কবিতাগুচ্ছ কবিতা

সর্বাবভাসক আত্মতত্ব ও অন্যান্য কবিতা │ শুভদীপ দেব

বুধবার

নিরন্ন জঠরের অভিলাশে অভিশপ্ত এক মিনষে আমি,এখনো শিশু

মা হতে পারিনি কবিতার

শুধু মাতৃকার ভাষা আওড়াতে গিয়ে

বোবা বনে গেছি

মহামান্য মহামারি

হ্যাঁ,আপনাকে বলছি

প্রত্যেকটা মৃতদেহসচিবের পরিবারে

দান করুন ভেঙে যাওয়া অন্বয়

প্রকারান্তে আমাকে বসান অন্য কোন পৈতৃক ভিটায়

চিরতন্ময় বৃক্ষেরা যেভাবে

আকাশের ক্ষুন্নি বুক থেকে নিংড়ে আনে জল

ঠিক সেভাবেই

আর্জি, ঠিক এতটুকু আর্জি যেন ভিক্ষের মত জীবনের

ভয়ার্ত জীবনের

সন্ত্রস্ত জীবনের

সুবিস্তীর্ণ মরুচরের শিশুর মত শিশু সেজে

এই প্রার্থনায় ডুবে মরবার তর্জমা শিখে ফেলেছি আমি

জানি কোন লাভ নেই তাতে

যদি পেটের ক্ষিদে সমেত

ভালোবাসার নিকোন আঙিনায় বসে বসে কেউ

পৃথিবীর কথা ভুলে যায়

তার কানে কালো মূলের মত ঝুলতে থাকে

জমতে থাকা বরফ

তবে তার নিষ্ঠুর চোখের তাতালে রজনও গলে যায়?

দলে দলে চলে যায় নিরন্নতা? শঠতা?

জঠরের গ্লানি?

