কবিতাগুচ্ছ কবিতা

১ মিনিট নীরবতা ও অন্যান্য কবিতা│ সৌরভ গোস্বামী

হিসেবের খাতায় হিসিইইইইই

অল্প আধাঁর। চারিত্রিক বৈশিষ্ঠ্য। বাহ্যিক চিৎকার সমান্তরাল।
কানের ভেতর বরফের জল। পিপাসা। ঘোড়ার উস্কানি। নিষিদ্ধ ডিম। কাকলির ঘাড় বেয়ে নামা ঘাম। আমার নিম্নাঞ্চল এর ওজন বারা। তলপেটে রক্ত। নিস্তেজ নাভি। ভাতের ঘুম। সোনালি। জানালার পাশে উড়তে থাকা ঝুলন্ত পুল। মানিব্যাগে দেশলাই।মুখে চ্যাট চ্যাট করা চুল। ফেনের বাতাসে ঈস্বর। ন্যাংটো মুর্তি। জিভে রস। সমবাদী পচা রক্ত। শ্মশানের প্রথম কাঠ। সাইরেন। তুলশী গাছের প্রদীপ। শেকলের জালে মুতে দিচ্ছে পূর্বজন্ম। পরজন্ম আর বর্তমান ড্রেনের জলে হুইইইস্কি খোঁজে। ভাজে ভাজে শিহরণ। উফ্। মরার পিঠে চড়ে ব্রাহ্মণের কর্পোরেট এডভ্যেঞ্চার। একটা সাইরেন। রাস্তায় একটা ছোকরার অকত্য গালাগাল। একটা মধ্যবিত্তের দয়া ভরা চোখ। শিৎকারে নিতম্ভের প্রয়োগিক ব্যবহার। একটা জ্যামিতিক আত্মসমালোচনা।

আমি বিতাড়িত ব্রাহ্মণ

আমার জন্ম হতে জন্মেছিল এক বৃত্তকার ধর্ম
হ্যাঁ, ঠিক শুনেছেন….
আলপিনের গলায় মালা পরিয়ে ডিম বিক্রি করে
আমি ঘাম ঝরাই।
আমার পিতৃপক্ষ কুলীন ব্রাহ্মণ
আমার ব্রাম্মনত্ত্বের পরিচয়ে আমার বীর্যের শেষ বিন্দু লেগে থাকে…
গতকাল রাতে আমি খুন করেছি,
ভেবেছি সকালে বিছানা ভিজিয়ে উঠে যাব। বৃত্তের লেজ ধরে টানছে ব্রেসিয়ারের হুক।

আমি ঘোড়া টিপে বাদাম খেতে পারি না, তবে হ্যাঁ বোটা টিপে মারানো জানি।
আমার চর্বিতে লেবুর রস আর কাচা হলুদের স্কচ। ঘামের গন্ধে অনুষ্ঠানিক কির্তনের সংযোগ। আমি বিতাড়িত ব্রাহ্মণ।

পোল্ট্রির পেটে মানুষের লাশ

পোল্ট্রির পেটে মানুষের লাশ
বোকা বাক্সে বাজে টেলিফোনের নির্যাস।

হিসেবের খাতা,উপগ্রহে রাত
কুয়াশায় ঢাকা বাদামী সানগ্লাস।

চোখের নীচে কালি,ঠোঁটে উষ্ণতা ডিগবাজি খায়।
মুখেতে,কাঁধেতে ঘাম দৌড়ায়।

রক্ত ঝোল,টু-বিএচকে বাসী মাংস ফ্রিজেতে শুকায়।
তবুও মারামারি,দাম কষাকষি
আমাদের সভ্যতা
আমাদের কাঁদায়।

একটু আধটু নির্জন,শান্ত শিষ্ট জনগন
সুযোগ পেলেই শালা কামড়ে গিলতে চায়।

ফাকা মাঠ,গিলছে পেচ্ছাপ
নোখের ডগায় কালি,
অহংকারের কেচ্ছা…
ছাপায়
ললিপপ চুষে বারান্দায় বসা সৌখিন ইতিহাস।।

ঘুমের কপালে স্বপ্ন ভাঙে
আয়নার কাঁচে ভাঙে প্রত্যয়।

ডিজিটেল সবাই,তুমি আমি
আর ঐ অবৈধ ভ্রূণ সব।
তাই নোনতা গন্ধগুলি যা আছে
তা ফোল্ডারের শীতলতা চায়।

সেনিটাইজেশান…..

আমরা দেখব পলাশ গাছে ঝুলছে কচুরিপানা।
আমরা দেখব শ্মশানঘাটে পুড়ছে জ্বলন্ত রক্ত।
আমরা দেখব মৃত্যু স্বাভাবিক প্রক্রিয়া।
আমরা দেখব উপহারে লাফিং বুদ্ধ হাসে না
হাসছে একটা ব্লেড…
আমরা দেখব প্রতিটা শরীরের ভাজে ভাজে জমে
গেছে চক্রান্ত আকার শিল্প
আমরা দেখব হ্যাঁ বাবু হ্যাঁ আমরাই দেখব
রাস্তার দুধারে ক্ষতবিক্ষত দাঁত,সব ধারালো ছিল ঘন্টা দুয়েক আগেও যা….
আমরা দেখব আর এভাবেই দেখে যাব ঋনাত্মক বিশ্বে ধ্বনিত হওয়া শাসকের মার্চ…
আমরা দেখে যাব স্বাধীন-তা একটা ঐতিহাসিক ধা-র-না
আমরা দেখব এক বা একাধিক বা অগনিত বৃদ্ধ আত্মার চিৎকার।
আমরা দেখব রাষ্ট্র ও ব্যাক্তি একে অপরের সাথে সহবাসে লিপ্ত।
আমরা দেখব কংক্রিট এর থালায় রুটি সাজানো,সাথে দেওয়া হচ্ছে জ্যান্ত কাটা আঙ্গুল
কমপ্লিমেন্টারি…!
আমরা দেখব মুখ ও মুখোশের আড়ালে থাকা সর্বনাশা যন্ত্রের উস্কানিমুলক প্রোলভন..।
আমরা দেখব আর এভাবেই দেখে যাব আকাশ
দেখে যাব শরীরের ভেতর
শিরা উপশিরার কাটাকুটি খেলার রোমাঞ্চ…..!

