন্ট উদ্ধার করা হয়৷ তাদের ক্লাউড এবং ড্রপ বক্সে স্টোরেজ আছে৷

আর কম্পিটারে ভিন্ন ভিন্ন নামে ৪৫টি ফোল্ডার পাওয়া গেছে৷ তাতে ইউএসএ, ইউকে, অস্ট্রেলিয়া এবং বাংলাদেশি মেয়েদের ভিকটিম হিসেবে ছবি আছে৷

আর তাদের কাছে যে ম্যানুয়ালটি পাওয়া গেছে তাতে মেয়েদের ফাঁদে ফেলার ১৫টি কৌশলের কথা বলা আছে৷

তিনি জানান, ‘‘আমরা নিশ্চিত হয়েছি এরকম আরো অনেক শিশু পর্নোগ্রাফির চক্র ঢাকায় সক্রিয়৷ আমরা আরো কিছু অভিযোগ পেয়েছি৷

আমরা তাদের পেমেন্ট মেথডও জানতে পেরেছি৷ তারা ক্রিপ্টো কারেন্সি ব্যবহার করে৷’’

এই গ্রুপটি ২০১৫ সাল থেকে এই অপরাধে যুক্ত৷ তারা কি পরিমাণ অর্থ আয় করেছে তাও অনুসন্ধানে বের হয়ে আসবে বলে জানান তিনি৷

সাইবার নিরাপত্তা বিশ্লেষক তানভীর হাসান জোহা বলেন, ‘‘এখন আর শিশু পর্নোগ্রাফি সারফেস ওয়েবে হয়না৷ এর বাজার ডার্ক ওয়েবে৷

এটা মনিটর করার জন্য ডিপ এন্ড ডার্ক ওয়েব মনিটরিং প্লাটফর্ম আছে৷

কিন্তু বাংলাদেশে সেই প্লাটফর্মটি নেই৷ ফলে সরাসরি সেটা এখান থেকে মনিটর করা যায় না৷

তদন্ত বা অভিযোগের ভিত্তিতে কিছু চক্র মাঝে মাঝে চিহ্নিত হয়৷’’

মামলার বিবরণে জানা যায়, ২০১৫ সালের ২১ মে রাতে রাজধানীর উত্তরা এলাকায় মাইক্রোবাসের মধ্যে এক গারো তরুণী গণধর্ষণের শিকার হন।

পরে এ ঘটনায় মামলা করতে গেলে বিভিন্ন থানায় ঘুরে ঘুরে পুলিশের অসহযোগিতার কারণে ভোগান্তি পোহাতে হয় তার অভিভাবকদের।

মেয়েটির বড় বোনের দেওয়া তথ্যানুযায়ী, তাদের বাসা উত্তরায় হওয়ায় তারা প্রথমে মামলা করার জন্য তুরাগ থানায় যান।

কিন্তু অন্য এলাকার ঘটনা বলে পুলিশ রাত ৪টার দিকে তাদের ফিরিয়ে দেয়। এরপর ভোর ৫টার দিকে তারা যান গুলশান থানায়। সেখানেও একই উত্তর মেলে।

শেষে সাড়ে ৬টার দিকে ভাটারা থানায় গেলে বলা হয়, ওসি নেই, অপেক্ষা করতে হবে। পরদিন সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ওসি আসেন এবং তাদের কথা শুনে সাড়ে ১২টার দিকে মামলা নথিভুক্ত করা হয়।

চিকিৎসার জন্য তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয় আরও একদিন পর। পরে এ ঘটনায় পৃথক পাঁচটি মানবাধিকার সংগঠন বাদী হয়ে জনস্বার্থে হাইকোর্টে একটি রিট করে।

ওই রিটের শুনানি নিয়ে একই বছরের ২৫ মে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। এরপর ওই রুলের চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে ২০১৬ সালের ১৮ ফেব্রুয়ারি রায় দেন হাইকোর্ট।

এরই ধারাবাহিকতায় সম্প্রতি পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়।

প্রথমে এটি প্রতিষ্ঠিত করা দরকার যে ধর্ষণ কোনও আচরণমূলক বা মানসিক ব্যাধি নয়, তবে এটি একটি অপরাধমূলক অপরাধ।

যদিও কিছু ধর্ষকের মানসিক ব্যাধি থাকতে পারে তবে এমন কোনও ব্যাধি নেই যা মানুষকে ধর্ষণ করতে বাধ্য করে।

যাইহোক, তাদের বই, “ধর্ষণের প্রাকৃতিক ইতিহাসের জৈবিক ভিত্তিগুলির যৌন জবরদস্তি” বইটি নেচার নামক বিজ্ঞান জার্নালে তীব্র সমালোচিত হয়েছিল।

এতে বলা হয়েছে যে লেখকদের দ্বারা উদ্ধৃত প্রমাণের টুকরোগুলি বিভ্রান্তিমূলক, পক্ষপাতদুষ্ট বা “সমানভাবে বিকল্প ব্যাখ্যা সমর্থন করে।”

২০১৪ সালে ঢাকায় একই রকম আরেকটি চক্রকে আটক করে সিআইডি৷

ওই চক্রটি শিশুদের নিয়ে এসে সরাসরি পর্নো তৈরি করত৷ টিপু কিবরিয়া নামে একজন কথিত শিশু সাহিত্যিক ও তার তিন সহযোগীকে তখন গ্রেপ্তার করা হয়৷

তারা খিলগাঁও এর একটি স্টুডিওতে শিশুদের নিয়ে গিয়ে পর্নোগ্রাফি তৈরি করত৷ তাদের এসব ছবির ক্রেতা জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডের৷ ওই অভিযুক্তেরা এখন কারাগারে৷

নারী নির্যাতন সম্পর্কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার রিপোর্ট:

নারী নির্যাতন সম্পর্কে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নতুন রিপোর্ট বলছে, বিশ্বের প্রায় এক তৃতীয়াংশ নারী যৌন নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন অহরহ৷

তার ওপর পারিবারিক নির্যাতন প্রতিরোধের যেসব পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে, সেটাও যথার্থ নয়৷ এছাড়া বিশ্বের মোট নারীর ৭ শতাংশ নাকি জীবনের যে কোনো সময় ধর্ষণের শিকার হয়েছেন৷

ধর্ষণ প্রতিরোধে আমাদের করনীয়:

শুধু আইন করে ধর্ষণ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। আমাদের প্রত্যেক নাগরিককে ধর্ষণ প্রতিরোধে সজাগ ওপ্রতিবাদী হতে হবে।

১) উন্নত বিশ্বের নারীরাও রেহাই পান না।

ধর্ষণ শব্দটি শুনলেই মনে হয় এ ধরণের অপরাধ হয়ে থাকে শুধু অনুন্নত বা উন্নয়নশীল দেশগুলোতে৷ আসলে কিন্তু মোটেই তা নয়৷

সমীক্ষায় দেখা গেছে, ইউরোপীয় ইউনিয়নভুক্ত দেশগুলোতে ১৫ বছর বয়স হওয়ার আগেই শতকরা ৩৩ জন মেয়ে শারীরিক নির্যাতনের শিকার হয়৷

এমনকি জার্মানির মতো উন্নত দেশের নারীরাও যৌন নিগ্রহ বা ধর্ষণের শিকার হচ্ছেন প্রতিনিয়ত৷

২) ধর্ষিতা নারীরা জানাতে ভয় পান।

জার্মানিতে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত বা ধর্ষিত নারীদের সঠিক পদ্ধতিতে ‘মেডিকেল টেস্ট’-এর ব্যবস্থা করে, এমন একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত স্ত্রী বিশেষজ্ঞ ডা. সোনিয়া পিলস বলেন, ‘‘ধর্ষণের শিকার নারী লজ্জায় এবং আতঙ্কে থাকেন৷ তিনি পুলিশের কাছে গিয়ে সে অভিজ্ঞতা বা ধর্ষক সম্পর্কে তথ্য জানাতে ভয় পান, কুণ্ঠা বোধ করেন৷ অনেকদিন লেগে যায় ধর্ষণের কথা কাউকে বলতে৷

৩) ধর্ষককে ধরার জন্য দ্রুত ডাক্তারি পরীক্ষা।

ধর্ষণের পর নারীদের কী করণীয় – এ বিষয়ে জার্মানির ধর্ষণ বিষয়ক নির্দেশিকায় কিছু পরামর্শ দেওয়া হয়েছে৷ যেমন ধর্ষণের পর একা না থেকে কারো সাথে কথা বলা৷

গোসল, খাওয়া, ধূমপান, বাথরুমে যাওয়ার আগে, অর্থাৎ ধর্ষণের চিহ্ন মুছে না যাবার আগে ডাক্তারি পরীক্ষা করানো৷

এ পরীক্ষা করালে ধর্ষক কোনো অসুখ বা এইচআইভি-তে আক্রান্ত ছিল কিনা, তা জানা সম্ভব৷ নারীর শরীরে নখের আচড় বা খামচি থাকলে ধর্ষকের চিহ্ন সহজেই পাওয়া যায়৷

৪) যাঁরা ধর্ষণের শিকার, তাঁদের জন্য জরুরি বিভাগ।

ধর্ষক যেসব জিনিসের সংস্পর্শে এসেছে, অর্থাৎ অন্তর্বাস, প্যাড এ সব তুলে রাখুন৷ ছবিও তুলে রাখতে পারেন৷

নিজেকে দোষী ভাববেন না, কারণ যে ধর্ষণের মতো জঘণ্যতম কাজটি করেছে – সেই অপরাধী, আপনি নন৷ জার্মানির বেশ কয়েকটি শহরের হাসপাতালে যৌন নির্যাতন বিষয়ক আলাদা জরুরি বিভাগ রয়েছে৷

তাছাড়া ধর্ষণ সংক্রান্ত নানা প্রশ্নের উত্তর জানতে রয়েছে ‘গেভাল্ট গেগেন ফ্রাউয়েন’, যেখানে ২৪ ঘণ্টাই টেলিফোন করা যায়৷

৬) সবচেয়ে বেশি যৌন অপরাধ হয় বাড়িতেই।

ভারতের কোথাও না কোথাও প্রতি ২২ মিনিটে একটি মেয়ে ধর্ষণের শিকার হচ্ছে৷ তাই আদালতের নির্দেশে ভারতের পুলিশ বিভাগ এক সমীক্ষা চালিয়েছিল দিল্লির ৪৪টি এলাকায়৷

চলতি বছরের গত আট মাসে ২,২৭৮টি ধর্ষণ, যৌন নিপীড়ন এবং যৌন অপরাধের তদন্তের ফলাফলে দেখে গেছে: ১,৩৮০টি ক্ষেত্রে অভিযুক্তরা হলেন পরিবারের লোকজন এবং পরিচিতজনেরা৷

অর্থাৎ নিজের বাড়িতেও মেয়েরা নিরাপদ নয়!