প্রশ্ন এসবও প্রশ্ন

কোন উষ্ণ অভিযোগ পরাগতের

কারক ফুল্কা

লেখার মত হাত আজ আর আমার নেই

যা আছে তা দিয়ে ভালোবাসি

এক সীমন্তিনী কে

সে আমাকে বাঁচতে শেখায় প্রতিদিন

নতুন করে করে

আমি হাঁটি আর নিজের

টালমাটাল পা দেখে দেখে বিস্মিত হই

সীমন্তিনী তোর জন্যে সারা আকাশ

উথাল পাথাল করে তো করুক

এই নিরাভরণ মেঘ আমার সঙ্গী

আমার প্রত্যেকটা উচ্ছাস আর উচ্ছেদে

তোর নিরন্ন বুক আমার সঙ্গী

প্রতিহিংসা পুড়িয়ে রাতের নীল ফুল

এখন আমার অন্তরতরা

এত অশ্রু এত অন্ধকার

সব প্রিয় আমার

সব

বল তোকে কি দেব

ওই দূরের ঘুড়ির রঙ

নাকি ওই মস্ত বড় প্রাচীন

নিমগ্ন প্রাচীরের মত পাহারায় বসে আছে

তোর প্রতি প্রেম

আলোভাম কালোভাম

সীমন্তিত সীমন্তিনী

আমার অন্যায় ক্ষমা করিস না তুই

মিশ্র অপচয়ে

মিশ্র নীলাভ ফুলেল অন্বয়ে

শুধু একে দিস

এক দিস্তা কাগজের দাম

আমি লিখতে চেষ্টা করব

প্রশ্নাতীত

সেগুলো কি তাহলে বীর্য বৃষ্টি ছিল

যার সাথে অন্ডস্ফূত কণারা মিশে

জন্ম নিয়েছিল প্রথম তিমি

আমি আমার ত্রাসযন্ত্রে এইসব প্রশ্ন ঢালিনা

সেই প্রথম ঢেলেছিলাম

আগ্নিগোলক শুষে

আমি কিংবা আমরাটা আসলে কে বা কারা

এটাও একটা প্রশ্ন

মনখারাপের ওষুধ খেতে গিয়ে

মাঝরাতে মনে পড়ে

উত্তরহীনার কথা

কতটা অস্পষ্ট সেই খোঁজখবর

আহ

বাংলাভাষার গভীরে আর কোন ভাষা লুকিয়ে আছে কি

নাকি সব ভাষার জগাখিচুড়িতে মিশে থাকে এক একটা প্রেম

কিংবা কবিতা

কারা বহুগামী নয়

কাদের প্লেটোনিক স্বতঃস্ফূর্ততারা বেশ্যার জমি বিক্রী করেনা

আমি কিচ্ছু জানিনা

শুধু মনে হয় এই মন আর যাবতীয় লোভের আড়ালের কথা

পুরুষ কিংবা হিমেলয়ের যে কোষ

ঘন ঘন অন্ধকার ছিদ্রের কাছে গিয়ে গান গায়

সেইসব কোষের কনক

দোলকে দোলকে ঘুরতে ঘুরতে নষ্টামোর কাছে ফিরে আসে

মায়াগুলোকে ভয় দেখায়

আর রক্তারক্তি করে

কেউ বলে এইসব প্র্যাপ্য ছিল পয়ায়ের

একাকীত্বের কুচকাওয়াজে

মল্লিকাফুল সব নেয়

ধরিত্রীর যৌনান্ধ সম্বরণে

স্বীকারোক্তি

রজনীগন্ধা ফুলের আঁচলকে প্রেম ভেবে

কবিতা লিখতে নেই

একথা আগে জানলে আত্মহত্যা করতাম

সত্যি বলছি মনোলীনা

এইসব হতাশার গান মূলত

শ্রদ্ধার প্রাচীর ভেঙে তোলা

মিথ্যেটা আমি ভালোর জন্য বলিনা

সিং উঁচিয়ে দৌড়ুতে পেরেছি বহুবার

বহুবার ঘেমে গেছি আকন্ঠ নীল মদের আসরে

যাবতীয় প্রাণান্ত আমাকে শুধু ব্যাথা পেয়ে পেয়ে

মরে যেতে শিখিয়েছে

দূর থেকে দূরে তাকাতে তাকাতে

এখন আর কাছের কিচ্ছু দেখিনা

প্লাস পাওয়ারের চশমায় জমে থাকে মেঘ

ছোট ছোট ইমোজির ভেতর জমে থাকে বিস্মিত শিশু

যারা একদিন অদ্ভুতভাবে মুগ্ধ হতে চেয়েছিল

শুধু

আমি বাজারদরের কিছুই জানিনা

শুধু জানি এক একটা নোটের নটে লুকিয়ে থাকে

সাড়ে দশটা ভাষা আর গুপ্তদাগ

যা থেকে বোঝা যায় জীবনের প্রকৃত বিম্ব

নীলচে সময়

আধ্যাত্মিকতার অন্নকুট

তুমি বেঁচে থেকো মনোলীনা

তুমি ভালো

তোমার কথার অহী বিদ্যা

যা শুনলে মিথ্যা সন্দেহরা মরে যায়

ঠিক সেইরকম মৃত্যুর খাদে স্নান করাতে করাতে

আমার চোখ বুজিয়ে দিও

অন্তরাল অক্ষরে

বুকের পাঁজর ভাঙা গাছের আড়ালে

আমার হাতে বারবার পুঁতে দিও

ভালোবাসার শুরু কিংবা শেষ

সর্বাবভাসক আত্মতত্ব

মানবতার প্রতি মানবতার কক্ষনো বিকর্ষন হয়না,যা জেনে আমি আমার মত নিজেকে অবরুদ্ধ করতে থাকি।কখনো প্রণাম, কখনো থাপ্পড়, কখনো চিৎকৃত চিন্তা কিংবা অপচিকিৎসার ঘুষে ডাক্তার ডাক্তার খেলি।ঠিক অর্জুন যেভাবে শুনেছিলেন,মানুষ ঈশ্বর এর রূপ ধরে নিতে চলেছে ক্রমে।বিবর্তন মানে কি তবে আত্মার স্থানান্তর, নাকি রোবটের গালিগালাজ?

স্ফুরণ

তুমি

গেলে

কোথায়?

ইচ্ছে করলেই দানবধাতুর প্রত্যক্ষ কৃষ্ণচুড়া ফূঁড়ে উড়ে চলে যেতে পারে ধীমান।আমি তাঁর জন্য উৎকৃষ্ট জিনোমের আকাঙ্খায় ডুবে যাওয়া ছাড়া কোন কুঠার হাতে নিতে পারি?

আঁতের অপর নাম ঘা।বিন্দুতম বিন্দুতম বিন্দুতম।সিন্ধুতম সিন্ধুতম সিন্ধুতম।উৎক্ষিপ্ত চোরা শব্দলব্ধ জ্ঞ্যান আমাকে এভাবেই মহাভাতের/মহাভারতের রহস্য চেনায়।অস্পষ্ট পল্লবের পরিণয় হয় স্পষ্ট পল্লবের সাথে।তবু কেউ দূরে সরাতে চায়না আমার সমুদ্র যাকে আমি বহুকাল ধরে গণ্ডুষে গিলে চলেছি।

নিউরোটিকার একোয়াটিকায় অদ্ভূতুড়ে পাতা উল্টে চলেছি একের পর এক।

গাছের পাতাগুলো সবার পাশাপাশি আমাকেও পড়ে চলেছে।

কখনো

কখনো

দুর্দান্ত

ধর্মনাশা

আমি!

আশ্চর্যজনক ইট পকেটে পুরে পাটকেলের মত অভিযোগ করি

তারামন্ডলের তিমিরমন্ডলেরা কিচ্ছুতো একটা জানাও।কল্পনায় মশগুল কর্তৃপক্ষের বাইরের কিচ্ছু,যাকে হাতে নিয়ে অমানিষি আমি অথবা আমারই মতন যাবতীয় আত্মতুষ্টির মল এবারকার মত বেঁচে যাবে।প্রকাশনা খুলবে সর্বাবভাসক।

করুন স্বরের ‘মিগিজান মুর্দাফরাসেরা’ ঘুম থেকে উঠে দেখবে চারদিকে চামচিকে ছাড়া আর কিচ্ছু নেই।

মন্তব্য করুন