কবিতাগুচ্ছ কবিতা

বালিকা ও মহাজনী পুকুর সমীকরণ ও অন্যান্য কবিতা │ রুদ্র শায়ক

▌ রুদ্র শায়ক

পাখিরা ফিরবে  পাতার সবুজে

 

কুয়াশায় ভেজা ঘাস ফুল মাড়িয়েছি বলে্লে

হাওড়ের পাখিরা ফিরেনি নীড়ে

নিশ্চুপ মাছরাঙা জানে সে কথা

হাওড়রে নৌকায় অবাধ্য মন জেগে ছলি সারারাত

মাছদেরে গাই কতদূর বৌদিরা জানে সে কথা

আকাশে তারারা সভা করেছে

এবছর হাওড়ে বনভোজন হবে

পাখিরা ফিরবে পাতার সবুজে

বৃক্ষরা উপটোকন নিবে মাছ

কোন মাছ শিকার হবে না হবনো

মাংশাসী হবো সুন্দরবনে

আধাঁরে আলোর শিখা জ্বালাবে শিকারি মন

চাঁদ সাঁতার কাটবে উজান স্রোতে

পরিবেশবাদীরা খাবে না শাকসবজি

সিঁথির সিঁদুরের উজ্জ্বলতা পাড়াতো বৌদিদের ঘরে ঘরে

শাকান্ন ভোঁজে লাবণ্য সেবা

এবছর সব কবতিা ঘুড়ি হয়ে উড়বে

হাওড়ের বিচ্ছিন্ন দ্বীপে বৃক্ষরে ডালে ডালে

 

 

 

 

বিমুখ প্রান্তর

 

প্রচল বাঁকে ফেলে দিয়েছি তাবৎ বর্তমান

এসব মিথ্যা অহং নয়

তুষার কঞ্জলিাল চলে গেলে

মিথ্যা হয় না প্রান্তিক প্রয়াস

বিমুখ প্রান্তে ও আছে জীবন

আছে অযাচিত কাহন

শিশির  শিকারে একবার এসে দ্যাখো সোনালু ওম

ফিরাবে কি বলো উৎকণ্ঠার চোখ

আকাশরে ক্ষত নেই

রাস্তার ছুটি নেই

মেঘেদের বাড়ি নেই

লোভ বলতে যতটুকু কাগজেই ভালো

যতিচিহ্নের আগে কালির পশু আঁকো

খুলে গেছে সেফটিপিন স্তব্ধ হাততালি

বিভূতিভূষণের গ্রামে পাতার নিরবতা

 

 

 

 

নিঃশব্দের দেয়াল

 

নিঃশব্দের দেয়াল ভেঙ্গে শব্দময় হও আজ রাতে

দ্বিধা খুলে হও নগ্ন চাঁদের প্রতিরূপ

শূণ্যতা নিয়ে আমি হু-হু বাতাস

কোনদিন অন্ধকারে নদীকে ছুঁয়ে দেখিনি

এ আমার সরল পাপ

সমুদ্রের প্রতিদ্বন্দ্বি উত্তাল হৃদয় আমার

বুনোগন্ধ নিয়ে প্রায় ঢুকে পড়ি তোমার ব্যক্তিগত জমিনে

রাতের আকাশে আকাশ দেখি না-

শুধু তোমার শাড়ির আঁচল

শাড়ির পাড় একাকার হয়ে গেছে নদীর টানে

নগ্ন চাঁদ সাঁতার কাটে শামুক ঝিনুক আর বালির কারুকাজে

চরে আটকা পড়া লাল কাঁকড়া হয়ে খুঁজি জোয়ার নদীর নাব্যতা

 

 

 

 

 

 

 

 

 

পৃথিবীর অনির্দেশ মুখ

 

হাতের কঙ্কানে ভাঙ্গেনি কেউ গাঢ় কুয়াশার ঘুম

ভেবো না হৃদয়ে নাব্যতা নেই

শরৎ কাশের পালকে ছোঁয়া তখনো ভোর

চোখ খুলে দেখিনি জলের শরীরে ভেজা চাঁদের লাবণ্য

হৃদয়পুরে কোরো ছবি রেখে খুলোনা রহস্য দরজা

দেখো রক্তরূপে নিজের জখম

প্রতিরাত জেগে থাকি – বাতাসে লুকিয়ে আছে পাখিটি

মনে হয় পৃথিবীর অনির্দেশ মুখ

দু’জন দুদিকে চলে গেছি

বাতাসের অনুকূলে ভেসে

কামনার চাদরে তারারা কথা বলে লাবণ্য রেখা ধরে

ভোরের শিশিরে নারীর গন্ধ

পাথর ঠুকে শব্দ শুনি- পাখিরা চলে যায়

ব্যাকুল হৃদয়ের সমবেদনা

গন্তব্যের সীমানায় লাল কাঁকড়া

বৃষ্টি এলে দু’হাত ভরে ভালোবাসা নিবো টুপটাপ

পাখি উড়ে…

আমি ক্রমশ ঝরে পড়ি উনুনে জ্বলা

কারো চিবুক ভেজা ঘামের উজ্জ্বলতায়

 

বালিকা ও মহাজনী পুকুর সমীকরণ

 

শেওলা ঘেরা পুকুরে

ফাৎনা উঠে ফাৎনা নামে…

রাক্ষুসী খায়না হৃদয়ের টোপ

লাল শাপলা ফুটেছে; বালিকা সাঁতার শিখলে না

দুপুরের খরায় নির্জীব…

বালিকা প্রেমের বয়স খোলে না

মহাজন শুকাবে পুকুর এ শীতে

বর্গাচাষী ফলাবে ফসল

ঊনবর্ষায় শিকারে আসবেন মহাজন

এ পুকুরে ডুবসাঁতারের লোভে তুলেছি শেওলা

সাঁতারের ভুলে বালিকা মহাজন পুকুরে

মন্তব্য করুন