৭) সঠিক বিচার চাই।

২০১৩ সালের ১৬ই ডিসেম্বর দিল্লিতে গণধর্ষণ ঘটনার পর, ভারতে ঘটা করে বিচার বিভাগীয় কমিশন বসিয়ে ধর্ষণ, যৌন নিগ্রহ দমনে আইন-কানুন ঢেলে সাজানো হয়৷

শাস্তির বিধান আরো কঠোর করা হয়৷ কিন্তু তাতে যৌন অপরাধের সংখ্যা না কমে বরং বেড়েছে৷

৮) বাংলাদেশে ধর্ষণের শিকার।

বাংলাদেশে জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির হিসাব অনুযায়ী, বাংলাদেশে ২০১১ সালে ৬২০ জন, ২০১২ সালে ৮৩৬ জন, ২০১৩ সালে ৭১৯ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়েছেন৷

চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুন মাস পর্যন্ত, অর্থাৎ মাত্র ছ’মাসে ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে ৪৩১টি এবং এর মধ্যে গণধর্ষণের শিকার হয়েছেন ৮২ জন৷

তাছাড়া সাম্প্রতিক সময়ে অপহরণ করে ধর্ষণ এবং পরে হত্যার ঘটনাও অনেক বেড়েছে৷

৯)  নারীর পোশাকই কি ধর্ষণের জন্য দায়ী?

বাংলাদেশের একজন পুলিশ কর্মকর্তা একটি মার্কিন সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘‘বাংলাদেশের নারীরা অধিকাংশ ক্ষেত্রেই বেপরোয়াভাবে, বেপর্দায় চলাফেলার কারণে ধর্ষণের শিকার হন৷’’

পুলিশের কর্মকর্তার দাবি, ধর্ষণের দায় প্রধানত নারীদের৷ তাঁর ভাষায়, ‘‘বখাটে ছেলেরা তো ঘোরাফেরা করবেই৷’

এ কথা শুধু পুলিশ কর্মকর্তার নয়, ভারত-বাংলাদেশের সমাজ ব্যবস্থাই এরকম৷ ধর্ষণ বন্ধ করতে এই মধ্যযুগীয় চিন্তা, চেতনার পরিবর্তন প্রয়োজন৷

১০) ছোট বেলা থেকে সচেতন করতে হবে:

ধর্ষণ সম্পর্কে ছোটবেলা থেকে সঠিক ধারণা দিলে স্বাভাবিকভাবে ধর্ষণের সংখ্যা কমবে৷ তাছাড়া পাঠ্যপুস্তকেও বিষয়টি গুরুত্ব দেওয়া উচিত৷

ধর্ষিতা নারীকে শারীরিক ও মানসিক যন্ত্রণার শিকার হতে হয়, সে সম্পর্কেও সচেতনতা দরকার৷ অনেকে যন্ত্রণা সহ্য করতে না পেরে আত্মহত্যার পথ বেছে নেন৷

গোটা সমাজও নারীকেই দোষ দিয়ে থাকে৷ ডাক্তারি বা মনস্তাত্ত্বিক সাহায্য ছাড়াও প্রয়োজন পরিবার, বন্ধুবান্ধব ও সমাজের বন্ধুবৎসল আচরণকেন এত ধর্ষণ?

কী করলে কমবে এ জঘন্য অপরাধ?

১১) ধর্মীয় শিক্ষার অভাব:

ধর্মীয় শিক্ষা হচ্ছে আমি মনে করি সবচেয়ে বড় একটা শিক্ষা। আমাদের চারপাশে নারী-পুরুষ যেভাবে অবাধ মেলামেশা করছে এবং অশালীন ভাবে চলাফেরা করছে তাতে ধর্মীয় শিক্ষার অনেক অভাব লক্ষ করা যায়।

এখানে একটা বিষয় না বললেই নয় তা হচ্ছে “হিজাব”। হিজাব মানে যে শুধুমাত্র নারীদের জন্য তা কিন্তু নয়। পুরুষ মানুষেরও হিজাব আছে।

পবিত্র কোরআন এর ২৪ নম্বর সূরা আন্-নূর এর ৩০ নম্বর আয়াতে আল্লাহপাক আগেই বলেছেন,

قُل لِّلْمُؤْمِنِينَ يَغُضُّوا مِنْ أَبْصَارِهِمْ وَيَحْفَظُوا فُرُوجَهُمْ ذَلِكَ أَزْكَى لَهُمْ إِنَّ اللَّهَ خَبِيرٌ بِمَا يَصْنَعُونَ

অনুবাদ:মুমিনদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টি নত রাখে এবং তাদের যৌনাঙ্গর হেফাযত করে। এতে তাদের জন্য খুব পবিত্রতা আছে।

নিশ্চয় তারা যা করে আল্লাহ তা অবহিত আছেন।

Say to the believing men that they should lower their gaze and guard their modesty: that will make for greater purity for them:

And Allah is well acquainted with all that they do.

পুরুষের হিজাবের কথা। এর পর ৩১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে নারীর কথা।

وَقُل لِّلْمُؤْمِنَاتِ يَغْضُضْنَ مِنْ أَبْصَارِهِنَّ وَيَحْفَظْنَ فُرُوجَهُنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا مَا ظَهَرَ مِنْهَا وَلْيَضْرِبْنَ بِخُمُرِهِنَّ عَلَى جُيُوبِهِنَّ وَلَا يُبْدِينَ زِينَتَهُنَّ إِلَّا لِبُعُولَتِهِنَّ أَوْ آبَائِهِنَّ أَوْ آبَاء بُعُولَتِهِنَّ أَوْ أَبْنَائِهِنَّ أَوْ أَبْنَاء بُعُولَتِهِنَّ أَوْ إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي إِخْوَانِهِنَّ أَوْ بَنِي أَخَوَاتِهِنَّ أَوْ نِسَائِهِنَّ أَوْ مَا مَلَكَتْ أَيْمَانُهُنَّ أَوِ التَّابِعِينَ غَيْرِ أُوْلِي الْإِرْبَةِ مِنَ الرِّجَالِ أَوِ الطِّفْلِ الَّذِينَ لَمْ يَظْهَرُوا عَلَى عَوْرَاتِ النِّسَاء وَلَا يَضْرِبْنَ بِأَرْجُلِهِنَّ لِيُعْلَمَ مَا يُخْفِينَ مِن زِينَتِهِنَّ وَتُوبُوا إِلَى اللَّهِ جَمِيعًا أَيُّهَا الْمُؤْمِنُونَ لَعَلَّكُمْ تُفْلِحُونَ

অনুবাদ: ঈমানদার নারীদেরকে বলুন, তারা যেন তাদের দৃষ্টিকে নত রাখে এবং তাদের যৌন অঙ্গের হেফাযত করে।

তারা যেন যা সাধারণতঃ প্রকাশমান, তা ছাড়া তাদের সৌন্দর্য প্রদর্শন না করে এবং তারা যেন তাদের মাথার ওড়না বক্ষ দেশে ফেলে রাখে

এবং তারা যেন তাদের স্বামী, পিতা, শ্বশুর, পুত্র, স্বামীর পুত্র, ভ্রাতা, ভ্রাতুস্পুত্র, ভগ্নিপুত্র, স্ত্রীলোক অধিকারভুক্ত বাঁদী, যৌনকামনামুক্ত পুরুষ, ও বালক,

যারা নারীদের গোপন অঙ্গ সম্পর্কে অজ্ঞ, তাদের ব্যতীত কারো আছে তাদের সৌন্দর্য প্রকাশ না করে, তারা যেন তাদের গোপন সাজ-সজ্জা প্রকাশ করার জন্য জোরে পদচারণা না করে।

মুমিনগণ, তোমরা সবাই আল্লাহর সামনে তওবা কর, যাতে তোমরা সফলকাম হও।

And say to the believing women that they should lower their gaze and guard their modesty;

that they should not display their beauty and ornaments except what (must ordinarily) appear thereof; that they should draw their veils over their bosoms and not display their beauty except to their husbands,

their fathers, their husband’s fathers, their sons, their husbands’ sons, their brothers or their brothers’ sons, or their sisters’ sons, or their women,

or the slaves whom their right hands possess, or male servants free of physical needs, or small children who have no sense of the shame of sex;

and that they should not strike their feet in order to draw attention to their hidden ornaments.

And O ye Believers! turn ye all together towards Allah, that ye may attain Bliss.

ইসলামে ধর্ষণের শাস্তির ক্ষেত্রেও তা নির্ধারণ করা হয়েছে মৃত্যু দণ্ড। এই জন্যই সৌদি আরবে ধর্ষণের হার অন্যান্য সব দেশের তুলনায় কম।

১2) প্রযুক্তির অপব্যাবহর:

স্যাটালাইট আর ইন্টারনেট সহজলভ্যতা আমাদের জীবনকে নহজের চেয়ে ক্রমশ জটিল করে তুলেছে । মানুষ স্বভাবতই কৌতুহলিী আর বিষয়টি নিষিদ্ধ হয়ে তাহলেতো কথা নেই।

স্যাটালাইট আর ইন্টারনেট এর কারনে সাধারনত কিশোরেরা পর্নোগ্রাফি আসক্ত হয়ে পড়ছে। সেগুলে বন্ধুদের সাথে শেযারও করছে। 

ফলে এক সময় নিজের উপর নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ধর্ষণ করে ফেলছে। পাশাপাশি স্যাটালাইট মিডিয়ায় নাটক, সিনেমা, ওয়েব সিরিজে খোলামেলা দৃশ্য উৎসাহিত করছে।

১3)বাংলাদেশের আইনে ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিকে ক্ষতিপূরণ: 

২০১৯ সালের মার্চ মাসে মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া এলাকায় দুই পুলিশ সদস্যের হাতে ধর্ষণের শিকার এক নারীকে,

কেন ৫০ লাখ টাকা ক্ষতিপূরণ দেয়া হবে না তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিল হাইকোর্ট।