সভ্যতা সভ্য দের না

আমি যাচ্ছি
আমি যাচ্ছি
একটা বিমান আমার বাড়ির সামনে দাঁড়িয়ে
অর্ধ আকাশ পাঁচিলের গায়ে আটকে
আমি জানি না আমি কোন সমাজের
কারন আমার জন্মও ওই আপেল খাওয়ার রীতি তেই।ধারাভাষ্য বলার কেউ নেই। এই ফারাক!.
আমার খোলা জানালার পার ঘেষে
প্রতিবাদের প্রাতিষ্ঠানিক চুমু চুমু খেলা হচ্ছে।
স্বাধীনতার চকলেট অনেকটা বিস্কুট দৌড় এর মতই।।
দেশাত্মবোধ ধরেছে মিছিল
মিশে গেছে লাঠি,কাঁচি,পাথর
সাথে একটা গোলাপ নিল
একটু ইতস্ততভাবেই!
আমাদের জানালা সচেতন ভাবে বন্ধ
রোদ আসার জন্য ভেন্টিলেটর এর ভেন্টলেশান যথেষ্ট।

আজ বিতর্ক সভার বিষয়
পতাকার রং?
আবার হঠাৎ পাল্টে গিয়ে হয়ে গেল
যারা রঙ মেখেছেন তারা উপবীত কি – না!

ঈশ্বরের জন্মদিন পালন হচ্ছে, কয়েকজন
কবি যারা খবরের সাপ্তাহিক কাগজে রোদ মাখতেন
এনারা আজ মাদুলি হাতে ধম্ম ধম্ম খেলছেন!

প্রকাশক এর নামে অভিযোগ গুলি খুব মারাত্মক
সেই গুলি ওই লালিত কবিরা ছিড়ে ফেলে দিল
সুনীল আবার এগুলিকে লিপিবদ্ধ করে আত্মহত্যা করল

কবি= লালিত সত্ত্বা, শালা এরা বাঞ্চৎ এই কথাটা সুনীল বলতে পারে নি!
কিন্তু দগদগে রক্ত বলেছে, যে খাটের
চাদর গায়ে শরীরের উষ্ণতা মাখতে যেত,সেই ঘরের দেওয়ালে লেখা আছে ‘ওরা খুনি’!
দুটো খুন হল। কিন্তু পত্রিকার সম্পাদকের ভাষায় দুটোই আত্মহত্যা।। শালা সভ্যতা সভ্য দের না।।
বাল ছিড়ে বিশ্লেষণ করবে বুদ্ধিজীব!
এদের পচা রক্ত আজ হলুদের এন্টিসেপ্টিক পিলে শিথিল
এরা কান বন্ধ করে ক্ষমতার পায়ে লালা মাখছে।

১ মিনিটের নীরবতা

১ মিনিটের নীরবতা তাদের বিবর্ণ অস্থির পাকস্থালী পর্যন্ত গিয়ে পৌঁছায় না।
স্বরবর্ণ ব্যাঞ্জণবর্ণের কার্যনির্বাহী সমাস
পোড়া ছাই দিয়ে তারা গলধকরন করতে পারে না।
গাছের ঝরা পাতা,রোমান্টিসিজমের যৌন আকর্ষণ তাদের নেগেটিভ।
থুতুমাখা ফুটপাতের শরীরজুড়ে তাদের শীত নামে,নামে ঘাম,নামে কান্না আসে হাসি।
“তাদের” নামধারী চরিত্রেরা উপকরণ মাত্র
বছর পর বছরের শাসনের।
নেই কোন ছাপ,নেই কোন ইতিহাস,নেই কোন
ভবিষ্যৎ, আছে
তবে তা ঐ ধোঁয়া উঠা বর্তমান শুধু।
নিশ্চয় বলে কিছু হয় না।
নাগরিকত্বের প্রত্যয়িত পত্র উষ্ণ দুধের বাষ্পে ঝাপ দেয়।
কিছুটা নিরাকার বা নির্লোম আকারের সেন্টিমেন্টাল ভগবান ঐ দুধের অংশ চান না। মেদহীন।
আমাদের মানে তথাকথিত অধিকারের নিরীক্ষণ যারা করি আমরা পোড়া মুরগীর শুকনো রক্তে “কেয়া বাত্ কেয়া বাত্” এর বিশেষণে সন্তুষ্ট।
গাদা ফুলে সৌখিনতাকেই প্রাধান্য দেই।
ধ্বংস ক্রিয়াতেও আগুন জ্বলে না।
কিন্ত নিয়ম করে মাঝে মাঝে পাদের গন্ধেও প্রতিবাদ জন্মায়।।

মন্তব্য করুন