সেসময় স্থানীয় সংবাদ মাধ্যমগুলোতেও এ ঘটনাটি উঠে আসে।

চিলড্রেন চ্যারিটি বাংলাদেশ ফাউন্ডেশন এবং বাংলাদেশ লিগাল এইড সার্ভিসেস ট্রাস্ট নামে দুটি সংগঠন জনস্বার্থে একটি রিট করলে সেই রিটের শুনানির পর এই রুল জারি করা হয়েছিল।

তবে এ বিষয়ে ধর্ষণের শিকার ওই নারী আর রিট মামলাটি এগিয়ে নিতে রাজি না হওয়ায় সেটি আর এগোয়নি বলে জানান বাংলাদেশ লিগাল এইড সার্ভিসেস ট্রাস্ট-ব্লাস্ট এর গবেষণা বিশেষজ্ঞ তাকবির হুদা।

বাংলাদেশে ধর্ষণ আইনের সংস্কারের দাবিতে পরিচালিত একটি ক্যাম্পেইন “রেপ ল রিফর্ম নাও” এর নেতৃত্বও দিচ্ছেন তিনি।

তিনি বলেন, ধর্ষণের ঘটনায় ক্ষতিপূরণ চেয়ে রিট মামলার ঘটনা এটাই প্রথম ছিল।

বাংলাদেশ লিগাল এইড সার্ভিসেস ট্রাস্টের করা এক গবেষণা অনুযায়ী:

২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের আওতায় নিষ্পত্তি হওয়া ৫০টি মামলার মধ্যে মাত্র ৩টি মামলায় জরিমানার অর্থকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে গণ্য করার আদেশ দেয় আদালত।

শতাংশের হিসেবে যা মাত্র ৬%।

অনেকেই মনে করেন যে, ধর্ষণের ঘটনায় কোন অংকের অর্থ দিয়েই আসলে ক্ষতিপূরণ করা সম্ভব নয়।

এক্ষেত্রে সাজাই একমাত্র সমাধান।

বর্তমান রেপের হার অনুযায়ী বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৪১
বর্তমান রেপের হার অনুযায়ী বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৪১

ক্ষতিপূরণ প্রদান বিষয়ে আইনে কী বলে?

২০০০ সালের আগে ধর্ষণের ঘটনায় জরিমানার বিষয়টি বাধ্যতামূলক ছিল না। ২০০০ সালের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে জরিমানা বাধ্যতামূলক করা হয়।

এই আইনে বলা হয় যে, “যদি কোন ব্যক্তি কর্তৃক ধর্ষণ বা উক্ত ধর্ষণ পরবর্তী তাহার অন্যবিধ কার্যকলাপের ফলে ধর্ষিতা নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে, তাহা হইলে ওই ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ডে বা যাবজ্জীবন কারাদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন এবং এর অতিরিক্ত অন্যূন এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডেও দণ্ডনীয় হবেন।

এছাড়া যদি একাধিক ব্যক্তি দলবদ্ধভাবে কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করেন এবং

ধর্ষণের ফলে উক্ত নারী বা শিশুর মৃত্যু ঘটে বা তিনি আহত হন তাহলে ঐ দলের প্রত্যেক ব্যক্তি মৃত্যুদণ্ড বা

যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ডে দণ্ডিত হবেন এবং এর অতিরিক্ত অন্যূন এক লক্ষ টাকা অর্থদণ্ডে দণ্ডনীয় হবেন।

যদি কোন ব্যক্তি কোন নারী বা শিশুকে ধর্ষণ করে মৃত্যু ঘটানোর চেষ্টা করে বা

আহত করার চেষ্টা করে তাহলে তার যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হবে।

আর ধর্ষণের চেষ্টা করলে ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড এবং অর্থদণ্ড হবে।

এ বিষয়ে মি. হুদা বলেন, অন্য বিষয়গুলোতে আলাদা আইন করেই যে সে অপরাধগুলো নিশ্চিহ্ন করা গেছে তা কিন্তু নয়।

ধর্ষণের শিকার ব্যক্তির ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে কয়েকটি বিষয়ের সুপারিশ করেছেন তারা।

এর মধ্যে প্রথমটি হচ্ছে, বিদ্যমান আইনে অর্থদণ্ডের পাশাপাশি সেই অর্থ ক্ষতিপূরণ হিসেবে ভুক্তভোগীকে দেয়ার বিষয়টি উল্লেখ করতে হবে।

দ্বিতীয়ত, বিচারকদেরকে জরিমানাকে ক্ষতিপূরণ হিসেবে রূপান্তরের যে ক্ষমতা দেয়া হয়েছে তার ব্যবহার আরও বেশি বাড়াতে হবে।

সেক্ষেত্রে জেলা পর্যায়ে এ ধরণের মামলার ক্ষেত্রে উদ্যোগ নেয়া যেতে পারে।

তৃতীয়ত, ভুক্তভোগীর কাছে ক্ষতিপূরণের অর্থ একাধিক উৎস থেকে আসা উচিত।

শুধু অপরাধী নয় বরং রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ক্ষতিপূরণের একটা ব্যবস্থা থাকা উচিত।

মি. হুদা বলেন, উন্নত দেশগুলোতে রাষ্ট্রীয় একটা তহবিল থাকে যেখান থেকে নিষ্ঠুর অপরাধের শিকার ব্যক্তিরা ক্ষতিপূরণ পেতে পারে।

বাংলাদেশেও এ ধরণের ব্যবস্থা থাকা উচিত যাতে ভুক্তভোগীরা বিচার শেষে ক্ষতিপূরণ চাইতে পারে।প্রতিবেশী দেশ ভারতেও এ ধরণের ব্যবস্থা রয়েছে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতির সভাপতি সালমা আলি

ভারতের একটি রেলস্টেশনে এক বাংলাদেশি নারীর ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনা উল্লেখ করে বলেন,

ওই ঘটনায় রেল কর্তৃপক্ষ ওই নারীকে ২০ লাখ রুপি ক্ষতিপূরণ দিয়েছিল আদালতের নির্দেশে।

কারণ, ওই নারীর নিরাপত্তা দেয়ার দায়িত্ব রেল কর্তৃপক্ষের উপরও কিছুটা বর্তায় এবং ঘটনা খোদ রেলস্টেশনে হয়েছিল।

বাংলাদেশে এ ধরণের কোন আইনি ধারা নেই উল্লেখ করে তিনি বলেন, এই বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া যেতে পারে।

এক্ষেত্রে তিনি সিলেটের এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে এক নারীকে ধর্ষণের ঘটনার কথা উল্লেখ করে বলেন, এ ধরণের ঘটনার দায় ওই কলেজ কর্তৃপক্ষেরও রয়েছে।

একই ধরণের মত দিয়েছেন মি. হুদাও। তিনি বলেন, অনেক সময় তৃতীয় কোন পক্ষের গাফিলতির কারণে ধর্ষণের মতো ঘটনা ঘটে।

যেমন ধর্ষণ যদি কোন হোটেলে ঘটে থাকে বা এমন কোন জায়গায় যেখানে তার সুরক্ষার দায়িত্ব ওই কর্তৃপক্ষের থাকে যেমন কর্মক্ষেত্র-

সেখানে সেই কর্তৃপক্ষকেও এ ধরণের অপরাধের ক্ষেত্রে দায় নিতে হবে। ক্ষতিপূরণ এ ধরণের উৎস থেকেও আসতে হবে বলে মনে করেন তিনি।

টর্ট বা দেওয়ানি আইনের অধীনে এ বিষয়ে সমাধান আসতে পারে বলে জানান তিনি।

এ বিষয়ে মহিলা ও শিশু বিষয়ক সংসদীয় কমিটির প্রধান মেহের আফরোজ চুমকি বলেন, একজন ধর্ষকের শুধু অর্থনৈতিক ক্ষতিপূরণ দিয়েই তার বিচার শেষ হবে বলে তিনি বিশ্বাস করেন না।

বরং ধর্ষকের সাজা হবে এবং পাশাপাশি অর্থদণ্ড থাকবে।তবে হত দরিদ্র কেউ ধর্ষণের মতো ঘটনার শিকার হলে সেটি সরকারের নজরে আসে এবং সরকার সেই সহযোগিতা দেয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

“আইনের মধ্যে তাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে, তাহলে তো যেকোন সময় যেকোন ঘটনা সত্য কি মিথ্যা ঘটিয়েই চলে আসবে যে আমাকে ক্ষতিপূরণ দেন।

সেটা তো সম্ভব না। এটা প্রমাণ সাপেক্ষ বিষয়।”

তবে অপরাধ প্রমাণিত হলে সে সমাজ এবং সরকারের কাছ থেকে সহযোগিতা পায় বলেও দাবি করেন তিনি।

বেষকদের মতে ধর্ষণ একরকমের মানসিক ব্যাধি হাইপার সেক্সসুয়াল ডিসঅর্ডার:

হাইপার সেক্সসুয়াল ডিসঅর্ডার নির্ণয়ের মডেলে ব্যাধি-নির্ধারক একাধিক মানদণ্ড আছে, যেখানে ধরে নেয়া হয়,

পুনরাবৃত্তিমূলক যৌন তাড়না, কল্পনা ও আচরণগুলো প্রকাশ পায় হাইপার সেক্সসুয়াল ডিসঅর্ডার উপসর্গের বৈরী প্রতিক্রিয়া হিসেবে।

কিন্তু দেখা যায়, এই ধরনের যৌন প্রতিক্রিয়াগুলো দুঃশ্চিন্তা ও মুড ডিজঅর্ডারের সাথে “যুগপৎহতে পারে।

যৌনতার মতই অন্যান্য প্রবৃত্তিগত আচরণ যেমন, ক্ষুধা, ঘুম, তৃষ্ণা ইত্যাদিও অনিয়ন্ত্রিত ও অদম্য হয় উঠতে পারে।

যেমন, মনোরোগ বিজ্ঞানে মাত্রাতিরিক্ত ঘুমকে প্রাইমারি-হাইপারসোমনিয়া আর মাত্রাতিরিক্ত খাওয়াকে বিঞ্জ-ইটিং-ডিজঅর্ডার হিসেবে চিকিৎসা দেয়া হয়।

হাইপার সেক্সুয়ালিটি ডায়াগনোসিস মডেলের একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো, মাত্রাতিরিক্ত যৌন কল্পনা, তাড়না, আচরণ ইত্যাদি বেদনাদায়ক ও স্বাস্থ্যবৈকল্যের কারণ হতে পারে।

এটা সম্ভবত এই মডেলের সবচেয়ে কার্যকর মানদণ্ড। কারণ, এটাই ব্যাখ্যা করে কেনো একজন হাইপার সেক্সুয়াল ডিজঅর্ডারের রোগী চিকিৎসকের দারস্থ হবেন।

কিন্তু, হাইপার সেক্সসুয়াল ডিজঅর্ডার ব্যবস্থাপত্র দেওয়ার আগে, রোগীর সামাজিক সীমাবদ্ধতাগুলো ভালো করে যাচাই করা উচিত।

যৌনতা ও যৌনতা প্রকাশে রক্ষণশীল ও নিয়ন্ত্রণমূলক দৃষ্টিভঙ্গি সামান্য যৌন তাড়নার বৃদ্ধিতে পীড়াদায়ক অবস্থা তৈরী জন্য দায়ী হতে পারে,

যদিও এই ধরণের যৌনতা-বৃদ্ধি আদর্শ মানদণ্ডের অন্তর্ভূক্ত।

লজ্জা, উদ্বেগ, অপরাধবোধ এবং তার সাথে বাড়তি যৌনকামনা ও যৌনবঞ্চনা ইত্যাদি একত্রে একজন সুস্থ-স্বাভাবিক মানুষকেও চিকিৎসার মুখাপেক্ষী করতে পারে।

অতীতে নন-প্যারাফিলিক হাইপার সেক্সসুয়াল ডিজঅর্ডারেরযথেষ্ট তথ্য নেই” এই অজুহাতে হাইপার সেক্সুয়াল ডিসঅর্ডারকে আলাদা কোনো সুনির্দিষ্ট রোগ নির্দেশক যৌন আচরণ হিসেবে ধরা হতো না,

বরং “উল্লেখ করার মতো নয়” বলে এড়িয়ে যাওয়া হতো। কিন্তু বিভিন্ন সমীক্ষায় দেখা গেছে, পশ্চিমা বিশ্বে হাইপার সেক্সসুয়াল ডিজঅর্ডারের রিপোর্টেড কেসের সংখ্যা

সমস্ত প্যারাফিলিক ডিজঅর্ডারের চেয়েও উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।

হাইপার সেক্সসুয়াল ডিজঅর্ডার একটি প্রচলিত ও সঙ্কটজনক ক্লিনিকাল পরিস্থিতি,

যার উপসর্গ হলো, মাত্রাতিরিক্ত যৌন চিন্তা, যৌন তাড়না ও আচরণের পুনরাবৃত্ত ঘটা; পর্নোগ্রাফি আসক্তি, এক্সেসিভ ও অদম্য মাস্টারবেশন, অপরিকল্পিত গর্ভাবস্থা, দাম্পত্য কলহ, বিবাহবিচ্ছেদ, যৌনবাহিত রোগের ঝুঁকিতে থাকা, ইত্যাদি।

কিন্তু আপাতদৃষ্টিতে হাইপার সেক্সসুয়াল ডিজঅর্ডারের প্রচুর ক্লিনিকাল নজির দেখা গেলেও, হাইপার সেক্সুয়াল ডিজঅর্ডার নির্ণয়ের জন্য আমাদেরকে যৌনতা প্রকাশের ‘স্বাভাবিক’ ও ‘মাত্রাতিরিক্ত’ এই ‘দুই মাত্রার’ মাঝে একটা সর্বসম্মত সীমানা টানতে হবে, যেটা মোটেও সহজ নয়।

যেমন, মাস্টারবেশন বা ইটারকোর্সকে কখন অদম্য বা আশংকাজনক হিসেবে ধরা হবে বা যৌন উদ্দীপনার কোন পর্যায়কে আসক্তি হিসেবে গণ্য করা হবে, সেটা পরিষ্কার নয়।

বিবর্তনীয় জীববিজ্ঞানী থর্নহিল এবং বিবর্তনবাদী নৃবিজ্ঞানী ক্রেগ পামার বিশ্বাস করেন, হাম্বির বিপরীতে,

ধর্ষণের পিছনে প্রাথমিক উদ্দেশ্যটি আসলে যৌনতা।তারা যুক্তি দেয় যে ধর্ষণ একটি অভিযোজন – ডারউইনিয়ান নির্বাচনের ফলাফল এবং এটি মতে পুরুষদের প্রজনন সাফল্য বাড়াতে এটি বিকশিত হয়েছিল।

তারা উল্লেখ করেছেন যে বেশিরভাগ ক্ষতিগ্রস্থ শিশু প্রসবের বয়সী মহিলারা বলেছিলেন যে এটি তাদের অনুমানকে সমর্থন করে যা ধর্ষণ পুনরুত্পাদন করার আকাঙ্ক্ষা থেকে প্রাপ্ত।

এই ধরনের মতবিরোধ যুক্ত থাকায় হাইপার সেক্সুয়াল ডিজঅর্ডার” কে ২০১৩ তে প্রকাশিত DSM-5 (The Diagnostic and Statistical Manual of Mental Disorders – Fifth Edition) এ অফিশিয়ালি সাইকিয়াট্রিক ডিজঅর্ডার হিসাবে যুক্ত করা হয়নি।

এটাকে শুধুমাত্র ডিজঅর্ডার’ হিসাবে আরও বেশি রিসার্চ হওয়া দরকার এই মর্মে সেকশন ও তে অন্তর্ভূক্ত রাখা হয়। তবে অনেক গবেষক, থেরাপিস্ট, সাইকোলোজিস্ট উঝগ এর এই সিদ্ধান্ত কে স্বাগত জানাননি।

কারণ তাদের মতে, হাইপার সেক্সুয়ালিটির মত অনিয়ন্ত্রিত অদম্য যৌনাসক্তি, জনস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতির এবং

ব্যক্তি ও আক্রান্ত ব্যক্তির পারিবারিক পর্যায়ে উল্লেখযোগ্য শারীরিক, মানসিক, সামাজিক, অর্থনৈতিক এবং ইমোশনাল-সম্পর্কের জন্য ক্ষতির কারণ”।

পুরুষদের দ্বারা মহিলাদের ধর্ষণ ঘটনাটি রেকর্ড করা ইতিহাস এবং সংস্কৃতি জুড়ে ঘটেছিল। বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞান একটি শক্তিশালী হিউরিস্টিক হাতিয়ার যা গবেষকদের ধর্ষণ হিসাবে জটিল আচরণ সম্পর্কে উপন্যাস অনুমানের বিকাশ ও পরীক্ষা করতে দেয়।

কিছু গবেষক যুক্তি দিয়েছিলেন যে পুরুষরা মনস্তাত্ত্বিক প্রক্রিয়াগুলি বিকশিত করেছেন যা নির্দিষ্ট প্রসঙ্গে তাদের ধর্ষণ করতে উদ্বুদ্ধ করে।

এই দাবির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ প্রমাণগুলি নিয়ে আলোচনা করি এবং যুক্তি দিয়ে দেখি যে পুরুষদের ধর্ষণের আচরণ সম্পর্কে আরও সংক্ষিপ্ত দৃষ্টিভঙ্গি প্রয়োজনীয়।

আমরা প্রস্তাব দিই যে ধর্ষণকারীদের বিভিন্ন ধরণের একটির সাথে সম্পর্কিত হিসাবে চিহ্নিত করা কার্যকর হতে পারে,

স্বতন্ত্র পার্থক্যের দ্বারা এবং যে পরিস্থিতিতে তারা ধর্ষণ করার পূর্বাভাস দেয় তাদের দ্বারা চিহ্নিত করা যায়।

প্রতিটি ধর্ষক ধরণের সমর্থনের পাশাপাশি গবেষণারপ্রমাণ এবং ভবিষ্যতের গবেষণার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে আলোচনা করি।

পরিশেষে, মহিলাদের ধর্ষণ-এড়ানোর মনোবিজ্ঞান এবং আচরণ সম্পর্কিত গবেষণা নিয়ে আলোচনা করি।

সমাপ্ত মন্তব্যসমূহবিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞান হ’ল একটি শক্তিশালী হিউ-রিস্টিক সরঞ্জাম যা গবেষকদের একটি নতুন আলোতে বিবেচনা করার অনুমতি দেয়।

গবেষকরা যুক্তি দেখিয়েছেন যে পুরুষরা মনস্তাত্ত্বিক মেকা-এনজমগুলি বিকশিত করেছেন যা তাদেরকে স্পেসি-কনকেক্সটসে ধর্ষণ করতে উদ্বুদ্ধ করে।

যদিও এই অনুমানের সাথে কিছু প্রমাণ সামঞ্জস্যপূর্ণ, তবুও আমাদের আরও ধরণের গবেষণা করা উচিত যে ধর্ষণের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে অভিযোজনগুলি উপসংহারে পৌঁছানোর আগেই সিদ্ধান্ত নিতে পারি।

ধর্ষণকারীদের আরও সংক্ষিপ্ত দৃষ্টিভঙ্গি দেখা দরকার, যেখানে ধর্ষকরা বিভিন্ন ধরণের ধরণের ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে একটি হিসাবে বিবেচিত হতে পারে যা তাদের ধর্ষণ করার পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছিল।

গবেষকরা এমনটিও অনুমান করেছেন যে মহিলারা এমন প্রক্রিয়া বিকশিত করেছেন যা ধর্ষণ থেকে বাঁচতে অনুপ্রেরণা দেয়। কিছু প্রমাণ এই অনুমানকে সমর্থন করে।

বেষকরা কন-ক্লিউশন তৈরির আগে নারীদের বিবর্তিত ধর্ষণ-পরিহারের প্রক্রিয়াগুলি তদন্ত করতেও বাধ্যতামূলক ছিলেন। ভবিষ্যতের গবেষণায় মনস্তাত্ত্বিক

প্রক্রিয়াগুলি অনুসন্ধান করা অব্যাহত রাখা উচিত যা পুরুষদের ধর্ষণের আচরণ এবং নারীর ধর্ষণ-এড়ানোর আচরণকে উদ্বুদ্ধ করে।

টি আমাদের প্রত্যাশা যে এর প্রতিরোধে ধর্ষণবিদ্যার সহায়তার কারণগুলি সম্পর্কে গভীরতর বোঝা।

আইনে তাই শুধু ধর্ষণের জন্য সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন কারাদণ্ড৷

ধর্ষণের অপরাধে যাবজ্জীবনের বিধান কয়েকদিন আগেও ছিল৷

তাহলে শাস্তি হচ্ছে না কেন? এই প্রশ্নের সমাধান করতে হবে৷

ধর্ষণ মামলার যে প্রচলিত তদন্ত এবং বিচার পদ্ধতি, তাতে অপরাধ প্রমাণ করা কঠিন৷

তাই সঠিক তদন্ত ও বিচার প্রক্রিয়ায় আধুনিক এবং বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি চালু করতে হবে৷ অপরাধ প্রমাণ না করতে পারলে কঠোর আইন তো প্রয়োগ করা যাবে না৷

এখন মৃত্যুদণ্ডের বিধান হলে বিচারকরা তো আরো সতর্ক হবেন৷ কারণ, এটা জীবনের প্রশ্ন হয়ে উঠবে৷

যারা মৃত্যুদণ্ডের বিধানের জন্য আন্দোলন করছেন, তাদের কেউ কেউ আবার এই মৃত্যুদণ্ডের বিধান নিয়ে শঙ্কাও প্রকাশ করেছেন৷

তারা মনে করেন, বিষয়টি শুধু আইনের মধ্যে রাখলে হবে না৷

মৃত্যুদণ্ড তারা চান, কিন্তু এর সঙ্গে শিক্ষা, সামাজিক ব্যবস্থা, দৃষ্টিভঙ্গি ও সংস্কৃতির পরিবর্তন চান৷

পরিবর্তন চান দণ্ডবিধি ও সাক্ষ্য আইনে৷ তারা বলেন, আইনে ধর্ষণের শিকার নারীকে ‘পতিতা’ প্রমাণের সুযোগ করে দেয়া হয়েছে৷

আর চাপমুক্তভাবে আইনের প্রয়োগ দরকার৷

‘‘ধর্ষণ প্রতিরোধে সার্বিক বিষয়ে সংস্কার না এলে নতুন আরেকটি খারাপ পরিস্থিতির সৃষ্টি হবে৷

তখন ধর্ষণের সাথে ধর্ষণের শিকার নারীকে হত্যা করার প্রবণতা বাড়তে পারে৷ ধর্ষকরা তখন মৃত্যুদণ্ড থেকে বাঁচতে ভিকটিম যিনি, মূল সাক্ষী তাকে হত্যা করে প্রমাণ নষ্ট করার অপচেষ্টা করতে পারে৷’’

বাংলাদেশে ধর্ষণ দৃশ্যত অপ্রতিরোধ্য হয়ে ওঠার পেছনে কঠোর আইনের চেয়ে আইন প্রয়োগ না হওয়াকে দায়ী করছেন কোনো কোনো আইনজীবী৷

তারা মনে করেন, রাজনৈতিক বা অন্য কোনো ক্ষমতায় ক্ষমতাশালী যারা ধর্ষণে জড়িত তাদের অনেক ক্ষেত্রেই বিচারের আওতায় আনা যায় না৷

তারা বলেন, সিলেটের এমসি কলেজ হোস্টেলে ধর্ষণ, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জে নারীকে নির্যাতনের সঙ্গে যারা জড়িত তারা রাজনৈতিকভাবে শক্তিশালী৷

এই দুইটি ঘটনা নিয়ে মানুষ কথা বলায় আসামিদের আটক করা হয়েছে৷ কিন্তু এরকম আরো বহু ঘটনা আছে যেগুলো পুলিশ পর্যন্ত যায় না৷

আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, ‘‘আরো অনেক অপরাধে মৃত্যুদণ্ডের বিধান আছে৷ তাই বলে কি সেই সব অপরাধ কমেছে? 

অপরাধ করে যদি পার পাওয়া যায়, তাহলে কোনো কঠোর শাস্তিই কাজে আসে না৷ সরকারকে আসলে সব অপরাধীর শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে৷

মন্ত্রী-এমপি বা দল-লীগের প্রভাবে যদি অপরাধী রেহাই পায়, তাহলে কঠোর আইন শুধু আইন হয়েই থাকবে৷’’

মৃত্যুদণ্ডের বিধানের ক্ষেত্রে আইন প্রয়োগে নিরপেক্ষতা ও ন্যায়ের ওপর জোর দিয়েছেন নারীনেত্রী এবং মানবাধিকার কর্মী এলিনা খান

তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে ধর্ষণের শাস্তি মৃত্যুদণ্ডের বিধান সাধারণ মানুষের দাবি৷

ফলে মৃত্যুদণ্ডের বিধান করা ঠিক আছে বলে মনে হয়৷

কিন্তু  তার মতে, ‘‘আইনের সঠিক প্রয়োগের সাথে কোনো নিরপরাধ ব্যক্তি যাতে শাস্তি না পায় তা-ও নিশ্চিত করতে হবে৷’

’নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মিথ্যা মামলায় শাস্তিরও বিধান আছে৷ এই বিধানটিও যথাযথভাবে প্রয়োগ দরকার বলে আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মীরা মনে করেন

এদিকে কেউ কেউ মৃত্যুদণ্ড ছাড়াও ধর্ষকদের আরো বিকল্প শাস্তির প্রস্তাব করেছেন:

ধর্ষণের প্রতিকার এর জন্য আইনের পাশাপাশি শিশুর সামাজীকরণ প্রক্রিয়ায় অভিভাবকদের আরো দায়িত্বশীল হতে হবে:

১। প্রথম পর্বেই বলা হয়েছে স্কুল, কলেজ এবং পারিবারিক পর্যায়ে আন্তরিকতার সাথে সন্তানকে কিশোর বয়সে যৌনতা সম্পর্কে সুস্থ ধারণা দেওয়া।

শুধুমাত্র “এটা ঠিক না, এটা করা যাবে না” এরকম না বলে, বরং কেন করা যাবে না বা ঠিক কী করা উচিত এবং কতটা করা উচিত সে সম্পর্কে উপযুক্ত ধারণা দেওয়া।

২। পর্নোগ্রাফির ব্যবহার কমাতে সরকার ফ্রি পর্ন সাইটগুলো বাংলাদেশ থেকে প্রবেশ বন্ধ করে দিতে পারে অথবা বয়স যাচাই এর ব্যবস্থা রাখতে পারে।

তবে উপরের ডাটা থেকে দেখা যায়, রক্ষণশীল মনোভাবের দেশগুলোতেই পর্ন আসক্তির পরিমাণ তুলনামূলক বেশি।

নিচে পর্ন নিয়ে গবেষণা করছেন এমন একজন গবেষকের ইউটিউব ভিডিওর লিঙ্ক দেওয়া হলঃ https:/ww/w.youtube.com/watch?v=wSF82AwSDiU

৩। বাড়িতে যাতে বাচ্চারা পর্নোগ্রাফি ব্যবহার করতে না পারে, সেজন্য তার ব্যবহৃত ডিভাইসে প্যারেন্টাল কন্ট্রোল চালু করা।

৪। হাইপার সেক্সুয়ালিটি এবং এ ধরনের সমস্যায় যারা ভুগছেন তাদের জন্য সরকারী হাসপাতাল নির্মাণ এবং সাইকোথেরাপি কেন্দ্র নির্মাণ।

৫। বাংলাদেশের মানুষ সাইকোলজিক্যাল সমস্যায় অন্যান্য দেশের মানুষের মতই ভোগে কিন্তু গুরুত্ব দেয় না। এর একটা কারণ নিম্ন আয়। তবে সাইকোলজিক্যাল সমস্যাগুলো অবহেলা না করে বরং প্রফেশনাল থেরাপিস্টের পরামর্শ নেওয়া উচিৎ।

৬) ধর্ষণের ক্ষেত্রে সামাজিকীকরণেরও ভূমিকা আছে। জন্মের পর থেকেই পরিবার, স্কুল কিংবা বৃহৎ সামাজিক কাঠামোতে নারীর এবং পুরুষের আলাদা সামাজিকীকরণ প্রক্রিয়া জড়িত।

সামাজিকীকরণের ভিন্নতার কারণে নারী ও পুরুষের মর্যাদা বিষয়ে দৃষ্টিভঙ্গিও ভিন্নভাবে গড়ে ওঠে।

নারীকে যেখানে অক্রিয় (Passive) করে গড়ে তোলার সর্বাত্মক প্রচেষ্টা থাকে, সেখানে পুরুষকে গড়ে তোলা হয় বীরপুরুষ রূপে।

ফলে পিতৃতান্ত্রিক এই সমাজব্যবস্থায় পুরুষেরা বড় হয়ে ক্ষমতা কাঠামোর কেন্দ্র হয়ে ওঠেন। আর এই আধিপত্যবাদী মানসিকতার কারণে লিঙ্গই প্রধান হয়ে ওঠে।

ঢাকা-ভিত্তিক কর্মী জিফরুন আফসারি আল জাজিরাকে বলেছেন যে “অকার্যকর বিচার প্রক্রিয়া দ্বারা সমর্থিত ধর্ষণকারীদের বিরুদ্ধে দায়মুক্তির এক ক্রমবর্ধমান সংস্কৃতি”

এর মাধ্যমে নারী ও শিশুদের নিয়মিতভাবে বিচারে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়, যা প্রায়শই “দোষী থেকে দোষীটিকে দোষী সাব্যস্ত করা যায়”।

“আমরা তিনি প্রকাশ্য আদালতে ভিকটিম-দোষী আচরণের প্রতিবাদ করা উচিত যা ধর্ষণের বিচারে চরিত্রগত প্রমাণ ব্যবহারের মাধ্যমে অনুমোদিত হয়, তিনি বলেছিলেন,

“এর অর্থ তার পোশাক, অবস্থান এবং জীবনযাত্রার পছন্দগুলির উপর ভিত্তি করে তিনি কতটা ন্যায়বিচারের অধিকারী তা নির্ধারণ করার জন্য একজন মহিলার চরিত্রটি নির্বিচারে তার” মূল্যবান “মূল্যায়ন করার জন্য ওজন করা হয়।”

সমাজের প্রতিনিধি যারা আছেন, তারা যদি নির্যাতিতার ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য সহায়ক ভূমিকা পালন করতেন, তাহলে নির্যাতনকারীরা অন্যায় করার আগে ভাবত যে, অন্যায় করে সমাজে পার পাওয়া যাবে না। পরিবার ও সমাজের বিরূপ ভূমিকার জন্য নির্যাতনকারী অন্যায় করে পার পেয়ে যাচ্ছে।

ক্ষেত্রবিশেষে আইন প্রয়োগকারী সংস্থার অসহযোগিতার জন্যও নির্যাতিতারা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হচ্ছে।

বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে গত মার্চ থেকে জুলাই পর্যন্ত এই দুর্যোগের মধ্যেও পাঁচ মাসে ৫১৯ নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছে।

এর মধ্যে ২৮ জনকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে।

এদের ১২ জনের বয়স ১৮ বছরের নিচে ও ৫ জন ধর্ষণের পরে আত্মহত্যা করেছে।

এর মধ্যে ৪ জনের বয়স ১৮ বছরের কম। এছাড়া ৯৯ জন নারী ও শিশুর ওপর ধর্ষণের চেষ্টা চালানো হয়েছে।

যার মধ্যে ৭৩ জনই শিশু।

আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে নারী নাকি পোশাকের জন্য ধর্ষিত হয়।

তাদের উদ্দেশ্যে বলছি, তাহলে এই সমাজের শিশুরা কেন ধর্ষিত হচ্ছে, সেখানে কিন্তু ছেলে শিশুও রয়েছে।

তাই পরিবার, সমাজে তথাকথিত সালিশকারী ও আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের বিনীত আহ্বান জানাই, আপনারা ধর্ষকদের পক্ষে সাফাই না গেয়ে নির্যাতিতার পাশে দাঁড়ান,

তাদের ন্যায়বিচার পেতে সহায়তা করুন। তাহলেই সমাজে নির্যাতকের সংখ্যা হ্রাস পাবে।নির্যাতিতারা আর দ্বিতীয়বার সামাজিকভাবে নির্যাতনের হবে না।

বাংলাদেশ পুলিশের তথ্যে জানা যায় ২০১৬ সাল এবং ২০১৭ সালের এপ্রিল পর্যন্ত ৪ হাজার ৮শর বেশি ধর্ষণের মামলা হয়েছে।

 দেশে ধষর্ণের মামলায় বিচারের হার নিয়ে অ্যাডভোকেট সালমা আলী বলেন, "আমাদের অভিজ্ঞতায় দেখছি ধর্ষণ মামলায় মাত্র ৩ থেকে ৪ শতাংশের শেষ পর্যন্ত সাজা হয়।

প্রত্যেকটা জায়গায় একজন মহিলাকেই প্রমাণ করতে হচ্ছে অথবা একটা কিশোরীকেই প্রমাণ করতে হচ্ছে যে সে ধর্ষিত হয়েছে। 

যেটা আমরা চাই আসামীই প্রমাণ করবে যে সে নির্দোষ। রেপ কেসে এইটাই কিন্তু হওয়া উচিৎ।"বিচারহীনতার কারণেই কিন্তু ধর্ষণের বিষয়গুলা আরো বেশি হচ্ছে। বার বার প্রমাণ করতে গিয়ে ভিকটিম দ্বিতীয় বার ধর্ষণের শিকার হয়।

থানায় মামলা নিতে বা আসামী পক্ষের আইনজীবী যেভাবে প্রশ্ন করে তখন কিন্তু সে আরেকবার ধর্ষণের শিকার হয়।

আইনে আছে ১৮০ দিনের মধ্যে বিচার শেষ করতে হবে, বিশেষ ক্ষেত্রে কারণ দেখিয়ে কিছুটা সময় নিতে পারে। 

কিন্তু বাস্তবে দেখা যাচ্ছে মামলা শেষ হতে দশ বছর বিশ বছরও লাগে।

আইন পরিবর্তন হচ্ছে, তবু ধর্ষণ বন্ধ হয় না কেন?

সালিশিতেও রেহাই নেই।বিচারে দন্ড ধর্ষণ।আসলে আমাদের সম্মান বোধ হারিয়ে গেছে,আমাদের মন মানষিকতার পরিবতন করা উচিত. তা‘না হলে আমাদের কিছু করার থাকবেনা,আমার মন হয় আমারা সেই আদিকালে ফিরে যাচ্ছি ,যেখানে পশুর মত আচরণ করা হত!

বাংলাদেশে সম্বন্ধে ২০ টা তথ্য যা আমাদের সকলের জানা দরকার:

১) বিশ্বব্যাপী এক গবেষণায় ঢাকা কে বিশ্বের “দ্বিতীয় বসবাসে র অযোগ্য রাজধানী” ঘোষণা করা হয়েছে।

২) বাংলাদেশের অর্থনীতিবিদদের গবেষণা অনুযায়ী এখনও ৭৩% বাংলাদেশী গরিব।

৩) বাংলাদেশে শিক্ষার হার গড়ে ৬০%, এর মধ্যে অধিকাংশ স্কুলের গন্ডি পেরোয়না।

৪) নারীশিক্ষার হার খুব কম, ৯০% মহিলা স্কুল পাশ করার আগেই পড়াশুনা ছেড়ে দেয়, কারণ তাদের বিয়ে হয়ে যায়।

৫) বাংলাদেশ কিভাবে একটা সন্ত্রাসী দেশে পরিনত হচ্ছে সবাই দেখছে।

“ইসলামের শত্রু” বলে নাস্তিক, ব্লগার, সমকামী, মুক্তচিন্তার লেখক- কবি-সাহিত্যিক, অধ্যাপক, শিল্পী, সংস্কৃতিক কর্মী এবং সংখ্যালঘুদের কুপিয়ে মারা হচ্ছে।

৬) প্রতিদিন অনেক হিন্দু বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে আসতে বাধ্য হচ্ছে, নাহলে খুন-ধর্ষণ-জমি দখল বা বলপূর্বক মুসলমান বানানোর হুমকি দেওয়া হচ্ছে।

গত ১৫ বছরে হিন্দু জনসংখ্যা আড়াই কোটি থেকে এক কোটিতে এসে ঠেকেছে। বৌদ্ধ-খ্রিস্টান আরও কম।

৭) উপজাতি অধ্যুষিত দুটি অঞ্চল – পার্বত্য চট্টগ্রাম ও রাঙামাটি বাংলাদেশ থেকে স্বাধীনতা চাইছে।

৮) টয়লেট নিয়ে গর্ব করা বাংলাদেশীদের রাজধানী ঢাকাতে, রাস্তায় মলমূত্র ত্যাগ করা আটকাতে দেওয়ালে আরবিতে লেখা হয়েছে, যাতে অশিক্ষিত পদচারীরা ইসলামিক কথা ভেবে কিছু না করে।

৯) বাংলাদেশ এই মুহুর্তে শিশু নির্যাতন, শিশু ধর্ষণ, শিশু হত্যা, বাল্য বিবাহ ও গুম খুনের শতকরা হারে প্রথম দিকে আছে।

১০) বিশ্বের অষ্টম জনবসতির দেশ হয়েও বাংলাদেশ নিজে একটা আলপিনও বানাতে পারেনা, এরা ৯০% পণ্য ভারত থেকে আমদানি করে।

১১) এছাড়া ভারতের টিভি চ্যানেল, বাংলা- হিন্দি গান ও সিনেমা ওখানে সবথেকে বেশী চলে। আমাদের দেশে পশ্চিমবঙ্গ বা ত্রিপুরার মত।

১২) বিশ্বের অষ্টম জনবসতির দেশ হয়েও বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পৃথিবীর সেরা ৩০ টা বাহিনীর মধ্যেও আসেনা।

১৩) বিশ্বের অষ্টম জনবসতির দেশ হয়েও এউচ্চ তালিকায় বর্তমানে বাংলাদেশ ৫৬ নম্বরে, ইরাক, পাকিস্তান, নাইজেরিয়া, ভেনেজুয়েলার মত দেশেরও পেছনে।

১৪) বাংলাদেশ আজ পর্যন্ত্য অলিম্পিকে একটাও পদক জিততে পারেনি।

১৫) ক্রিকেট ছাড়া অন্য কোনো খেলায় বাংলাদেশ প্রথম ১০ এর মধ্যে আসেনা।

১৬) পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে অবৈধ অনুপ্রবেশকারী পাঠাতে বাংলাদেশ অগ্রগণ্য। তবে সবাই এদের ধরে ফেরৎ পাঠিয়ে দিচ্ছে।

সংযুক্ত আরব আমিরশাহী, সৌদি আরব, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ইংল্যান্ড, আমেরিকা এবং আরও অনেক দেশ।

ফেরার সময় আবার এদের বাংলাদেশ সরকার নিতে চায়নি, তাই সাগরে ভেসে বেড়াচ্ছে। একমাত্র ভারতই এদের রেখে দিয়েছে।

১৭) ভারতে অবৈধ বাংলাদেশীর সংখ্যা ৩ কোটির উপর হয়ে গেছে, যার বড় অংশ অসম ও পশ্চিমবঙ্গে বাস করে।

১৮) প্রতিবছর সৌদিতে বাংলাদেশীরা ১৫-২০ হাজার নারী যৌনদাসী পাঠায়। এরা যায় পরিচারিকা হিসাবে। কিন্তু বিকৃতকাম সৌদি শেখরা পরিচারিকার সাথে কি করে সবাই জানে।

১৯) সৌদি আরবে প্রতি মাসে গড়ে একজন বাংলাদেশির শিরচ্ছেদ না হয় জেল হয়, তাও এরা সৌদিদের প্রভু মানে।

২০) গত বছরে মুসলিমদের পবিত্রতম স্থান মক্কায় হজের সময় পকেট মারতে গিয়ে ১২ জন বাংলাদেশীদের এক গ্যাং ধরা পড়েছে।

আসকের (আইন ও সালিস কেন্দ্র) হিসাবে:

গত ছয় মাসে (জানুয়ারি-জুন, ২০১৫) ধর্ষিত নারীর সংখ্যা ৩২৬। ধর্ষণের পর খুন হয়েছে ২৯ জন।

মানবাধিকার সংস্থা ‘অধিকার’-এর হিসাবে:

  • গত ১৫ বছরে (২০০১-২০১৫) দেশে ১০ হাজার ৮৩২টি ধর্ষণের ঘটনা ঘটেছে।
  • এর মধ্যে মহিলা ৫ হাজার ৭০৫ জন, শিশু ৫ হাজার ২০, গণধর্ষণ ১ হাজার ৭৩৬টি,
  • ধর্ষণের পর হত্যা ১ হাজার ৩১২টি, ধর্ষণের পর আত্মহত্যা ১৩৭টি।

একটি ধর্ষণের ঘটনা, ধর্ষিতার জীবনে কতটা সিডর বা আইলা বইয়ে দেয়?

কেউ কি ভেবেছেন- ধর্ষণের মুহূর্তে একজন শিশু বা নারীর তনু-মন, মস্তিষ্ক, চিন্তা-চেতনায় কতটা সুনামি বইয়ে দেয়? আমৃত্যু অপ্রতিরোধ্য গ্লানির ভার কেউ কি কখনও নিতে পারে?

বুয়েটের সানি বা ঢাবির বাঁধনরা কি কখনও ওই কালো থাবার ছবি মন থেকে মুছতে পারবে?

তারা কী এই কখনও রূপ-রস-গন্ধময় বর্ণিল পৃথিবীর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবে? জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের কিংবদন্তি মানিক সাহেবরা!

ঘটা করে ধর্ষণের সেঞ্চুরি পালন করেও বহাল তবিয়তে পৃথিবীতে রাজত্ব করছেন।

কিন্তু তার লালসার শিকার নারীরা কেমন আছে-তা কি আমরা জানি? সহিংসতা এড়ানো যেতে পারে৷সহিংসতা ঘটার আগেই সেটার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে৷

এজন্য সহিংসতার যে কারণগুলো আছে সেগুলো নিয়ে ভাবতে হবে৷ এক্ষেত্রে অল্প বয়সি শিশুদের নিয়ে কাজ করা যেতে পারে৷

কীভাবে একজন ভালো পুরুষ হিসেবে গড়ে ওঠা যায় সে সম্পর্কে তাদের সচেতন করতে হবে৷

‘‘বাংলাদেশসহ ছয়টি এশীয়-প্রশান্ত মহাসাগরীয় দেশের পুরুষদের প্রতি ১০ জনের মধ্যে একজন ধর্ষক৷প্রতিবেদনের শিরোনাম এবং পরিসংখ্যানের এইরকম ফলাফল উদ্বেগজনক৷”

সমাজ পুরুষদের প্রতি আঙুল না তুললেও, পরিসংখ্যান আঙুল তুলে বসল অবশেষে৷

‘‘নিজেকে এখন পুরুষ হিসেবে নয়, একজন নারী হিসেবে চিন্তা করে নিজের প্রতিক্রিয়া বোঝার চেষ্টা করছি৷ আমি একজন নারী হলে, এই প্রতিবেদন কি আমার জন্য বিব্রতকর? অবমাননাকর? লজ্জাজনক?”

‘মানিক’ সাহেবরা(!) অবশ্য বাংলাদেশেই নয়, কম-বেশি সব দেশেই আছে। প্রতিবেশী ভারতের কথাই ধরুন।

ন্যাশনাল ক্রাইম রেকর্ডস ব্যুরো (এনসিআরবি)-এর তথ্যমতে:

ভারতে প্রতিদিন ৯২ জন নারী ধর্ষণের শিকার হয়।

২০১৩ সালেই এ সংখ্যা ছিল ৩৩ হাজার ৭০৭।

এ কারণে পশ্চিমা সমাজ এখন ইন্ডিয়াকে ডাকে রেন্ডিয়া (রেপ+ইন্ডিয়া) বলে। নামটা ব্যঙ্গাÍক হলেও ভারতের অনেক ধর্ষণ কাহিনী কিন্তু বিশ্ববিখ্যাত।

আমাদেরও অবস্থা রেন্ডিয়া (রেপ+ইন্ডিয়া)হবার পথে, এখনই লাগাম না টানলে পরবর্তি প্রজন্মের কাছে আমরা কি জবাব দেব?

ইন্ডিয়াকে ডাকে রেন্ডিয়া (রেপ+ইন্ডিয়া) তার একটা উদাহরণ:

২০১২ সালের ১৬ ডিসেম্বরে চলন্ত বাসে চার সঙ্গীকে নিয়ে মুকেশ সিংয়ের এক তরুণীকে উপর্যুপরি ধর্ষণ ও প্রহার। ২ সপ্তাহ পর তরুণীটির মৃত্যু হয় ও পরে মুকেশসহ সবার মৃত্যুদণ্ড হয়।

কিংবা ধরুন, সেবিকা অরুণা শানবাগের কথা। ১৯৭৩ সালে তিনি ধর্ষিত হন। ধর্ষিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি অচেতন এবং প্যারালাইজড হয়ে যান।

৪২ বছর কোমায় থাকার পর ৬৭ বছর বয়সে তিনি মারা যান। জীবন থেকে ৪২টি বছর হারিয়ে যাওয়ার বিষয়টি চোখ বন্ধ করে একবার ভাবুন তো!

আর দশজন তরুণীর মতো অরুণাও নিশ্চয় স্বপ্ন দেখেছিলেন, একদিন তার স্বপ্নের রাজকুমার আসবে, বিয়ে হবে, সংসার হবে, কোলজুড়ে ফুটফুটে বাচ্চা হবে।

তাদের সে মানুষ করবে। কোনো এক বিকালে স্বামীর হাত ধরে হাঁটবে।

আবার কোনো এক বিকালে সেই স্মৃতি রোমন্থন করবে…হায়, সব কিছু কেড়ে নিল মানুষরূপী জানোয়ারের হিংস্র থাবা।

Countries Compared by Crime _ Rape rate. International Statistics at NationMaster.com

Countries Compared by Crime _ Rape rate. International Statistics at NationMaster.com
বর্তমান রেপের হার অনুযায়ী বিশ্বে বাংলাদেশের অবস্থান ৪১
আপনাদের হয়তো মনে আছে, তারপর স্মরণ করিয়ে দিতে চাই, দেখুনতো মনে পড়ে কিনা?

সাল ১৯৯৩, জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রদলের নেতা সীমান্ত, মিতুল, জাপানসহ কয়েকজন মিলে এক ছাত্রীকে অপহরণ ও লাঞ্ছনা করেন। সেই সময়ের তথ্যমন্ত্রীর লজ্জা বা গ্লানি হয়নি সম্ভবত।

হলে কি আর ছাত্রীর বাবাকে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ডেকে সমঝোতা করিয়ে দিতে পারতেন? ওই ছাত্রীর ‘দ্বিতীয় নির্যাতন’ সেখানেই ঘটে যায়নি কি? আর কোনো দিনই ক্যাম্পাসে ফেরেননি সেই ছাত্রী।

সাল ১৯৯৮ জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক জসিম উদ্দিন মানিক ধর্ষণের সেঞ্চুরির ঘোষণা দেন। সেই ঘটনায় দেশজুড়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিবাদে উত্তালও হয়ে ওঠে।

সাল ২০০০ থার্টিফার্স্ট নাইটে ক্ষমতাসীন দলের একদল ছাত্রনেতা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের টিএসসিতে এক ছাত্রীকে লাঞ্ছিত করেন। সেবারও তাঁদের অপরাধে উল্টো শাস্তি মেলে ছাত্রীদেরই।

থার্টিফার্স্ট নাইটে ছাত্রীদের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ ঘোষিত হয়। ২০১৭ সালে মিরপুর সরকারি বাংলা কলেজের ছাত্রলীগের এক নেত্রী নিজ সংগঠনের সভাপতির দ্বারা ধর্ষণের শিকার হওয়ার ঘটনা প্রকাশ করে দেন।

পরিশেষে :

বর্তমানে বাংলাদেশে ছাত্ররা রাজনীতি-পরিচয়কে অপরাধের অস্ত্র ও শাস্তি ঠেকানোর ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ পায়।

তারা জানে, পুলিশ, আইন, বিচার প্রভৃতি সবকিছুই তাদের ক্ষমতার কাছে নতজানু। তারা জানে যে এসব প্রতিষ্ঠানকে ক্ষমতার চোখ রাঙিয়ে সটকে পড়া যাবে।

তাই তারা অনায়াসে নানা রকম অপরাধে যুক্ত হওয়ার সুযোগ ছাড়ে না। বেপরোয়াপনা ও ‘মাসল পাওয়ার’ দেখানোর আরও নেপথ্য কারণ আছে। তালিকা লম্বা করে লাভ নেই।

ক্ষমতায় থাকা দলগুলোর ছাত্র সংগঠনের ধর্ষণকাণ্ড লিখতে গেলে কয়েক খণ্ড গ্রন্থ রচিত হয়ে যাবে।

ধর্ষণকাণ্ডের অধিকাংশই খবরে আসে না। ধর্ষণের শিকার নারীরা সাধারণত ভয়েই ঘটনা প্রকাশ করেন না।

এসব সমস্যা ছাপিয়ে ছিটেফোঁটা যে দু-একটি খবর প্রকাশিত হয়, সেগুলোর কয়েকটি দিয়েই অপরাধীদের দায়মুক্ত থাকার নমুনা টের পাওয়া যায়।

বর্তমানে বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট বিবেচনা, দেশী-বিদেশী গণমাধ্যাম, তথ্য-প্রযুক্তির অপব্যাবহার, স্যাটালাইট মিডিয়া, ইন্টারনেট, আন্তঃব্যাক্তিক সম্পর্ক, আদালত পর্যালোচন, ধর্ষণের শিকার ভিকটিম ও ধর্ষক এর সাথে কথোপকথন, আধুনিকতার নামে অপসংস্কৃতিক আগ্রাসন, মাদক ও পর্ণ্যগ্রাফির সহজলভ্যতা শিশু থেকে বয়ঃবৃদ্ধদের মানবিক আচরণের ক্ষেগুলোকে বিকৃত এক আসক্তির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।

বন্ধুত্ব নির্বাচনে হোক আর সামাজিক মেলামেশায় যৌন আকাঙ্খাকে প্রদর্শন করার প্রবণতা, বিচারহীনতা বা বিলম্ব বিচার, সাক্ষ্য আইনের ১৫৫ ধারা, ক্ষমতার জোর বাংলাদেশের ধর্ষণ সংস্কৃতিকে উসকে দিচ্ছে।

অভিভাবক শ্রেণী সন্তানদের খোজ-খবর, পারিবরিক, ধর্মীয় ও নৈতিক শিক্ষার ব্যাপারে উদাসীনতা,

ধর্ষকদের সঙ্গে স্থানীয় রাজনৈতিক মুরব্বিরা আপসরফা করার আপ্রাণ চেষ্টা আজকের এই ধর্ষণের সামাজিক নিরীক্ষণচিত্রের জন্য দায়ী।

তাই ধর্ষকদের বাঁচাতে মুরব্বিদের পরোক্ষ ধর্ষক বা ধর্ষণে প্ররোচক বললে ভুল হবে কি?

ধর্ষক বা ধর্ষণের প্ররোচকদের কোন দল নেই, ধর্ম নেই, তাদের কাছে নারী মনে ভোগ্যবস্তু।

নিজের বা অন্যের মা-বোন সবই তাদের যৌন লালসার চোখে সমান।

রাজনীতিকে ঢাল বানানো ধর্ষকদের যেকোনো রকম দায়মুক্তির বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর ছাড়া কোনো বিকল্প নেই।

ভবিষৎ প্রজন্মের সামনে আমরা আতংকের এক সমাজ ব্যাবস্থা রেখে যাচ্ছি এখনই যদি বাংলাদেশের ধর্ষণ সংস্কৃতির সামাজিক নিরীক্ষণচিত্র বদলে ফেলতে না পারি।

কে জানে প্রতিনিয়ত আরও কত বীরঙ্গণার জন্ম হবে!


আমার ব্লগ দেখুন

তথ্য সূত্র:

#ধর্ষণ, ‎ধর্ষণের প্রকারভেদ , প্রতিরোধ ও প্রতিকার, ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি, ধর্ষণের সর্বোচ্চ শাস্তি রেখে এ সংক্রান্ত আইনটির একটি সংশোধনী প্রণয়ণ, ধর্ষণ বন্ধে জরুরি সমাধানে আমাদের করনীয়, ধর্ষণের, বাংলাদেশ সহ বিশ্ব পরিসংখ্যান চিত্র,গণধর্ষণ, বৈবাহিক ধর্ষণ, অজাচারী ধর্ষণ, শিশু যৌন নির্যাতন, জেল ধর্ষণ, পরিচিতি ধর্ষণ, যুদ্ধ ধর্ষণ এবং আইনী ধর্ষণ,দলবেঁধে ধর্ষণ, বিচারহীনতা, দেশে শিশু পর্নোগ্রাফির থাবা,আদালতে পক্ষদ্বয়ের মধ্যে আপোষ প্রবণতা, ডিএনএ টেস্ট নিয়ে জটিলতা, নারীর চরিত্র নিয়ে প্রশ্ন ও হেনস্তা,ধর্ষণের প্রাকৃতিক ইতিহাসের জৈবিক ভিত্তিগুলির যৌন জবরদস্তি, তদন্ত ও প্রসিকিউশনের গাফিলতি, ধর্ষকদের রাজনীতি-পরিচয়কে অপরাধের অস্ত্র ও শাস্তি ঠেকানোর ঢাল হিসেবে ব্যবহার করার সুযোগ, ক্ষমতার ও রাজনীতি ব্যবহারকারী গুন্ডাদরে রাজনীতে আনু প্রবেশ এর সুযোগ বন্ধ করে সুস্থ ধারার রাজনীতিচর্চ্চা

বাংলাদেশে ধর্ষণ সংস্কৃতির সামাজিক নিরীক্ষণচিত্র │ সৈয়দ তৌফিক উল্লাহ

Comments (4)

  1. Avatar

    This research based on contemporary rape situations in present Bangladesh, after reading this I feel scared for our future generations .

    Keep it up Advocate Taufiq and continuing your antiestablishment activities.

    Such a enormous inspiration and so much resourceful research work on rape, present perspective rape situation in Bangladesh. I just not only read but feel it core of my heart .

    Best regards

    Adv.Abu obaida bipu
    Bangladesh.

  2. Avatar
    Chowdhury Touhidur Rahman Tushar, Advocate, Supreme Court of Bangladesh.

    Simply excellent! nothing else comment bro. I am proud of you.

    ধর্ষণ – তাড়াহু‌ড়ো ক‌রে শা‌স্তি বৃ‌দ্ধির ভয়াবহ প‌রিন‌তি‌ঃ •••••••••••••••••••••••••

    বিগত বেশ‌ কিছু‌ দিন বি‌ভিন্ন ধর্ষণের ঘটনায় দেশ জু‌ড়ে তোড়পাড় চল‌ছে। গত ৬ অ‌ক্টোবর ব‌রিশা‌লের বা‌কেরগঞ্জ থানায় ৬ বছ‌রের খেলার সাথী‌কে ১০ বছর বয়সী অন‌্যান‌্য ৪ জন শিশু বাগা‌নের ম‌ধ্যে ধর্ষণ ক‌রে‌ছে ম‌র্মে ভিক‌টি‌মের পিতা কেস ক‌রেন। পু‌লিশ শিশু আসামী‌দের গ্রেফতার ক‌রে বা‌কেরগঞ্জ আমলী আদাল‌তে সোপর্দ ক‌রে।‌ বিজ্ঞ বিচারক তা‌দের জা‌মিন না দি‌য়ে য‌শোর কি‌শোর উন্নয়ন কে‌ন্দ্রে আটক রাখার নি‌র্দেশ দেন। দীর্ঘ বিশ বছর আইনাঙ্গ‌নে কাজ করার অ‌ভিজ্ঞতা থে‌কে বল‌ছি, আমা‌দের দে‌শে প্রকৃত মামলা যা হয় তার দ্বীগুন হয় ফল্স মামলা। এ মামলা‌টি সত‌্য না মিথ‌্যা নাকি অ‌তির‌ঞ্জিত তা বিচা‌রের ভার আপনা‌দের উপর ছে‌ড়ে দিলাম। ক‌মেন্ট ক‌রে জানা‌বেন আশা ক‌রি। ত‌বে আ‌মি অবাক হ‌চ্ছি এই ভে‌বে যে, দে‌শে প্রচ‌লিত শিশু আইনানুসা‌রেই ১০ বছ‌রের শিশু আসামীগু‌লি জা‌মিন পে‌তে হকদার হওয়া সত্ত্বেও বাস্ত‌বে তা ঘ‌টে‌নি। এজন‌্য রাষ্ট্রীয় দা‌য়ি‌ত্বে যারা থাক‌বেন তারা স্বাভা‌বিক ও সুস্থ‌্য সে‌ন্সে আ‌ছেন কিনা সেজন‌্য ৫ বছর অন্তর ডোব‌টেষ্ট করা দরকার। অবশ‌্য আমলী আদাল‌তের সং‌শ্লিষ্ট ম্যাজি‌স্ট্রেট‌কে আগামী র‌বিবার মাননীয় হাই‌কোর্ট ডে‌কে‌ছেন। দেখা যাক কি হয়!

    ত‌বে বহুল আ‌লো‌চিত সি‌লে‌টের এম, সি, ক‌লে‌জের ধর্ষণের ঘটনা ও নোয়াখালীর ঘটনাটা দে‌শের বি‌বেকবান সকল মানু্ষ‌কে নাড়া দি‌য়ে‌ছে। ঘটনা দু‌টি সম্পূর্ণ সত‌্য ব‌লেও ম‌নে হ‌য়।‌ বি‌ভিন্ন সামা‌জিক ও রাজ‌নৈ‌তিক সংগঠ‌নের প্রতিবাদ ও আন্দোল‌নের মু‌খে সরকার ধর্ষণের স‌র্বেচ্চে শা‌স্তি যাবজ্জীবন কারাদন্ড থে‌কে বৃ‌দ্ধিকরে মৃতু‌্যদন্ড করার‌ সিদ্ধান্ত নি‌য়ে‌ছে। আইন‌ বিজ্ঞান অনুযায়ী কোন অপরা‌ধের শা‌স্তি‌ নির্ধার‌নের সময় বিশ্বব‌্যা‌পি প্রতি‌ষ্ঠিত কিছু নী‌তি ফ‌লো কর‌তে হয়, অন‌্যথায় যত ক‌ঠোর শা‌স্তিই করা হউক না কেন তা অপরাধ কমা‌তে পা‌রে না। আ‌বেগ তা‌ড়িত হ‌য়ে তাড়াহুড়া ক‌রে সিদ্ধান্ত নি‌লে ভুল হ‌তে বাধ‌্য।

    অপরাধ ও শা‌ন্তি বিষ‌য়ে ১৮৬০ সা‌লে যে দন্ড‌বি‌ধি ব্রিট্রিশ ক‌রে গি‌য়ে‌ছে তা অবিকৃত অবস্থায় অদ‌‌‌্যাব‌ধি চল‌ছে কিন্তুু নারী নির্যাতন ও ধর্ষণ‌ বিষ‌য়ে ২০০০ সা‌লে যে আইন আমরা প্রণয়ন ক‌রে‌ছিলাম তা ই‌তিম‌ধ্যে ২/৩ বার সং‌শোধন করার পরও বিচার প্রার্থী‌দের চা‌হিদা মেটা‌তে পার‌ছেনা। দন্ড‌বি‌ধি প্রণয়‌নের জন‌্য ব্রিটিশ ১৮৩৪ সা‌লে আইনজ্ঞ‌দের সমন্ব‌য়ে লর্ড মেক‌লের নেতৃ‌ত্বে এক‌টি ক‌মি‌টি ক‌রেন। তারা দীর্ঘ প্রায় ৩০ বছর গ‌বেষণা ক‌রে দন্ড‌বি‌ধি তৈরী ক‌রেন যা ১৮৬০ সা‌লে ব্রিটিশ ভার‌তের পার্লা‌মে‌ন্টে পাশ হ‌লেও ১৮৬২ সাল থে‌কে কার্যকরী হয়, যা অদ‌্যাবধি বাংলা‌দেশ, ভারত, পা‌কিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নিঙ্গাপুর, মাল‌য়ে‌শিয়া সহ বহু‌দে‌শে চলমান।

    আইন বিজ্ঞ‌ানের দর্শন হল,আই‌নের ক‌ঠোরতা দ্বারা ক্রাইম ফ্রি সোসাই‌টি গঠন করা যায় না। প্রকৃতপ‌ক্ষে ক্রাইম ফ্রি সোসাই‌টি গঠন করা প্রায় অসম্ভব।য‌দি তা করাও যায় ত‌বে তা আই‌নের কঠরতার মাধ‌্যমে নয় তা শিক্ষা ও অর্থনৈ‌তিব উন্ন‌তি এবং ধর্মীয় অনুশাস‌নের মাধ‌্যমে করা সম্ভব। আমরা আমগা‌ছে কাঠাল ও সোনা দ্বারা পাথ‌রের বা‌টি তৈরী কর‌তে চা‌চ্ছি যা অসম্ভব। আইন প্রণয়ন ক‌রেন সাংসদরা কিন্তুু বর্তমা‌নে সংসদ ভবন‌টি ব‌্যবসায়ী‌দের ক্লা‌বে প‌রিনত হ‌য়ে‌ছে। তাই দে‌শে ব‌্যবসা চল‌ছে দেদার‌ছে, আইন চল‌ছে না।

মন্তব্য করুন